সবলের পরিচয় আত্মপ্রসারে আর দুর্বলের স্বস্তি আত্মগােপনে ভাব সম্প্রসারণ | সবলের পরিচয় আত্মপ্রসারে আর দুর্বলের স্বস্তি আত্মগােপনে | ভাবসম্প্রসারণ

সবলের পরিচয় আত্মপ্রসারে আর দুর্বলের স্বস্তি আত্মগােপনে ভাব সম্প্রসারণ | সবলের পরিচয় আত্মপ্রসারে আর দুর্বলের স্বস্তি আত্মগােপনে | ভাবসম্প্রসারণ

 সবলের পরিচয় আত্মপ্রসারে আর দুর্বলের স্বস্তি আত্মগােপনে 

সবলের পরিচয় আত্মপ্রসারে আর দুর্বলের স্বস্তি আত্মগােপনে ভাব সম্প্রসারণ | সবলের পরিচয় আত্মপ্রসারে আর দুর্বলের স্বস্তি আত্মগােপনে | ভাবসম্প্রসারণ

ভাব - সম্প্রসারণ : মানবজীবন কণ্টকাকীর্ণ । চলার পথ ফুলে ফুলে আস্তীর্ণ নয় ; বরং তা উপল বিছানাে । সে পথে চলতে হবে আত্মপ্রত্যয় নিয়ে যে অপরাগতার দোহাই দেয় সে বস্তুত জীবন থেকে আত্মগােপন করে । মানবজীবনের প্রতি পদে রয়েছে বাধা । এ বাধা অতিক্রম করার চেষ্টা এবং অতিক্রম করার নামই সংগ্রাম । মনােবিজ্ঞানী ফ্রয়েড বলেছেন , “ মানব জীবনের দুটি দিক , একটি হচ্ছে মানুষ স্বভাবতই ভােগবাদী , অপরটি হচ্ছে মানুষ স্বভাবতই অস্তিবাদী । ” এই অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামই হলাে জীবনসংগ্রাম । যারা মনে এবং দেহে সবল , যারা আত্মপ্রত্যয়ী , আত্মপ্রতিষ্ঠায় চড়েছে হিমালয় পর্বতে , পাড়ি দিয়েছে মহাসাগর , হাত বাড়িয়েছে মহাশূন্যে তারাইতাে প্রকৃত সংগ্রামী । জমি কর্ষণ আর অন্ধকার অভ্যন্তরের কয়লা খনি থেকে শুরু করে পারমাণবিক চুল্লিতে যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম তারাই মানুষ , তারাই সংগ্রামী যিনি সবল তিনি আত্মপ্রকাশ করেন তার এই সংগ্রাম দিয়ে । আর যারা দুর্বল , ভীরু , কাপুরুষ তারা থাকে আত্মগােপন করে । তারা সংগ্রামের পথ বেছে নিতে ভয় পায় , পৃথিবীর যেকোনাে বাধাই তাদের কাছে বিভীষিকাময় । তারা তাদের অস্তিত্ব রক্ষার্থেও ভিতু । যে কারণে তাদের সাফল্য জীবন থেকে দূরে সরে যায় । এ জগতে জীবনসংগ্রামের রণতূর্য বাজিয়ে যারা আপন ভাগ্যকে নিজের আয়ত্তে অধিকার করেছেন তারা আজ সকলের কাছে বরেণ্য । উদাহরণ হিসেবে যাদের নাম করা যায় তাঁরা হলেন— কাজী নজরুল ইসলাম , নেতাজি সুভাষ বসু , ম্যাক্সিম গাের্কি কামাল আতাতুর্ক প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ । এরকম হাজারাে গুণীর কথা উল্লেখ করা যেতে পারে । যারা আছেন আমাদের অগ্রপথিক হয়ে , আর যার ইতিহাসের পাতায় নেই , তাঁরা আছেন আমাদের হৃদয়ের পাতায় । সাম্যের কবি নজরুল বলেছেন “ গাহি তাহাদের গান ধরণীর হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান । শ্রম - কিণাঙ্ক - কঠিন যাদের নির্দয় মুঠি - তলে এস্তা ধরণী নজরানা দেয় ডালি ভরে ফুলে ফলে । ” পক্ষান্তরে , দুর্বল ব্যক্তি মনে করে আত্মগােপনের মাধ্যমে তার কাঙ্ক্ষিত মুক্তি আসবে ; অথচ তা আসার নয় । কারণ মুক্তি তপস্যার ফল ; তা আপন হাতে ছিনিয়ে আনতে হয় । তাদের ভীরু মানসিকতা তাদের পিছিয়ে রাখে । ফলে তারা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য লাভে ব্যর্থ হয় ; জীবন থেকে পালাতে গিয়ে জীবন থেকে অকালেই ঝরে যায় । সুতরাং মানবজীবন হতে হবে আত্মপ্রত্যয়ী , বলিষ্ঠ , শ্রমােন্মুখ । কঠিন সংগ্রামে যারা জীবনকে মুঠিতলে নিয়ে এগিয়ে যান বীরদর্পে তারা অমর হয়ে এ পৃথিবীতে বেঁচে থাকেন । বেঁচে থাকেন মানুষের হৃদয়ে । বস্তুত মানবজীবন সংগ্রামের জীবন । এ সংগ্রামের মাধ্যমেই সে আত্মপ্রতিষ্ঠা পায় ; নিজের অস্তিত্বকে করে অক্ষয় - অব্যয় । আর জীবন থেকে পালানাের ইচ্ছা যাদের তারা দুর্বল ; তারা ধুকে ধুকে মরে সর্বত্র । অতএব জীবনের প্রত্যয় হতে হবে সংগ্রাম । এই সংগ্রামই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে ।
টাগ: সবলের পরিচয় আত্মপ্রসারে আর দুর্বলের স্বস্তি আত্মগােপনে ভাব সম্প্রসারণ,সবলের পরিচয় আত্মপ্রসারে আর দুর্বলের স্বস্তি আত্মগােপনে, ভাবসম্প্রসারণ

0/Post a Comment/Comments

Previous Post Next Post
আমাদের ফেসবুক পেইজে যুক্ত হতে ক্লিক করুন
chrome-extension://oilhmgfpengfpkkliokdbjjhiikehfoo/img/semstorm-32.png