সূরা নূর বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ | সূরা নূর আয়াত ২৬ ব্যাখ্যা | সূরা নূর আয়াত ৩০ ও ৩৫

 
সূরা নূর বাংলা অর্থসহ, সূরা নূর আয়াত ২৬ ব্যাখ্যা, সূরা নূর আয়াত ৩০, সূরা নূর আয়াত ৩৫, সূরা নূর বাংলা অনুবাদ, সূরা আল নূর বাংলা অনুবাদ।

আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ। আমার দ্বীনী ভাই ও বোনেরা আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়া ও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। প্রিয়  ভাই ও বোনেরা আজ আমি আপনাদের মাঝে নিয়ে আসলাম:- সূরা নূর বাংলা অর্থসহ, সূরা নূর আয়াত ২৬ ব্যাখ্যা, সূরা নূর আয়াত ৩০, সূরা নূর আয়াত ৩৫, সূরা নূর বাংলা অনুবাদ, সূরা আল নূর বাংলা অনুবাদ।তো দেরি না করে আসুন আমরা পড়া শুরু করি।

সূরা নূর বাংলা অর্থসহ|সূরা নূর বাংলা অনুবাদ|সূরা আল নূর বাংলা অনুবাদ 


بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)।


سُورَةٌ أَنزَلۡنَـٰهَا وَفَرَضۡنَـٰهَا وَأَنزَلۡنَا فِيہَآ ءَايَـٰتِۭ بَيِّنَـٰتٍ۬ لَّعَلَّكُمۡ تَذَكَّرُونَ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.১) সূরাতুন্ আন্যাল্না-হা-অ ফারদ্ব্না-হা-অ আন্যাল্না-ফীহা য়আ-ইয়া-তিম্ বাইয়্যিনা-তিল্ লা‘আল্লাকুম্ তাযাক্কারূন্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.১) এটি একটি সূরা, যা আমি নাযিল করেছি এবং এটাকে অবশ্য পালনীয় করেছি। আর আমি এতে সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করেছি, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।


ٱلزَّانِيَةُ وَٱلزَّانِى فَٱجۡلِدُواْ كُلَّ وَٲحِدٍ۬ مِّنۡہُمَا مِاْئَةَ جَلۡدَةٍ۬‌ۖ وَلَا تَأۡخُذۡكُم بِہِمَا رَأۡفَةٌ۬ فِى دِينِ ٱللَّهِ إِن كُنتُمۡ تُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأَخِرِ‌ۖ وَلۡيَشۡہَدۡ عَذَابَہُمَا طَآٮِٕفَةٌ۬ مِّنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.২) আয্যা-নিয়াতু অয্যা-নী ফাজুলিদূ কুল্লা অ-হিদিম্ মিন্হুমা-মিয়াতা জ্বাল্দাতিঁও অলা-তাখুয্কুম্ বিহিমা-রফাতুন্ ফীদীনিল্লা-হি ইন্ কুন্তুম্ তুমিনূনা বিল্লা-হি অল্ইয়াওমিল্ আ-খিরি অল্ ইয়াশ্হাদ্ ‘আযা-বা হুমা-ত্বোয়া-য়িফাতুম্ মিনাল্ মুমিনীন্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.২) ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী তাদের প্রত্যেককে একশ’টি করে বেত্রাঘাত কর। আর যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনে থাক তবে আল্লাহর দীনের ব্যাপারে তাদের প্রতি দয়া যেন তোমাদেরকে পেয়ে না বসে। আর মুমিনদের একটি দল যেন তাদের আযাব প্রত্যক্ষ করে।


ٱلزَّانِى لَا يَنكِحُ إِلَّا زَانِيَةً أَوۡ مُشۡرِكَةً۬ وَٱلزَّانِيَةُ لَا يَنكِحُهَآ إِلَّا زَانٍ أَوۡ مُشۡرِكٌ۬‌ۚ وَحُرِّمَ ذَٲلِكَ عَلَى ٱلۡمُؤۡمِنِينَ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৩) আয্যা-নী লা-ইয়ান্কিহুহা য় ইল্লা-যা-নিয়াতান্ আও মুশ্রিকাতাঁও অয্যা-নিয়াতু লা-ইয়ান্কিহুহা য় ইল্লা-যা-নিন্ আওমুশ্রিকূন্ অর্হুরিমা যা-লিকা ‘আলাল্ মুমিনীন্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৩) ব্যভিচারী কেবল ব্যভিচারিণী অথবা মুশরিক নারীকে ছাড়া বিয়ে করবে না এবং ব্যভিচারিণীকে কেবল ব্যভিচারী অথবা মুশরিক ছাড়া বিয়ে করবে না। আর মুমিনদের উপর এটা হারাম করা হয়েছে।


وَٱلَّذِينَ يَرۡمُونَ ٱلۡمُحۡصَنَـٰتِ ثُمَّ لَمۡ يَأۡتُواْ بِأَرۡبَعَةِ شُہَدَآءَ فَٱجۡلِدُوهُمۡ ثَمَـٰنِينَ جَلۡدَةً۬ وَلَا تَقۡبَلُواْ لَهُمۡ شَہَـٰدَةً أَبَدً۬ا‌ۚ وَأُوْلَـٰٓٮِٕكَ هُمُ ٱلۡفَـٰسِقُونَ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৪) অল্লাযীনা ইর্য়ামূনাল্ মুহ্ছোয়ানা-তি ছুম্মা লাম্ ইয়া’তূ বির্আবা‘আতি শুহাদা-য়া ফাজলিদূহুম্ ছামা-নীনা জ্বাল্দাতাঁও অলা তাকবালূ লাহুম্ শাহা-দাতান্ আবাদান্ অ উলা-য়িকা হুমুল্ ফা- সিকুন্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৪) আর যারা সচ্চরিত্র নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারপর তারা চারজন সাক্ষী নিয়ে আসে না, তবে তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত কর এবং তোমরা কখনই তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করো না। আর এরাই হলো ফাসিক।


إِلَّا ٱلَّذِينَ تَابُواْ مِنۢ بَعۡدِ ذَٲلِكَ وَأَصۡلَحُواْ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ۬ رَّحِيمٌ۬ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৫) ইল্লাল লাযীনা তা-বূ মিম্ বা’দি যা-লিকা অআছ্লাহূ ফা ইন্নাল্লা-হা গফূর্রু রহীম্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৫) তবে যারা এরপরে তাওবা করে এবং নিজদের সংশোধন করে, তাহলে নিশ্চয় আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।


وَٱلَّذِينَ يَرۡمُونَ أَزۡوَٲجَهُمۡ وَلَمۡ يَكُن لَّهُمۡ شُہَدَآءُ إِلَّآ أَنفُسُهُمۡ فَشَهَـٰدَةُ أَحَدِهِمۡ أَرۡبَعُ شَہَـٰدَٲتِۭ بِٱللَّهِ‌ۙ إِنَّهُ ۥ لَمِنَ ٱلصَّـٰدِقِينَ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৬) অল্লাযীনা ইর্য়ামূনা আয্ওয়া-জ্বাহুম্ অলাম্ ইয়াকুল্লাহুম্ শুহাদা-য়ু ইল্লা য় আন্ফুসুহুম্ ফাশাহা-দাতু আহাদিহিম্ র্আবা‘উ শাহা-দা-তিম্ বিল্লা-হি ইন্নাহূ লামিনাছ্ ছোয়া-দ্বিকীন্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৬) আর যারা নিজদের স্ত্রীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে, অথচ নিজেরা ছাড়া তাদের আর কোন সাক্ষী নেই, তাহলে তাদের প্রত্যেকের সাক্ষ্য হবে আল্লাহর নামে চারবার সাক্ষ্য দেবে যে, সে নিশ্চয়ই সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।


وَٱلۡخَـٰمِسَةُ أَنَّ لَعۡنَتَ ٱللَّهِ عَلَيۡهِ إِن كَانَ مِنَ ٱلۡكَـٰذِبِينَ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৭) অল্খ-মিসাতু আন্না লা’নাত ল্লা-হি ‘আলাইহি ইন্ কা-না মিনাল্ কা-যিবীন্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৭) আর পঞ্চমবারে সাক্ষ্য দেবে যে, সে যদি মিথ্যাবাদী হয়, তবে নিশ্চয় তার উপর আল্লাহর লা‘নত।


وَيَدۡرَؤُاْ عَنۡہَا ٱلۡعَذَابَ أَن تَشۡہَدَ أَرۡبَعَ شَہَـٰدَٲتِۭ بِٱللَّهِ‌ۙ إِنَّهُ ۥ لَمِنَ ٱلۡكَـٰذِبِينَ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৮) অ ইয়াদ্রায়ু ‘আন্হাল্ ‘আযা-বা আন্ তাশ্হাদা র্আবা‘আ শাহা-দা-তিম্ বিল্লা-হি ইন্নাহূ লামিনাল্ কা-যিবীন্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৮) আর তারা স্ত্রীলোকটি থেকে শাস্তি রহিত করবে, যদি সে আল্লাহর নামে চারবার সাক্ষ্য দেয় যে, নিশ্চয় তার স্বামী মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।


وَٱلۡخَـٰمِسَةَ أَنَّ غَضَبَ ٱللَّهِ عَلَيۡہَآ إِن كَانَ مِنَ ٱلصَّـٰدِقِينَ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৯) অল্ খ-মিসাতা আন্না গদ্বোয়াবাল্লা-হি ‘আলাইহা য় ইন্ কা-না মিনাছ্ ছোয়া-দিক্বীন্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৯) আর পঞ্চমবারে সাক্ষ্য দেবে যে, যদি তার স্বামী সত্যবাদী হয়, তবে নিশ্চয় তার উপর আল্লাহর গযব।


وَلَوۡلَا فَضۡلُ ٱللَّهِ عَلَيۡكُمۡ وَرَحۡمَتُهُ ۥ وَأَنَّ ٱللَّهَ تَوَّابٌ حَڪِيمٌ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.১০) অলাওলা- ফাদ্ব্লুল্লা-হি ‘আলাইকুম্ অরহ্মাতুহূ অআন্নাল্লা-হা তাউওয়া-বুন্ হাকীম্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.১০) যদি তোমাদের উপর আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়া না থাকত, (তাহলে তোমরা ধ্বংস হয়ে যেতে) আর নিশ্চয় আল্লাহ অধিক তাওবা গ্রহণকারী, প্রজ্ঞাময়।


إِنَّ ٱلَّذِينَ جَآءُو بِٱلۡإِفۡكِ عُصۡبَةٌ۬ مِّنكُمۡ‌ۚ لَا تَحۡسَبُوهُ شَرًّ۬ا لَّكُم‌ۖ بَلۡ هُوَ خَيۡرٌ۬ لَّكُمۡ‌ۚ لِكُلِّ ٱمۡرِىٍٕ۬ مِّنۡہُم مَّا ٱكۡتَسَبَ مِنَ ٱلۡإِثۡمِ‌ۚ وَٱلَّذِى تَوَلَّىٰ كِبۡرَهُ ۥ مِنۡہُمۡ لَهُ ۥ عَذَابٌ عَظِيمٌ۬ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.১১) ইন্না ল্লাযীনা জ্বা-য়ূ বিল্ইফ্কি উছ্বাতুম্ মিন্কুম্; লা-তাহ্সাবূহু র্শারাল্লাকুম্; বাল্ হুঅ খইরুল্লাকুম্; লিকুল্ লিম্ রিয়িম্ মিন্হুম্ মাক্তাসাবা মিনাল্ ইছ্মি অল্লাযী তাওয়াল্লা-কিব্রাহূ মিন্হুম্ লাহূ ‘আযা-বুন্ ‘আজীম্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.১১) নিশ্চয় যারা এ অপবাদ রটনা করেছে, তারা তোমাদেরই একটি দল। এটাকে তোমরা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর মনে করো না, বরং এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। তাদের থেকে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য রয়েছে, যতটুকু পাপ সে অর্জন করেছে। আর তাদের থেকে যে ব্যক্তি এ ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে, তার জন্য রয়েছে মহাআযাব।


لَّوۡلَآ إِذۡ سَمِعۡتُمُوهُ ظَنَّ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ وَٱلۡمُؤۡمِنَـٰتُ بِأَنفُسِہِمۡ خَيۡرً۬ا وَقَالُواْ هَـٰذَآ إِفۡكٌ۬ مُّبِينٌ۬ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.১২) লাওলা য় ইয্ সামি’তুমূহু জোয়ান্নাল্ মুমিনূনা অল্ মুমিনা-তু বি আন্ফুসিহিম্ খইরঁও অ ক্ব-লূ হা-যা য় ইফ্কুম্ মুবীন্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.১২) যখন তোমরা এটা শুনলে, তখন কেন মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা তাদের নিজদের সম্পর্কে ভাল ধারণা পোষণ করল না এবং বলল না যে, ‘এটাতো সুস্পষ্ট অপবাদ’?


لَّوۡلَا جَآءُو عَلَيۡهِ بِأَرۡبَعَةِ شُہَدَآءَ‌ۚ فَإِذۡ لَمۡ يَأۡتُواْ بِٱلشُّہَدَآءِ فَأُوْلَـٰٓٮِٕكَ عِندَ ٱللَّهِ هُمُ ٱلۡكَـٰذِبُونَ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.১৩) লাওলা জ্বা-য়ূ ‘আলাইহি বির্আবা‘আতি শুহাদা-য়া ফাইয্ লাম্ ইয়াতূ বিশ্শুহাদা-য়ি ফাউলা-য়িকা ‘ইন্দাল্লা-হি হুমুল্ কা-যিবূন্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.১৩) তারা কেন এ ব্যাপারে চারজন সাক্ষী নিয়ে আসল না? সুতরাং যখন তারা সাক্ষী নিয়ে আসেনি, তখন তারাই আল্লাহর কাছে মিথ্যাবাদী।


وَلَوۡلَا فَضۡلُ ٱللَّهِ عَلَيۡكُمۡ وَرَحۡمَتُهُ ۥ فِى ٱلدُّنۡيَا وَٱلۡأَخِرَةِ لَمَسَّكُمۡ فِى مَآ أَفَضۡتُمۡ فِيهِ عَذَابٌ عَظِيمٌ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.১৪) অলাওলা-ফাদ্ব্লুল্লা-হি ‘আলাইকুম্ অ রহ্মাতুহূ ফিদ্দুন্ইয়া-অল্ আ-খিরাতি লামাস্সাকুম্ ফীমা য় আফাদ্ব্তুম্ ফীহি ‘আযা-বুন্ ‘আজীম্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.১৪) আর যদি দুনিয়া ও আখেরাতে তোমাদের উপর আল্লাহর দয়া ও তাঁর অনুগ্রহ না থাকত, তবে তোমরা যাতে লিপ্ত ছিলে, তার জন্য তোমাদেরকে অবশ্যই কঠিন আযাব স্পর্শ করত।


إِذۡ تَلَقَّوۡنَهُ ۥ بِأَلۡسِنَتِكُمۡ وَتَقُولُونَ بِأَفۡوَاهِكُم مَّا لَيۡسَ لَكُم بِهِۦ عِلۡمٌ۬ وَتَحۡسَبُونَهُ ۥ هَيِّنً۬ا وَهُوَ عِندَ ٱللَّهِ عَظِيمٌ۬ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.১৫) ইয্ তালাকক্বও নাহূ বিআল্সিনাতিকুম্ অতাকু লূনা বিআফ্ওয়া-হিকুম্ মা-লাইসা লাকুম্ বিহী ই’ল্মুঁও অ তাহ্সাবূনাহূ হাইয়িনাঁও অহুওয়া ‘ইন্দাল্লা-হি ‘আজীম্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.১৫) যখন এটা তোমরা তোমাদের মুখে মুখে ছড়াচ্ছিলে এবং তোমরা তোমাদের মুখ দিয়ে এমন কথা বলছিলে, যাতে তোমাদের কোন জ্ঞান ছিল না; আর তোমরা এটাকে খুবই তুচ্ছ মনে করছিলে, অথচ এটা আল্লাহর নিকট খুবই গুরুতর।


وَلَوۡلَآ إِذۡ سَمِعۡتُمُوهُ قُلۡتُم مَّا يَكُونُ لَنَآ أَن نَّتَڪَلَّمَ بِہَـٰذَا سُبۡحَـٰنَكَ هَـٰذَا بُہۡتَـٰنٌ عَظِيمٌ۬

আরবি উচ্চারণ

২৪.১৬) অ লাওলা য় ইয্ সামি’তুমূহু কুল্তুম্ মা-ইয়াকূনু লানা য় আন্না তাকাল্লামা বিহা-যা- সুব্হা-নাকা হাযা- বুহ্তা- নুন্ ‘আজীম্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.১৬) আর তোমরা যখন এটা শুনলে, তখন তোমরা কেন বললে না যে, ‘এ নিয়ে কথা বলা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তুমি অতি পবিত্র মহান, এটা এক গুরুতর অপবাদ’।


يَعِظُكُمُ ٱللَّهُ أَن تَعُودُواْ لِمِثۡلِهِۦۤ أَبَدًا إِن كُنتُم مُّؤۡمِنِينَ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.১৭) ইয়া‘ইজুকুমুল্লা-হু আন্ তা‘ঊদূ লিমিছ্লিহী য় আবাদান্ ইন্ কুন্তুম্ মুমিনীন্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.১৭) আল্লাহ তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন যে, যদি তোমরা মুমিন হও, তাহলে আর কখনো এর পুনরাবৃত্তি করবে না।


وَيُبَيِّنُ ٱللَّهُ لَكُمُ ٱلۡأَيَـٰتِ‌ۚ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.১৮) অ ইয়ুবাইয়্যিনুল্লা-হু লাকুমুল্ আ-ইয়া-ত্; অল্লা-হু ‘আলীমুন্ হাকীম্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.১৮) আর আল্লাহ তোমাদের জন্য আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করছেন এবং আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।


إِنَّ ٱلَّذِينَ يُحِبُّونَ أَن تَشِيعَ ٱلۡفَـٰحِشَةُ فِى ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَهُمۡ عَذَابٌ أَلِيمٌ۬ فِى ٱلدُّنۡيَا وَٱلۡأَخِرَةِ‌ۚ وَٱللَّهُ يَعۡلَمُ وَأَنتُمۡ لَا تَعۡلَمُونَ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.১৯) ইন্নাল্লাযীনা ইয়ুহিবুনা আন্ তাশী‘আল্ ফা-হিশাতু ফিল্লাযীনা আ-মানূ লাহুম্ ‘আযা-বুন্ আলীমুন্ ফিদ্দুন্ইয়া-অল্ আ-খিরা-হ; অল্লা-হু ইয়া’লামু অ আন্তুম্ লা-তা’লামূন্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.১৯) নিশ্চয় যারা এটা পছন্দ করে যে, মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়–ক, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব। আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।


وَلَوۡلَا فَضۡلُ ٱللَّهِ عَلَيۡڪُمۡ وَرَحۡمَتُهُ ۥ وَأَنَّ ٱللَّهَ رَءُوفٌ۬ رَّحِيمٌ۬ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.২০) অলাওলা-ফাদ্ব্লু ল্লা-হি ‘আলাইকুম্ অরহ্মাতুহূ অআন্নাল্লা-হা রায়ূর্ফু রহীম্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.২০) আর যদি তোমাদের উপর আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়া না থাকত, (তাহলে তোমরা ধ্বংস হয়ে যেতে) আর নিশ্চয় আল্লাহ বড় মেহেরবান, পরম দয়ালু।


 يَـٰٓأَيُّہَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَتَّبِعُواْ خُطُوَٲتِ ٱلشَّيۡطَـٰنِ‌ۚ وَمَن يَتَّبِعۡ خُطُوَٲتِ ٱلشَّيۡطَـٰنِ فَإِنَّهُ ۥ يَأۡمُرُ بِٱلۡفَحۡشَآءِ وَٱلۡمُنكَرِ‌ۚ وَلَوۡلَا فَضۡلُ ٱللَّهِ عَلَيۡكُمۡ وَرَحۡمَتُهُ ۥ مَا زَكَىٰ مِنكُم مِّنۡ أَحَدٍ أَبَدً۬ا وَلَـٰكِنَّ ٱللَّهَ يُزَكِّى مَن يَشَآءُ‌ۗ وَٱللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ۬ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.২১) ইয়া য় আইয়্যুহা ল্লাযীনা আ-মানূ লা-তাত্তাবিঊ’ খুতুওয়া-তিশ্ শাইত্বোয়া-ন্; অমাইঁ ইয়াত্তাবি’ খুতুওয়া-তিশ্ শাইত্বোয়া-নি ফাইন্নাহূ ইয়ামুরু বিলফাহ্শা-য়ি অল্মুর্ন্কা; অ লাওলা-ফাদ্ব্লু ল্লা-হি ‘আলাইকুম্ অ রহ্মাতুহূ মা-যাকা- মিন্কুম্ মিন্ আহাদিন্ আবাদাঁও অলা-কিন্নাল্লা-হা ইয়ুযাক্কী মাইঁ ইয়াশা-য়্; অল্লা-হু সামী‘ঊন্ ‘আলীম্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.২১) হে মুমিনগণ, তোমরা শয়তানের পদাঙ্কসমূহ অনুসরণ করো না। আর যে শয়তানের পদাঙ্কসমূহ অনুসরণ করবে, নিশ্চয় সে অশ্লীলতা ও মন্দ কাজের নির্দেশ দেবে। আর যদি তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়া না থাকত, তাহলে তোমাদের কেউই কখনো পবিত্র হতে পারত না; কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন, পবিত্র করেন। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী।


وَلَا يَأۡتَلِ أُوْلُواْ ٱلۡفَضۡلِ مِنكُمۡ وَٱلسَّعَةِ أَن يُؤۡتُوٓاْ أُوْلِى ٱلۡقُرۡبَىٰ وَٱلۡمَسَـٰكِينَ وَٱلۡمُهَـٰجِرِينَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ‌ۖ وَلۡيَعۡفُواْ وَلۡيَصۡفَحُوٓاْ‌ۗ أَلَا تُحِبُّونَ أَن يَغۡفِرَ ٱللَّهُ لَكُمۡ‌ۗ وَٱللَّهُ غَفُورٌ۬ رَّحِيمٌ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.২২) অলা-ইয়াতালি উলুল্ ফাদ্ব্লি মিন্কুম্ অস্সা‘আতি আই ইয়ুতূ য় উলিল ক্বর্ ুবা-অল্ মাসাকীনা অল্ মুহা-জ্বিরীনা ফী সাবীলিল্লা-হি অল্ ইয়া’ফূ অল্ ইয়াছ্ফাহূ; আলা-তুহিবুনা আইঁ ইয়াগ্ফিরল্লা-হু লাকুম্; অল্লা-হু গফূর্রু রহীম্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.২২) আর তোমাদের মধ্যে যারা মর্যাদা ও প্রাচুর্যের অধিকারী, তারা যেন এমন কসম না করে যে, তারা নিকটাত্মীয়দের, মিসকীনদের ও আল্লাহর পথে হিজরতকারীদের কিছুই দেবে না। আর তারা যেন তাদের ক্ষমা করে এবং তাদের দোষত্র“টি উপেক্ষা করে। তোমরা কি পছন্দ কর না যে, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দেন? আর আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।


إِنَّ ٱلَّذِينَ يَرۡمُونَ ٱلۡمُحۡصَنَـٰتِ ٱلۡغَـٰفِلَـٰتِ ٱلۡمُؤۡمِنَـٰتِ لُعِنُواْ فِى ٱلدُّنۡيَا وَٱلۡأَخِرَةِ وَلَهُمۡ عَذَابٌ عَظِيمٌ۬ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.২৩) ইন্নাল্লাযীনা ইর্য়ামূনাল্ মুহ্ছোয়ানা-তিল্ গ-ফিলা-তিল্ মুমিনাতি লু‘ইনূ ফিদ্দুন্ইয়া- অল্ আ-খিরতি অলাহুম্ ‘আযা-বুন্ ‘আজীম্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.২৩) যারা সচ্চরিত্রা সরলমনা মুমিন নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারা দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত। আর তাদের জন্য রয়েছে মহাআযাব।


يَوۡمَ تَشۡہَدُ عَلَيۡہِمۡ أَلۡسِنَتُهُمۡ وَأَيۡدِيہِمۡ وَأَرۡجُلُهُم بِمَا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.২৪) ইয়াওমা তাশ্হাদু ‘আলাইহিম্ আল্সিনাতুহুম্ অআইদীহিম্ অর্আজুলুহুম্ বিমা-কানূ ইয়া’মালূন্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.২৪) যেদিন তাদের জিহ্বাগুলো, তাদের হাতগুলো ও তাদের পাগুলো তারা যা করত, সে ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে।


يَوۡمَٮِٕذٍ۬ يُوَفِّيہِمُ ٱللَّهُ دِينَهُمُ ٱلۡحَقَّ وَيَعۡلَمُونَ أَنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلۡحَقُّ ٱلۡمُبِينُ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.২৫) ইয়াওমায়িযিইঁ ইয়ুওয়াফ্ফী হিমু ল্লা-হু দীনাহুমুল্ হাকক্ব অ ইয়া’লামূনা আন্নাল্লা-হা হুওয়াল্ হাককুল্ মুবীন্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.২৫) সেদিন আল্লাহ তাদেরকে তাদের ন্যায্য প্রতিদান পুরোপুরি দিয়ে দেবেন, আর তারা জানবে যে, আল্লাহই সুস্পষ্ট সত্য।


ٱلۡخَبِيثَـٰتُ لِلۡخَبِيثِينَ وَٱلۡخَبِيثُونَ لِلۡخَبِيثَـٰتِ‌ۖ وَٱلطَّيِّبَـٰتُ لِلطَّيِّبِينَ وَٱلطَّيِّبُونَ لِلطَّيِّبَـٰتِ‌ۚ أُوْلَـٰٓٮِٕكَ مُبَرَّءُونَ مِمَّا يَقُولُونَ‌ۖ لَهُم مَّغۡفِرَةٌ۬ وَرِزۡقٌ۬ ڪَرِيمٌ۬ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.২৬) আল্ খবীছা-তু লিল্খবীছীনা অল্ খবীছূনা লিল্ খবীছা-তি অত্ত্বোয়াইয়্যিবা-তু লিত্ত্বোয়াইয়্যিবীনা অত্ত্বোয়াইয়্যিবূনা লিত্ত্বোয়াইয়্যিবা-তি উলা-য়িকা মুর্বারায়ূনা মিম্মা-ইয়াকু লূন্; লাহুম্ মাগ্ফিরাতুঁও অরিয্কুন্ কারীম্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.২৬) দুশ্চরিত্রা নারীরা দুশ্চরিত্র পুরুষদের জন্য এবং দুশ্চরিত্র পুরুষরা দুশ্চরিত্রা নারীদের জন্য। আর সচ্চরিত্রা নারীরা সচ্চরিত্র পুরুষদের জন্য এবং সচ্চরিত্র পুরুষরা সচ্চরিত্রা নারীদের জন্য; লোকেরা যা বলে, তারা তা থেকে মুক্ত। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিয্ক।


يَـٰٓأَيُّہَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَدۡخُلُواْ بُيُوتًا غَيۡرَ بُيُوتِڪُمۡ حَتَّىٰ تَسۡتَأۡنِسُواْ وَتُسَلِّمُواْ عَلَىٰٓ أَهۡلِهَا‌ۚ ذَٲلِكُمۡ خَيۡرٌ۬ لَّكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَذَكَّرُونَ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.২৭) ইয়া য় আইয়্যু হাল্লাযীনা আ-মানূ লা-তাদ্খুলূ বুইয়ূতান্ গইরা বুইয়ূতিকুম্ হাত্তা-তাস্তানিসূ অতুসাল্লিমূ ‘আলা য় আহ্লিহা-; যা-লিকুম্ খইরুল্লাকুম, লা‘আল্লাকুম্ তাযাক্কারূন্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.২৭) হে মুমিনগণ, তোমরা নিজদের গৃহ ছাড়া অন্য কারও গৃহে প্রশে করো না, যতক্ষণ না তোমরা অনুমতি নেবে এবং গৃহবাসীদেরকে সালাম দেবে। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।


فَإِن لَّمۡ تَجِدُواْ فِيهَآ أَحَدً۬ا فَلَا تَدۡخُلُوهَا حَتَّىٰ يُؤۡذَنَ لَكُمۡ‌ۖ وَإِن قِيلَ لَكُمُ ٱرۡجِعُواْ فَٱرۡجِعُواْ‌ۖ هُوَ أَزۡكَىٰ لَكُمۡ‌ۚ وَٱللَّهُ بِمَا تَعۡمَلُونَ عَلِيمٌ۬ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.২৮) ফাইল্লাম্ তাজ্বিদূ ফীহা য় আহ্দান্ ফালা-তাদ্খুলূহা-হাত্তা-ইয়ূ যানা লাকুম্ অইন্ ক্বীলা লাকুর্মুজ্বি‘ঊ র্ফাজ্বি‘ঊ হুঅ আয্কা-লাকুম্ অল্লা-হু বিমা-তা’মালূনা ‘আলীম্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.২৮) অতঃপর যদি তোমরা সেখানে কাউকে না পাও তাহলে তোমাদেরকে অনুমতি না দেয়া পর্যন্ত তোমরা সেখানে প্রবেশ করো না। আর যদি তোমাদেরকে বলা হয়, ‘ফিরে যাও’ তাহলে ফিরে যাবে। এটাই তোমাদের জন্য অধিক পবিত্র। তোমরা যা কর আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবগত।


لَّيۡسَ عَلَيۡكُمۡ جُنَاحٌ أَن تَدۡخُلُواْ بُيُوتًا غَيۡرَ مَسۡكُونَةٍ۬ فِيہَا مَتَـٰعٌ۬ لَّكُمۡ‌ۚ وَٱللَّهُ يَعۡلَمُ مَا تُبۡدُونَ وَمَا تَكۡتُمُونَ

আরবি উচ্চারণ

২৪.২৯) লাইসা ‘আলাইকুম্ জুনা-হুন্ আন্ তাদ্খুলূ বুইয়ূতান্ গইর মাস্কূনাতিন্ ফীহা-মাতা-‘উল্ লাকুম্; অল্লা-হু ইয়া’লামু মা-তুব্দূনা অমা- তাক্তুমূন্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.২৯) যে ঘরে কেউ বাস করে না, তাতে তোমাদের কোন ভোগসামগ্রী থাকলে, সেখানে তোমাদের প্রবেশে কোন পাপ হবে না। আর আল্লাহ জানেন যা তোমরা প্রকাশ কর আর যা তোমরা গোপন কর।


قُل لِّلۡمُؤۡمِنِينَ يَغُضُّواْ مِنۡ أَبۡصَـٰرِهِمۡ وَيَحۡفَظُواْ فُرُوجَهُمۡ‌ۚ ذَٲلِكَ أَزۡكَىٰ لَهُمۡ‌ۗ إِنَّ ٱللَّهَ خَبِيرُۢ بِمَا يَصۡنَعُونَ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৩০) কুল্ লিল্মুমিনীনা ইয়াগুদ্ব্দ্বূ মিন্ আব্ছোয়া-রিহিম্ অইয়াহ্ফাজূ ফুরূজ্বাহুম্ যা- লিকা আয্কা-লাহুম্ ইন্নাল্লা-হা খবীরুম্ বিমা-ইয়াছ্নাঊ’ন্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৩০) মুমিন পুরুষদেরকে বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করবে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয় তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত।


وَقُل لِّلۡمُؤۡمِنَـٰتِ يَغۡضُضۡنَ مِنۡ أَبۡصَـٰرِهِنَّ وَيَحۡفَظۡنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبۡدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنۡهَا‌ۖ وَلۡيَضۡرِبۡنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِہِنَّ‌ۖ وَلَا يُبۡدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوۡ ءَابَآٮِٕهِنَّ أَوۡ ءَابَآءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوۡ أَبۡنَآٮِٕهِنَّ أَوۡ أَبۡنَآءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوۡ إِخۡوَٲنِهِنَّ أَوۡ بَنِىٓ إِخۡوَٲنِهِنَّ أَوۡ بَنِىٓ أَخَوَٲتِهِنَّ أَوۡ نِسَآٮِٕهِنَّ أَوۡ مَا مَلَكَتۡ أَيۡمَـٰنُهُنَّ أَوِ ٱلتَّـٰبِعِينَ غَيۡرِ أُوْلِى ٱلۡإِرۡبَةِ مِنَ ٱلرِّجَالِ أَوِ ٱلطِّفۡلِ ٱلَّذِينَ لَمۡ يَظۡهَرُواْ عَلَىٰ عَوۡرَٲتِ ٱلنِّسَآءِ‌ۖ وَلَا يَضۡرِبۡنَ بِأَرۡجُلِهِنَّ لِيُعۡلَمَ مَا يُخۡفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ‌ۚ وَتُوبُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৩১) অকুল্ লিল্মুমিনা-তি ইয়াগ্দ্বুদ্ব্না মিন্ আব্ছোয়া- রিহিন্না অইয়াহ্ফাজ্না ফুরূজ্বাহুন্না অলা-ইয়ুব্দীনা যীনাতাহুন্না ইল্লা-মা- জোয়াহারা মিন্হা-অল্ইয়াদ্ব্রিব্না বিখুমুরিহিন্না ‘আলা-জুইয়ূবিহিন্না অলা-ইয়ুব্দীনা যীনাতাহুন্না ইল্লা-লিবু‘ঊলাতিহিন্না আও আ-বা-য়ি হিন্না আও আ-বা-য়ি বু‘ঊলাতিহিন্না আও আব্না- য়িহিন্না আও আব্না-য়ি বু‘ঊ লাতিহিন্না আও ইখ্ওয়া-নিহিন্না আও বানীয় ইখ্ওয়ানিহিন্না আও বানী য় আখাওয়া-তিহিন্না আও নিসা-য়িহিন্না আও মা-মালাকাত্ আইমা-নুহুন্না আওয়িত্তা-বি‘ঈনা গইরি উলিল্ র্ইবাতি মির্না রিজ্বা-লি আওয়িত্ত্বিফ্লি ল্লাযীনা লাম্ ইয়াজ্ হারূ ‘আলা-‘আওরা-তিন নিসা-য়ি অলা- ইয়াদ্ব্রিব্না বির্আজুলিহিন্না লিইয়ু’লামা মা-ইয়ুখ্ফীনা মিন্ যীনাতিহিন্না; অতূবূ য় ইলা ল্লা-হি জ্বামী‘আন্ আইইয়ুহাল্ মুমিনূনা লা‘আল্লাকুম্ তুফ্লিহূন্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৩১) আর মুমিন নারীদেরকে বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করবে। আর যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য তারা প্রকাশ করবে না। তারা যেন তাদের ওড়না দিয়ে বক্ষদেশকে আবৃত করে রাখে। আর তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, নিজদের ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাই এর ছেলে, বোনের ছেলে, আপন নারীগণ, তাদের ডান হাত যার মালিক হয়েছে, অধীনস্থ যৌনকামনামুক্ত পুরুষ অথবা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া কারো কাছে নিজদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন নিজদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশ করার জন্য সজোরে পদচারণা না করে। হে মুমিনগণ, তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তাওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।


وَأَنكِحُواْ ٱلۡأَيَـٰمَىٰ مِنكُمۡ وَٱلصَّـٰلِحِينَ مِنۡ عِبَادِكُمۡ وَإِمَآٮِٕڪُمۡ‌ۚ إِن يَكُونُواْ فُقَرَآءَ يُغۡنِهِمُ ٱللَّهُ مِن فَضۡلِهِۦ‌ۗ وَٱللَّهُ وَٲسِعٌ عَلِيمٌ۬ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৩২) অআন্কিহুল্ আইয়া-মা-মিন্কুম্ অছ্ছোয়া-লিহীনা মিন্ ‘ইবা-দিকুম্ অইমা-য়িকুম্; ইঁ ইয়াকূনূ ফুক্বার-য়া ইয়ুগ্নিহিমুল্লা-হু মিন্ ফাদ্ব্লিহ্; অল্লা-হু ওয়া-সি‘উন্ ‘আলীম্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৩২) আর তোমরা তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিত নারী-পুরুষ ও সৎকর্মশীল দাস দাসীদের বিবাহ দাও। তারা অভাবী হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও মহাজ্ঞানী।


وَلۡيَسۡتَعۡفِفِ ٱلَّذِينَ لَا يَجِدُونَ نِكَاحًا حَتَّىٰ يُغۡنِيَہُمُ ٱللَّهُ مِن فَضۡلِهِۦ‌ۗ وَٱلَّذِينَ يَبۡتَغُونَ ٱلۡكِتَـٰبَ مِمَّا مَلَكَتۡ أَيۡمَـٰنُكُمۡ فَكَاتِبُوهُمۡ إِنۡ عَلِمۡتُمۡ فِيہِمۡ خَيۡرً۬ا‌ۖ وَءَاتُوهُم مِّن مَّالِ ٱللَّهِ ٱلَّذِىٓ ءَاتَٮٰكُمۡ‌ۚ وَلَا تُكۡرِهُواْ فَتَيَـٰتِكُمۡ عَلَى ٱلۡبِغَآءِ إِنۡ أَرَدۡنَ تَحَصُّنً۬ا لِّتَبۡتَغُواْ عَرَضَ ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَا‌ۚ وَمَن يُكۡرِههُّنَّ فَإِنَّ ٱللَّهَ مِنۢ بَعۡدِ إِكۡرَٲهِهِنَّ غَفُورٌ۬ رَّحِيمٌ۬ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৩৩) অল্ ইয়াস্তা’ ফিফিল্লাযীনা লা-ইয়াজ্বিদূনা নিকা-হান্ হাত্তা-ইয়ুগ্নিয়াহুমুল্ লা-হু মিন্ ফাদ্ব্লিহ্; অল্লাযীনা ইয়াব্তাগূনাল্ কিতা-বা মিম্মা-মালাকাত্ আইমা-নুকুম্ ফাকা-তিবূহুম্ ইন্ ‘আলিম্তুম্ ফীহিম্ খইরঁও অ আ-তূহুম্ মিম্মা-লিল্লা-হিল্লাযী য় আ-তা-কুম্; অলা-তুক্রিহূ ফাতাইয়া-তিকুম্ ‘আলাল্ বিগা-য়ি ইন্ আরাদ্না তাহাছ্ছুনাল্লি তাব্তাগূ ‘আরাদ্বোয়াল্ হাইয়া-তি দ্দুন্ইয়া-; অ মাইঁ ইয়ুক্রিহ্ হুন্না ফাইন্না ল্লা-হা মিম্ বা’দি ইক্র-হিহিন্না গফূর্রু রহীম্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৩৩) আর যাদের বিবাহের সামর্থ্য নেই আল্লাহ তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে অভাবমুক্ত না করা পর্যন্ত তারা যেন সংযম অবলম্বন করে। আর তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীদের মধ্যে যারা মুক্তির জন্য লিখিত চুক্তি করতে চায় তাদের সাথে তোমরা লিখিত চুক্তি কর, যদি তোমরা তাদের মধ্যে কল্যাণ আছে বলে জানতে পার এবং আল্লাহ তোমাদেরকে যে সম্পদ দিয়েছেন তা থেকে তোমরা তাদেরকে দাও। তোমাদের দাসীরা সতীত্ব রক্ষা করতে চাইলে তোমরা পার্থিব জীবনের সম্পদের কামনায় তাদেরকে ব্যভিচারে বাধ্য করো না। আর যারা তাদেরকে বাধ্য করবে, নিশ্চয় তাদেরকে বাধ্য করার পর আল্লাহ তাদের প্রতি অত্যন্ত ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।


وَلَقَدۡ أَنزَلۡنَآ إِلَيۡكُمۡ ءَايَـٰتٍ۬ مُّبَيِّنَـٰتٍ۬ وَمَثَلاً۬ مِّنَ ٱلَّذِينَ خَلَوۡاْ مِن قَبۡلِكُمۡ وَمَوۡعِظَةً۬ لِّلۡمُتَّقِينَ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৩৪) অলাক্বদ্ আন্যাল্না য় ইলাইকুম্ আ-ইয়া-তিম্ মুবাইয়্যিনা-তিঁও অমাছালাম্ মিনাল্লাযীনা খলাও মিন্ ক্বব্লিকুম্ অমাও‘ইজোয়াতাল্লিল্ মুত্তাক্বীন্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৩৪) আর নিশ্চয় আমি তোমাদের কাছে নাযিল করেছি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ এবং তোমাদের পূর্বে যারা চলে গেছে তাদের দৃষ্টান্ত ও মুত্তাকীদের জন্য উপদেশ।


 ٱللَّهُ نُورُ ٱلسَّمَـٰوَٲتِ وَٱلۡأَرۡضِ‌ۚ مَثَلُ نُورِهِۦ كَمِشۡكَوٰةٍ۬ فِيہَا مِصۡبَاحٌ‌ۖ ٱلۡمِصۡبَاحُ فِى زُجَاجَةٍ‌ۖ ٱلزُّجَاجَةُ كَأَنَّہَا كَوۡكَبٌ۬ دُرِّىٌّ۬ يُوقَدُ مِن شَجَرَةٍ۬ مُّبَـٰرَڪَةٍ۬ زَيۡتُونَةٍ۬ لَّا شَرۡقِيَّةٍ۬ وَلَا غَرۡبِيَّةٍ۬ يَكَادُ زَيۡتُہَا يُضِىٓءُ وَلَوۡ لَمۡ تَمۡسَسۡهُ نَارٌ۬‌ۚ نُّورٌ عَلَىٰ نُورٍ۬‌ۗ يَہۡدِى ٱللَّهُ لِنُورِهِۦ مَن يَشَآءُ‌ۚ وَيَضۡرِبُ ٱللَّهُ ٱلۡأَمۡثَـٰلَ لِلنَّاسِ‌ۗ وَٱللَّهُ بِكُلِّ شَىۡءٍ عَلِيمٌ۬ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৩৫) আল্লা-হু নূরুস্ সামা-ওয়া-তি অল্র্আদ্ব্; মাছালু নূরিহী কামিশ্কা-তিন্ ফীহা-মিছ্বাহ্; আল্ মিছ্বা-হু ফী যুজ্বা-জ্বাহ্; আয্যুজ্বা-জ্বাতু কাআন্নাহা-কাওকাবুন্ র্দুরিইয়ুঁই ইয়ূক্বদু মিন্ শাজারতিম্ মুবা-রকাতিন্ ইতূনাতিল্লা-র্শাক্বিয়্যাতিঁও অলা-র্গবিয়াতিঁ ইয়াকা-দু যাইতুহা-ইয়ুদ্বী-য়ু অলাও লাম্ তাম্সাস্হু নার্-; নূরুন্ ‘আলা র্নূ; ইয়াহ্দিল্লা-হু লিনূরিহী মাই ইঁয়াশা-য়্; অইয়াদ্ব্রিবুল্লা-হুল্ আম্ছা-লা লিন্না-স্; অল্লা-হু বিকুল্লি শাইয়িন্ ‘আলীম্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৩৫) আল্লাহ আসমানসমূহ ও যমীনের নূর। তাঁর নূরের উপমা একটি তাকের মতই। তাতে রয়েছে একটি প্রদীপ, প্রদীপটি রয়েছে একটি চিমনির মধ্যে। চিমনিটি উজ্জ্বল তারকার মতই। প্রদীপটি বরকতময় যাইতূন গাছের তেল দ্বারা জ্বালানো হয়, যা পূর্ব দিকেরও নয় এবং পশ্চিম দিকেরও নয়। এর তেল যেন আলো বিকিরণ করে, যদিও তাতে আগুন স্পর্শ না করে। নূরের উপর নূর। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত করেন তাঁর নূরের দিকে। আর আল্লাহ মানুষের জন্য উপমাসমূহ উপস্থাপন করেন। আর আল্লাহ প্রতিটি বস্তু সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত।


فِى بُيُوتٍ أَذِنَ ٱللَّهُ أَن تُرۡفَعَ وَيُذۡڪَرَ فِيہَا ٱسۡمُهُ ۥ يُسَبِّحُ لَهُ ۥ فِيہَا بِٱلۡغُدُوِّ وَٱلۡأَصَالِ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৩৬) ফী বুইয়ূতিন্ আযিনাল্লা-হু আন্ তুরফা‘আ অ ইয়ুয্কারা ফীহাস্মুহূ ইয়ুসাব্বিহু লাহূ ফীহা-বিল্গুদুওয়্যি অল্ আ-ছোয়া-ল্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৩৬) সেসব ঘরে যাকে সমুন্নত করতে এবং যেখানে আল্লাহর নাম যিক্র করতে আল্লাহই অনুমতি দিয়েছেন। সেখানে সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর তাসবীহ পাঠ করে-


رِجَالٌ۬ لَّا تُلۡهِيہِمۡ تِجَـٰرَةٌ۬ وَلَا بَيۡعٌ عَن ذِكۡرِ ٱللَّهِ وَإِقَامِ ٱلصَّلَوٰةِ وَإِيتَآءِ ٱلزَّكَوٰةِ‌ۙ يَخَافُونَ يَوۡمً۬ا تَتَقَلَّبُ فِيهِ ٱلۡقُلُوبُ وَٱلۡأَبۡصَـٰرُ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৩৭) রিজ্বা-লু ল্লা-তুল্হীহিম্ তিজ্বা-রতুঁও অলা-বাই‘উন্ ‘আন্ যিক্রিল্লা-হি অইক্বা-মিছ্ ছলা-তি অই-তা-য়িয্ যাকা- তি ইয়াখা ফূনা ইয়াওমান্ তাতাক্বাল্লাবু ফীহিল্ কুলূবু অল্ আব্ছোয়ার্-।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৩৭) সেসব লোক, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর যিক্র, সালাত কায়েম করা ও যাকাত প্রদান করা থেকে বিরত রাখে না। তারা সেদিনকে ভয় করে, যেদিন অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ উল্টে যাবে।


لِيَجۡزِيَہُمُ ٱللَّهُ أَحۡسَنَ مَا عَمِلُواْ وَيَزِيدَهُم مِّن فَضۡلِهِۦ‌ۗ وَٱللَّهُ يَرۡزُقُ مَن يَشَآءُ بِغَيۡرِ حِسَابٍ۬ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৩৮) লিইয়াজ যিয়াহুমুল্লা-হু আহ্সানা মা-‘আমিলূ অ ইয়াযীদাহুম্ মিন্ ফাদ্ব্লিহ্; অল্লা-হু ইর্য়াযুকু মাইঁ ইয়াশা-য়ু বিগাইরি হিসা-ব্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৩৮) যাতে তাদের কৃত উত্তম আমলের জন্য আল্লাহ তাদেরকে প্রতিদান দেন এবং তিনি স্বীয় অনুগ্রহে তাদেরকে আরো বাড়িয়ে দেন। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন অপরিমিত রিয্ক দান করেন।


وَٱلَّذِينَ ڪَفَرُوٓاْ أَعۡمَـٰلُهُمۡ كَسَرَابِۭ بِقِيعَةٍ۬ يَحۡسَبُهُ ٱلظَّمۡـَٔانُ مَآءً حَتَّىٰٓ إِذَا جَآءَهُ ۥ لَمۡ يَجِدۡهُ شَيۡـًٔ۬ا وَوَجَدَ ٱللَّهَ عِندَهُ ۥ فَوَفَّٮٰهُ حِسَابَهُ ۥ‌ۗ وَٱللَّهُ سَرِيعُ ٱلۡحِسَابِ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৩৯) অল্লাযীনা কাফারূ য় আ’মা-লুহুম্ কাসার-বিম্ বিক্বীআতিঁ ইয়াহ্সাবুহুজ্ জোয়াম্য়া-নু মা-য়্; হাত্তা য় ইযা-জ্বা-য়াহূ লাম্ ইয়াজিদ্হু শাইয়াঁও অঅজ্বাদা ল্লা-হা ‘ইন্দাহূ ফাওয়াফ্ফা-হু হিসা-বাহ্; অল্লাহু সারীউ’ল্ হিসাব্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৩৯) আর যারা কুফরী করে, তাদের আমলসমূহ মরুভূমির মরিচিকার মত, পিপাসিত ব্যক্তি যাকে পানি মনে করে। অবশেষে যখন সে তার কাছে আসবে, তখন সে দেখবে সেটা কিছুই নয়। আর সে সেখানে আল্লাহকে দেখতে পাবে। অতঃপর তিনি তাকে তার হিসাব পরিপূর্ণ করে দেবেন। আর আল্লাহ অতি দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।


أَوۡ كَظُلُمَـٰتٍ۬ فِى بَحۡرٍ۬ لُّجِّىٍّ۬ يَغۡشَٮٰهُ مَوۡجٌ۬ مِّن فَوۡقِهِۦ مَوۡجٌ۬ مِّن فَوۡقِهِۦ سَحَابٌ۬‌ۚ ظُلُمَـٰتُۢ بَعۡضُہَا فَوۡقَ بَعۡضٍ إِذَآ أَخۡرَجَ يَدَهُ ۥ لَمۡ يَكَدۡ يَرَٮٰهَا‌ۗ وَمَن لَّمۡ يَجۡعَلِ ٱللَّهُ لَهُ ۥ نُورً۬ا فَمَا لَهُ ۥ مِن نُّورٍ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৪০) আও কাজুলুমা-তিন্ ফী বাহ্রিল্লুজ্জ্বিয়্যিইঁ ইয়াগ্শাহু মাওজুম্ মিন্ ফাওক্বিহী মাওজ্বুম্ মিন্ ফাওক্বিহী সাহা-ব্; জুলুমা-তুম্ বা’দ্বুহা-ফাওক্ব বা’দ্ব্; ইযা য় আখ্রজ্বা ইয়াদাহূ লাম্ ইয়াক্বাদ্ ইয়ার-হা-; অমাল্ লাম্ইয়াজ্ব্ ‘আলিল্লা-হু লাহূ নূরান্ ফামা লাহূ মিন্ র্নূ।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৪০) অথবা (তাদের আমলসমূহ) গভীর সমূদ্রে ঘনিভূত অন্ধকারের মত, যাকে আচ্ছন্ন করে ঢেউয়ের উপরে ঢেউ, তার উপরে মেঘমালা। অনেক অন্ধকার; এক স্তরের উপর অপর স্তর। কেউ হাত বের করলে আদৌ তা দেখতে পায় না। আর আল্লাহ যাকে নূর দেন না তার জন্য কোন নূর নেই।


أَلَمۡ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ يُسَبِّحُ لَهُ ۥ مَن فِى ٱلسَّمَـٰوَٲتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَٱلطَّيۡرُ صَـٰٓفَّـٰتٍ۬‌ۖ كُلٌّ۬ قَدۡ عَلِمَ صَلَاتَهُ ۥ وَتَسۡبِيحَهُ ۥ‌ۗ وَٱللَّهُ عَلِيمُۢ بِمَا يَفۡعَلُونَ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৪১) আলাম্ তারা আন্নাল্লা-হা ইয়ুসাব্বিহু লাহূ মান্ ফিস্ সামা-ওয়া-তি অল্র্আদ্বি অত্ব ্ত্বোয়াইরু ছোয়া-ফ্ ফা-ত্; কুল্লুন্ ক্বাদ্ ‘আলিমা ছলা-তাহূ অ তাস্বীহাহ্; অল্লা-হু ‘আলীমুম্ বিমা-ইয়াফ্‘আলূন্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৪১) তুমি কি দেখনি যে, আসমান ও যমীনে যারা আছে তারা এবং সারিবদ্ধ হয়ে উড়ন্ত পাখিরা আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করে? প্রত্যেকেই তাঁর সালাত ও তাসবীহ জানে। তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবগত।


وَلِلَّهِ مُلۡكُ ٱلسَّمَـٰوَٲتِ وَٱلۡأَرۡضِ‌ۖ وَإِلَى ٱللَّهِ ٱلۡمَصِيرُ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৪২) অ লিল্লা-হি মুল্কুস্ সামা-ওয়া-তি অল্র্আদ্বি অ ইলাল্ লা-হিল্ মার্ছী।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৪২) আর আসমান ও যমীনের মালিকানা আল্লাহর জন্যই। আর আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তন।


أَلَمۡ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ يُزۡجِى سَحَابً۬ا ثُمَّ يُؤَلِّفُ بَيۡنَهُ ۥ ثُمَّ يَجۡعَلُهُ ۥ رُكَامً۬ا فَتَرَى ٱلۡوَدۡقَ يَخۡرُجُ مِنۡ خِلَـٰلِهِۦ وَيُنَزِّلُ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مِن جِبَالٍ۬ فِيہَا مِنۢ بَرَدٍ۬ فَيُصِيبُ بِهِۦ مَن يَشَآءُ وَيَصۡرِفُهُ ۥ عَن مَّن يَشَآءُ‌ۖ يَكَادُ سَنَا بَرۡقِهِۦ يَذۡهَبُ بِٱلۡأَبۡصَـٰرِ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৪৩) আলাম্ তার আন্নাল্লা-হা ইয়ুয্জ্বী সাহা-বান্ ছুম্মা ইয়ুআল্লিফু বাইনাহূ ছুম্মা ইয়াজ‘আলুহূ রুকা-মান্ ফাতারল্ অদ্ক ইয়াখ্রুজুমিন্ খিলা-লিহী অইয়ুনায্যিলু মিনাস্ সামা-য়ি মিন্ জ্বিবা-লিন্ ফীহা- মিম্ বারদিন্ ফাইয়ুছীবু বিহী মাইঁ ইয়াশা-য়ু অইয়াছ্রিফুহূ ‘আঁম্ মাইঁ ইয়াশা-য়্; ইয়াকা-দু সানা-র্বাক্বিহী ইয়ায্হাবু বিল্ আব্ছোয়ার্-।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৪৩) তুমি কি দেখনি যে, আল্লাহ মেঘমালাকে পরিচালিত করেন, তারপর তিনি সেগুলোকে একত্রে জুড়ে দেন, তারপর সেগুলো স্তুপীকৃত করেন, তারপর তুমি দেখতে পাও তার মধ্য থেকে বৃষ্টির ফোঁটা বের হয়। আর তিনি আকাশে স্থিত মেঘমালার পাহাড় থেকে শিলা বর্ষণ করেন। তারপর তা দ্বারা যাকে ইচ্ছা আঘাত করেন। আর যার কাছ থেকে ইচ্ছা তা সরিয়ে দেন। এর বিদ্যুতের ঝলক দৃষ্টিশক্তি প্রায় কেড়ে নেয়।


يُقَلِّبُ ٱللَّهُ ٱلَّيۡلَ وَٱلنَّهَارَ‌ۚ إِنَّ فِى ذَٲلِكَ لَعِبۡرَةً۬ لِّأُوْلِى ٱلۡأَبۡصَـٰرِ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৪৪) ইয়ুক্বল্লিবু ল্লা-হুল্ লাইলা অন্নাহার্-; ইন্না ফী যা-লিকা লা-‘ইব্রতাল্লি উলিল্ আব্ছোয়ার্-।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৪৪) আল্লাহ দিন ও রাতের আবর্তন ঘটান, নিশ্চয়ই এতে অন্তরদৃষ্টিসম্পন্নদের জন্য শিক্ষা রয়েছে।


وَٱللَّهُ خَلَقَ كُلَّ دَآبَّةٍ۬ مِّن مَّآءٍ۬‌ۖ فَمِنۡہُم مَّن يَمۡشِى عَلَىٰ بَطۡنِهِۦ وَمِنۡہُم مَّن يَمۡشِى عَلَىٰ رِجۡلَيۡنِ وَمِنۡہُم مَّن يَمۡشِى عَلَىٰٓ أَرۡبَعٍ۬‌ۚ يَخۡلُقُ ٱللَّهُ مَا يَشَآءُ‌ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ ڪُلِّ شَىۡءٍ۬ قَدِيرٌ۬ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৪৫) অল্লা-হু খলাক্ব কুল্লা-দা-ব্বাতিম্ মিম্ মা-য়িন্ ফামিন্হুম্ মাইঁ ইয়াম্শী ‘আলা য় বাত্ব্্িনহী অ মিন্হুম্ মাইঁ ইয়াম্শী ‘আলা-রিজলাইনি অ মিন্হুম্ মাইঁ ইয়াম্শী ‘আলা য় র্আবা’; ইয়াখ্লুকুল্লা-হু মা- ইয়াশা-য়্; ইন্নাল্লা-হা ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন্ ক্বর্দী।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৪৫) আর আল্লাহ প্রত্যেক জীবকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তাদের কোনটি পেটে ভর দিয়ে চলে, কোনটি চলে দু’পায়ের উপর, আবার কোনটি চার পায়ের উপর চলে। আল্লাহ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান।


لَّقَدۡ أَنزَلۡنَآ ءَايَـٰتٍ۬ مُّبَيِّنَـٰتٍ۬‌ۚ وَٱللَّهُ يَہۡدِى مَن يَشَآءُ إِلَىٰ صِرَٲطٍ۬ مُّسۡتَقِيمٍ۬ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৪৬) লাক্বদ্ আন্যাল্না য় আ-ইয়া-তিম্ মুবাইয়্যিনা-ত্; অল্লা-হু ইয়াহ্দী মাই ঁইয়াশা-য়ু ইলা-ছির-ত্বিম্ মুস্তাক্বীম্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৪৬) অবশ্যই আমি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করেছি। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল সঠিক পথ দেখান।


وَيَقُولُونَ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَبِٱلرَّسُولِ وَأَطَعۡنَا ثُمَّ يَتَوَلَّىٰ فَرِيقٌ۬ مِّنۡہُم مِّنۢ بَعۡدِ ذَٲلِكَ‌ۚ وَمَآ أُوْلَـٰٓٮِٕكَ بِٱلۡمُؤۡمِنِينَ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৪৭) অ ইয়াকুলূনা আ-মান্না-বিল্লা-হি অর্বিরসূলি অ আত্বোয়া’না ছুম্মা ইয়াতাওয়াল্লা-ফারীক¦ ুম্ মিন্হুম্ মিম্ বা’দি যা-লিক্; অমা য় উলা-য়িকা বিল্ মুমিনীন্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৪৭) তারা বলে, ‘আমরা আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি এবং আমরা আনুগত্য করেছি’, তারপর তাদের একটি দল এর পরে মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর তারা সত্যিকার মুমিন নয়।


وَإِذَا دُعُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ لِيَحۡكُمَ بَيۡنَہُمۡ إِذَا فَرِيقٌ۬ مِّنۡہُم مُّعۡرِضُونَ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৪৮) অ ইযা-দু‘ঊ য় ইলাল্লা-হি অরসূলিহী লিইয়াহ্কুমা বাইনাহুম্ ইযা-ফারীকুম্ মিন্হুম্ মু’রিদ্বূন্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৪৮) আর যখন তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি এ মর্মে আহ্বান করা হয় যে, তিনি তাদের মধ্যে বিচারমীমাংসা করবেন, তখন তাদের একটি দল মুখ ফিরিয়ে নেয়।


وَإِن يَكُن لَّهُمُ ٱلۡحَقُّ يَأۡتُوٓاْ إِلَيۡهِ مُذۡعِنِينَ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৪৯) অ ইঁ ইয়াকু ল্লাহুমুল্ হাককু ইয়াতূ য় ইলাইহি মুয্‘ঈনীন্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৪৯) কিন্তু যদি সত্য তাদের পক্ষে থাকে, তাহলে তারা তার কাছে একান্ত বিনীতভাবে ছুটে আসে।


أَفِى قُلُوبِہِم مَّرَضٌ أَمِ ٱرۡتَابُوٓاْ أَمۡ يَخَافُونَ أَن يَحِيفَ ٱللَّهُ عَلَيۡہِمۡ وَرَسُولُهُ ۥ‌ۚ بَلۡ أُوْلَـٰٓٮِٕكَ هُمُ ٱلظَّـٰلِمُونَ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৫০) আ ফী কুলূবিহিম্ মারাদ্ব ুন্ আর্মি তাবূ য় আম্ ইয়াখ-ফূনা আইঁ ইয়াহীফাল্লা-হু ‘আলাইহিম্ অ রসূলুহ্; বাল্ উলা-য়িকা হুমুজ্ জোয়া-লিমূন্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৫০) তাদের অন্তরে কি ব্যাধি রয়েছে? নাকি তারা সন্দেহ পোষণ করে, না তারা ভয় করে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাদের উপর যুলম করবেন? বরং তারাই তো যালিম।


إِنَّمَا كَانَ قَوۡلَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ إِذَا دُعُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ لِيَحۡكُمَ بَيۡنَهُمۡ أَن يَقُولُواْ سَمِعۡنَا وَأَطَعۡنَا‌ۚ وَأُوْلَـٰٓٮِٕكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ

আরবি উচ্চারণ

২৪.৫১) ইন্নামা-কা-না ক্বওলাল্ মুমিনীনা ইযা-দু‘ঊ য় ইলাল্লা-হি অরসূলিহী লিইয়াহ্কুমা বাইনাহুম্ আইঁ ইয়াকু লূ সামি’না- অ‘আত্বোয়া’না-; অউলা-য়িকা হুমুল্ মুফ্লিহূন্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৫১) মুমিনদেরকে যখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি এ মর্মে আহ্বান করা হয় যে, তিনি তাদের মধ্যে বিচার, মীমাংসা করবেন, তাদের কথা তো এই হয় যে, তখন তারা বলে: ‘আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম।’ আর তারাই সফলকাম।


وَمَن يُطِعِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُ ۥ وَيَخۡشَ ٱللَّهَ وَيَتَّقۡهِ فَأُوْلَـٰٓٮِٕكَ هُمُ ٱلۡفَآٮِٕزُونَ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৫২) অ মাইঁ ইউত্বি‘ঈল্লা-হা অ রসূলাহূ অ ইয়াখ্শাল্লা-হা অ ইয়াত্তাকহি ফাউলা-য়িকা হুমুল্ ফা-য়িযূন্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৫২) আর যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর তাকওয়া অবলম্বন করে, তারাই কৃতকার্য।


 وَأَقۡسَمُواْ بِٱللَّهِ جَهۡدَ أَيۡمَـٰنِہِمۡ لَٮِٕنۡ أَمَرۡتَہُمۡ لَيَخۡرُجُنَّ‌ۖ قُل لَّا تُقۡسِمُواْ‌ۖ طَاعَةٌ۬ مَّعۡرُوفَةٌ‌ۚ إِنَّ ٱللَّهَ خَبِيرُۢ بِمَا تَعۡمَلُونَ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৫৩) অ আক্ব্সামূ বিল্লাহি জ্বাহ্দা আইমা-নিহিম্ লায়িন্ আর্মাতাহুম্ লাইয়াখ্রুজুন্; কুল্ লা-তুকসিমূ ত্বোয়া-আ’তুম্ মা’রূফাহ্; ইন্নাল্লা-হা খবীরুম্ বিমা-তা’মালূন্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৫৩) আর তারা তাদের সুদৃঢ় শপথের মাধ্যমে আল্লাহর নামে কসম করে বলে যে, ‘তুমি যদি তাদের আদেশ কর তবে তারা বের হবেই। তুমি বল, ‘তোমরা কসম করো না। [তোমাদের] আনুগত্য তো জানাই আছে। তোমরা যা কিছু কর, নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত’।


قُلۡ أَطِيعُواْ ٱللَّهَ وَأَطِيعُواْ ٱلرَّسُولَ‌ۖ فَإِن تَوَلَّوۡاْ فَإِنَّمَا عَلَيۡهِ مَا حُمِّلَ وَعَلَيۡڪُم مَّا حُمِّلۡتُمۡ‌ۖ وَإِن تُطِيعُوهُ تَهۡتَدُواْ‌ۚ وَمَا عَلَى ٱلرَّسُولِ إِلَّا ٱلۡبَلَـٰغُ ٱلۡمُبِينُ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৫৪) কুল্ আত্বী ‘উল্লা-হা অ আত্বী‘র্উ রসূলা ফাইন্ তাওল্লাও ফাইন্নামা- ‘আলাইহি মা-হুম্মিলা অ ‘আলাইকুম্ মা-হুম্মিল্তুম্; অইন্ তুত্বী‘ঊহু তাহ্তাদূ; অমা-‘আর্লা রসূলি ইল্লাল্ বালা-গুল্ মুবীন্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৫৪) বল, ‘তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর।’ তারপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে সে শুধু তার উপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য দায়ী এবং তোমাদের উপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তোমরাই দায়ী। আর যদি তোমরা তার আনুগত্য কর তবে তোমরা হিদায়াতপ্রাপ্ত হবে। আর রাসূলের দায়িত্ব শুধু স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়া।


وَعَدَ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ مِنكُمۡ وَعَمِلُواْ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ لَيَسۡتَخۡلِفَنَّهُمۡ فِى ٱلۡأَرۡضِ ڪَمَا ٱسۡتَخۡلَفَ ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِهِمۡ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمۡ دِينَہُمُ ٱلَّذِى ٱرۡتَضَىٰ لَهُمۡ وَلَيُبَدِّلَنَّہُم مِّنۢ بَعۡدِ خَوۡفِهِمۡ أَمۡنً۬ا‌ۚ يَعۡبُدُونَنِى لَا يُشۡرِكُونَ بِى شَيۡـًٔ۬ا‌ۚ وَمَن ڪَفَرَ بَعۡدَ ذَٲلِكَ فَأُوْلَـٰٓٮِٕكَ هُمُ ٱلۡفَـٰسِقُونَ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৫৫) অ‘আদাল্লা-হু ল্লাযীনা আ-মানূ মিন্কুম্ অ ‘আমিলুছ্ ছোয়া-লিহা-তি লাইয়াস্তাখ্লিফান্নাহুম্ ফিল্ র্আদ্বি কামাস্ তাখ্লাফাল্লাযীনা মিন্ ক্বব্লিহিম্ অলা ইয়ুমাক্কিনান্না লাহুম্ দীনা হুমু ল্লার্যী তাদ্বোয়া-লাহুম্ অলাইয়ুবাদ্দি লান্নাহুম্ মিম্ বা’দি খাওফিহিম্ আম্না-; ইয়া’বুদূ নানী লা- ইয়ুশ্রিকূনা বী শাইয়া-; অমান্ কাফারা বা’দা যা-লিকা ফাউলা-য়িকা হুমুল্ ফা-সিকুন্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৫৫) তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে আল্লাহ তাদেরকে এ মর্মে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তিনি নিশ্চিতভাবে তাদেরকে যমীনের প্রতিনিধিত্ব প্রদান করবেন, যেমন তিনি প্রতিনিধিত্ব প্রদান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদের এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য শক্তিশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন তাদের দীনকে, যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তিনি তাদের ভয়-ভীতি শান্তি-নিরাপত্তায় পরিবর্তিত করে দেবেন। তারা আমারই ইবাদাত করবে, আমার সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না। আর এরপর যারা কুফরী করবে তারাই ফাসিক।


وَأَقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُواْ ٱلزَّكَوٰةَ وَأَطِيعُواْ ٱلرَّسُولَ لَعَلَّڪُمۡ تُرۡحَمُونَ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৫৬) অআক্বীমুছ্ ছলা-তা অআ-তুয্ যাকা-তা-অ আত্বী‘র্ঊ রসূলা-লা‘আল্লাকুম্ র্তুহামূন্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৫৬) আর তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত দাও এবং রাসূলের আনুগত্য কর, যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হতে পার।


لَا تَحۡسَبَنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ مُعۡجِزِينَ فِى ٱلۡأَرۡضِ‌ۚ وَمَأۡوَٮٰهُمُ ٱلنَّارُ‌ۖ وَلَبِئۡسَ ٱلۡمَصِيرُ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৫৭) লা-তাহ্সাবান্নাল্লাযীনা কাফারূ মু’জ্বিযীনা ফিল্ র্আদ্বি অমাওয়া হুমুন্নার্-; অলাবিসাল্ মার্ছী।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৫৭) তুমি কাফিরদেরকে যমীনে অপারগকারী মনে করো না; তাদের আশ্রয়স্থল আগুন। আর কতই না নিকৃষ্ট এই প্রত্যাবর্তনস্থল!


يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لِيَسۡتَـٔۡذِنكُمُ ٱلَّذِينَ مَلَكَتۡ أَيۡمَـٰنُكُمۡ وَٱلَّذِينَ لَمۡ يَبۡلُغُواْ ٱلۡحُلُمَ مِنكُمۡ ثَلَـٰثَ مَرَّٲتٍ۬‌ۚ مِّن قَبۡلِ صَلَوٰةِ ٱلۡفَجۡرِ وَحِينَ تَضَعُونَ ثِيَابَكُم مِّنَ ٱلظَّهِيرَةِ وَمِنۢ بَعۡدِ صَلَوٰةِ ٱلۡعِشَآءِ‌ۚ ثَلَـٰثُ عَوۡرَٲتٍ۬ لَّكُمۡ‌ۚ لَيۡسَ عَلَيۡكُمۡ وَلَا عَلَيۡهِمۡ جُنَاحُۢ بَعۡدَهُنَّ‌ۚ طَوَّٲفُونَ عَلَيۡكُم بَعۡضُڪُمۡ عَلَىٰ بَعۡضٍ۬‌ۚ كَذَٲلِكَ يُبَيِّنُ ٱللَّهُ لَكُمُ ٱلۡأَيَـٰتِ‌ۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ۬ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৫৮) ইয়া য় আইয়্যুহাল্লাযীনা আ-মানূ লিইয়াস্তা যিন্কুমুল্ লাযীনা মালাকাত্ আইমা-নুকুম্ অল্লাযীনা লাম্ ইয়াব্লুগুল্ হুলুমা মিন্কুম্ ছালা-ছা র্মার-ত্; মিন্ ক্বব্লি ছলা-তিল্ ফাজ¦্রি অ হীনা তাদ্বোয়া‘ঊনা ছিয়া-বাকুম্ মিনাজ্ জোয়াহীরতি অমিম্ বা’দি ছলা-তিল্ ইশা-য়্; ছালা-ছু ‘আওরা-তিল্লাকুম্; লাইসা ‘আলাইকুম্ অলা-‘আলাইহিম্ জুনা হুম্ বা’দা হুন্; ত্বোয়াওয়া- ফূনা ‘আলাইকুম্ বা’দ্বুকুম্ ‘আলা-বা’দ্ব্ কাযা-লিকা ইয়ুবাইয়্যিনু ল্লা-হু লাকুমুল্ আ-ইয়া-ত্; অল্লা-হু আ’লীমুন্ হাকীম্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৫৮) হে মুমিনগণ, তোমাদের ডানহাত যার মালিক হয়েছে এবং তোমাদের মধ্যে যারা প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি তারা যেন অবশ্যই তিন সময়ে অনুমতি গ্রহণ করে। ফজরের সালাতের পূর্বে, দুপুরে যখন তোমরা তোমাদের পোশাক খুলে রাখ, এবং ‘ইশার সালাতের পর; এই তিনটি তোমাদের [গোপনীয়তার] সময়। এই তিন সময়ের পর [অন্য কোন সময়ে বিনা অনুমতিতে আসলে] তোমাদের এবং তাদের কোন দোষ নেই। তোমাদের একে অন্যের কাছে যাতায়াত করতেই হয়। এভাবে আল্লাহ তোমাদের উদ্দেশ্যে তাঁর আয়াতসমূহ বর্ণনা করেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।


وَإِذَا بَلَغَ ٱلۡأَطۡفَـٰلُ مِنكُمُ ٱلۡحُلُمَ فَلۡيَسۡتَـٔۡذِنُواْ ڪَمَا ٱسۡتَـٔۡذَنَ ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِهِمۡ‌ۚ كَذَٲلِكَ يُبَيِّنُ ٱللَّهُ لَڪُمۡ ءَايَـٰتِهِۦ‌ۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَڪِيمٌ۬ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৫৯) অ ইযা-বালাগাল্ আত্ব ফা-লূ মিন্কুমুল্ হুলুমা ফাল্ইয়াস্তাযিনূ কামাস্তাযানাল্লাযীনা মিন্ ক্বব্লিহিম্; কাযা-লিকা ইয়ুবাইয়্যিনুল্লা-হু লাকুম্ আ-ইয়া-তিহ্; অল্লা-হু ‘আলীমুন্ হাকীম্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৫৯) আর তোমাদের সন্তান-সন্ততি যখন প্রাপ্তবয়স্ক হয়, তখন তারাও যেন অনুমতি প্রার্থনা করে যেমনিভাবে তাদের অগ্রজরা অনুমতি প্রার্থনা করত। এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ বর্ণনা করেন। আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।


وَٱلۡقَوَٲعِدُ مِنَ ٱلنِّسَآءِ ٱلَّـٰتِى لَا يَرۡجُونَ نِكَاحً۬ا فَلَيۡسَ عَلَيۡهِنَّ جُنَاحٌ أَن يَضَعۡنَ ثِيَابَهُنَّ غَيۡرَ مُتَبَرِّجَـٰتِۭ بِزِينَةٍ۬‌ۖ وَأَن يَسۡتَعۡفِفۡنَ خَيۡرٌ۬ لَّهُنَّ‌ۗ وَٱللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ۬ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৬০) অল্ ক্বওয়া-‘ইদু মিনান্নিসা-য়িল্লা-তী লা-ইর্য়া জু না নিকা-হান্ ফালাইসা ‘আলাইহিন্না জুনা-হুন্ আইঁ ইয়াদ্বোয়া’না ছিয়া-বা হুন্না গইর মুতার্বারিজ্বা-তিম্ বিযীনাহ্; অআইঁ ইয়াস্তাফিফ্না খইরুল্লাহুন্; অল্লা-হু সামী‘উন্ ‘আলীম্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৬০) আর বৃদ্ধা নারীরা, যারা বিয়ের প্রত্যাশা করে না, তাদের জন্য কোন দোষ নেই, যদি তারা তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে তাদের কিছু পোশাক খুলে রাখে এবং এ থেকে বিরত থাকাই তাদের জন্য উত্তম। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী।


لَّيۡسَ عَلَى ٱلۡأَعۡمَىٰ حَرَجٌ۬ وَلَا عَلَى ٱلۡأَعۡرَجِ حَرَجٌ۬ وَلَا عَلَى ٱلۡمَرِيضِ حَرَجٌ۬ وَلَا عَلَىٰٓ أَنفُسِڪُمۡ أَن تَأۡكُلُواْ مِنۢ بُيُوتِڪُمۡ أَوۡ بُيُوتِ ءَابَآٮِٕڪُمۡ أَوۡ بُيُوتِ أُمَّهَـٰتِكُمۡ أَوۡ بُيُوتِ إِخۡوَٲنِڪُمۡ أَوۡ بُيُوتِ أَخَوَٲتِڪُمۡ أَوۡ بُيُوتِ أَعۡمَـٰمِڪُمۡ أَوۡ بُيُوتِ عَمَّـٰتِڪُمۡ أَوۡ بُيُوتِ أَخۡوَٲلِكُمۡ أَوۡ بُيُوتِ خَـٰلَـٰتِڪُمۡ أَوۡ مَا مَلَڪۡتُم مَّفَاتِحَهُ ۥۤ أَوۡ صَدِيقِڪُمۡ‌ۚ لَيۡسَ عَلَيۡڪُمۡ جُنَاحٌ أَن تَأۡڪُلُواْ جَمِيعًا أَوۡ أَشۡتَاتً۬ا‌ۚ فَإِذَا دَخَلۡتُم بُيُوتً۬ا فَسَلِّمُواْ عَلَىٰٓ أَنفُسِكُمۡ تَحِيَّةً۬ مِّنۡ عِندِ ٱللَّهِ مُبَـٰرَڪَةً۬ طَيِّبَةً۬‌ۚ ڪَذَٲلِكَ يُبَيِّنُ ٱللَّهُ لَڪُمُ ٱلۡأَيَـٰتِ لَعَلَّڪُمۡ تَعۡقِلُونَ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৬১) লাইসা ‘আলাল্ ‘আমা-হারাজ্বঁও অলা- ‘আলাল্ আ’রজ্বি হারজঁও অলা- ‘আলাল্ মারীদ্বি হারজুও অলা- ‘আলা য় আন্ফুসিকুম্ আন্ তাকুলূ মিম্ বুইয়ূতিকুম্ আও বুইয়ূতি আ-বা-য়িকুম্ আও বুইয়ূতি উম্মাহা-তিকুম্ আও বুইয়ূতি ইখ্ওয়া-নিকুম্ আও বুইয়ূতি আখাওয়া-তিকুম্ আও বুইয়ূতি আ’মা-মিকুম্ আও বুইয়ূতি ‘আম্মা-তিকুম্ আও বুইয়ূতি আখ্ওয়া-লিকুম্ আও বুইয়ূতি খ-লা-তিকুম্ আও মা-মালাক্তুম্ মাফা-তিহাহূ য় আও ছোয়াদ্বীক্বিকুম্; লাইসা ‘আলাইকুম্ জুনা-হুন্ আন্ তাকুলূ জ্বামী‘আন্ আও আশ্তা-তা-; ফাইযা-দাখল্তুম্ বুইয়ূতান্ ফাসাল্লিমূ ‘আলা য় আন্ফুসিকুম্ তাহিয়্যাতাম্ মিন্ ‘ইন্দিল্লা-হি মুবা-রাকাতান্ ত্বোয়াইয়্যিবাহ্; কাযা-লিকা ইয়্যুবাইয়্যিনুল্লা-হু লাকুমুল্ আ-ইয়া-তি লা‘আল্লাকুম্ তা’ক্বিলূন্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৬১) অন্ধের জন্য কোন দোষ নেই, পঙ্গুর জন্য কোন দোষ নেই, রোগাক্রান্তের জন্য কোন দোষ নেই এবং তোমাদের নিজদের জন্যও কোন দোষ নেই যে তোমরা খাবে তোমাদের নিজদের ঘরে, অথবা তোমাদের পিতাদের ঘরে, অথবা তোমাদের মায়েদের ঘরে, অথবা তোমাদের ভাইদের ঘরে, অথবা তোমাদের বোনদের ঘরে, অথবা তোমাদের চাচাদের ঘরে, অথবা তোমাদের ফুফুদের ঘরে, অথবা তোমাদের মামাদের ঘরে, অথবা তোমাদের খালাদের ঘরে, অথবা সেসব ঘরে যার চাবি তোমাদের অধিকারে রয়েছে, অথবা তোমাদের বন্ধুদের ঘরে। তোমরা একত্রে খাও অথবা আলাদা আলাদা খাও তাতে কোনও দোষ নেই। তবে তোমরা যখন কোন ঘরে প্রবেশ করবে তখন তোমরা নিজদের উপর সালাম করবে, আল্লাহর পক্ষ থেকে বরকতপূর্ণ ও পবিত্র অভিবাদনস্বরূপ। এভাবে আল্লাহ তোমাদের উদ্দেশ্যে তাঁর আয়াতসমূহ বর্ণনা করেন যাতে তোমরা বুঝতে পার।


إِنَّمَا ٱلۡمُؤۡمِنُونَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَإِذَا ڪَانُواْ مَعَهُ ۥ عَلَىٰٓ أَمۡرٍ۬ جَامِعٍ۬ لَّمۡ يَذۡهَبُواْ حَتَّىٰ يَسۡتَـٔۡذِنُوهُ‌ۚ إِنَّ ٱلَّذِينَ يَسۡتَـٔۡذِنُونَكَ أُوْلَـٰٓٮِٕكَ ٱلَّذِينَ يُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ‌ۚ فَإِذَا ٱسۡتَـٔۡذَنُوكَ لِبَعۡضِ شَأۡنِهِمۡ فَأۡذَن لِّمَن شِئۡتَ مِنۡهُمۡ وَٱسۡتَغۡفِرۡ لَهُمُ ٱللَّهَ‌ۚ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ۬ رَّحِيمٌ۬ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৬২) ইন্নামাল্ মুমিনুনাল্লাযীনা আ-মানূ বিল্লা-হি অরসূলিহী অইযা-কা-নূ মা‘আহূ ‘আলা য় আম্রিন্ জ্বা-মি‘ইল্ লাম্ ইয়ায্হাবূ হাত্তা-ইয়াস্তাযিনূহ্; ইন্নাল্লাযীনা ইয়াস্তাযিনূনাকা উলা-য়িকাল্ লাযীনা ইয়ুমিনূনা বিল্লা-হি অ রসূলিহী ফাইয়াস্ তা’যানূকা লিবা’দ্বি শা’নিহিম্ ফা’যা ল্লিমান্ শি’তা মিন্হুম্ অস্তাগ্ র্ফিলাহুমুল্লা-হ্; ইন্নাল্লা-হা গফূর্রু রহীম্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৬২) মুমিন শুধু তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনে এবং তাঁর সাথে কোন সমষ্টিগত কাজে থাকলে অনুমতি না নিয়ে চলে যায় না। নিশ্চয় তোমার কাছে যারা অনুমতি চায় তারাই কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান আনে; সুতরাং কোন প্রয়োজনে তারা তোমার কাছে বাইরে যাওয়ার অনুমতি চাইলে তাদের মধ্যে তোমার যাকে ইচ্ছা তুমি অনুমতি দেবে এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।


لَّا تَجۡعَلُواْ دُعَآءَ ٱلرَّسُولِ بَيۡنَڪُمۡ كَدُعَآءِ بَعۡضِكُم بَعۡضً۬ا‌ۚ قَدۡ يَعۡلَمُ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ يَتَسَلَّلُونَ مِنكُمۡ لِوَاذً۬ا‌ۚ فَلۡيَحۡذَرِ ٱلَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنۡ أَمۡرِهِۦۤ أَن تُصِيبَہُمۡ فِتۡنَةٌ أَوۡ يُصِيبَہُمۡ عَذَابٌ أَلِيمٌ  

আরবি উচ্চারণ

২৪.৬৩) লাতাজ‘আলূ দু‘আ-র্য়া রসূলি বাইনাকুম্ কাদু‘আ-য়ি বা’দ্বিকুম্ বা’দ্বোয়া-; ক্বাদ্ ইয়া’লামুল্লা-হুল্ লাযীনা ইয়াতাসাল্লালূনা মিন্কুম্ লিওয়া-যান্ ফাল্ইয়াহ্যারি ল্লাযীনা ইয়ুখা-লিফূনা ‘আন্ আম্রিহী য় আন্ তুছীবাহুম্ ফিত্নাতুন্ আও ইয়ুছীবাহুম্ ‘আযা-বুন্ আলীম্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৬৩) তোমরা পরস্পরকে যেভাবে ডাকো রাসূলকে সেভাবে ডেকো না; তোমাদের মধ্যে যারা চুপিসারে সরে পড়ে আল্লাহ অবশ্যই তাদেরকে জানেন। অতএব যারা তাঁর নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন তাদের ওপর বিপর্যয় নেমে আসা অথবা যন্ত্রণাদায়ক আযাব পৌঁছার ভয় করে।


أَلَآ إِنَّ لِلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَـٰوَٲتِ وَٱلۡأَرۡضِ‌ۖ قَدۡ يَعۡلَمُ مَآ أَنتُمۡ عَلَيۡهِ وَيَوۡمَ يُرۡجَعُونَ إِلَيۡهِ فَيُنَبِّئُهُم بِمَا عَمِلُواْ‌ۗ وَٱللَّهُ بِكُلِّ شَىۡءٍ عَلِيمُۢ

আরবি উচ্চারণ

২৪.৬৪) আলা য় ইন্না লিল্লা-হি মা-ফিস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্ব্; ক্বদ্ ইয়া’লামু মা য় আনতুম্ ‘আলাইহ্; অইয়াওমা ইর্য়ুজ্বা‘ঊনা ইলাইহি ফাইয়ুনাব্বিয়ুহুম্ বিমা-‘আমিলূ; অল্লা-হু বিকুল্লি শাইয়িন্ ‘আলীম্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৬৪) সাবধান, আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে তা আল্লাহরই; তোমরা যে অবস্থায় আছ তা তিনি অবশ্যই জানেন এবং যেদিন তাদেরকে তাঁর কাছে ফিরিয়ে নেয়া হবে সেদিন তারা যা করত তিনি তাদেরকে তা জানিয়ে দেবেন। আল্লাহ সব কিছু সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত।

সূরা নূর আয়াত ২৬ ব্যাখ্যা 


সুরা নূরের ২৬ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন;

 الْخَبِيثَاتُ لِلْخَبِيثِينَ وَالْخَبِيثُونَ لِلْخَبِيثَاتِ وَالطَّيِّبَاتُ لِلطَّيِّبِينَ وَالطَّيِّبُونَ لِلطَّيِّبَاتِ أُولَئِكَ مُبَرَّءُونَ مِمَّا يَقُولُونَ لَهُمْ مَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ

“দুশ্চরিত্রা নারী দুশ্চরিত্র পুরুষের জন্য এবং দুশ্চরিত্র পুরুষ দুশ্চরিত্রা নারীর জন্য  “উপযুক্তʼʼ। (একইভাবে) সচ্চরিত্রা নারী সচ্চরিত্র পুরুষের জন্য এবং সচ্চরিত্র পুরুষ সচ্চরিত্রা নারীর জন্য  “উপযুক্তʼʼ। তাদের সম্পর্কে (দুশ্চরিত্র লোকেরা) যা বলে,তা থেকে তারা পবিত্র। তাদের জন্যে আছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা।” [24:26] 


 “এ আয়াতে আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুমোদিত মানুষের সাধারণ ও স্বভাবগত কিছু রীতিনীতি সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, মানুষ সাধারণত স্ত্রী নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিজের স্বভাবচরিত্রের অনুকূল ও সমমনা নারীকে সন্ধান করেন। সচ্চরিত্র ও পুতপবিত্র পুরুষ স্বাভাবিকভাবেই সচ্চরিত্র নারীকে খোঁজে এবং একইভাবে অভদ্র ও চরিত্রহীনরা তাদের মতোই কোনো নারীকে খুঁজে বেড়ায়। মহান আল্লাহও সচ্চরিত্র ব্যক্তিদেরকে চরিত্রহীন নারীকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেয়ার অনুমতি দেননি। চরিত্রহীন পুরুষ ও নারীরা যতক্ষণ তওবা করে সৎপথে ফিরে না আসে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে না।ʼʼ

 
“দেখা যাচ্ছে, স্ত্রী নির্ধারণের ক্ষেত্রে সব ধরনের অপবিত্রতা থেকে মুক্ত ও  “সচ্চরিত্র নারীকেʼʼ প্রাধান্য দিতে বলা হয়েছে। এখানে অপবিত্রতা থেকে মুক্ত থাকার ব্যাখ্যার মুফাসসিররা বলেছেন, স্বামী ও স্ত্রী নির্ধারণের ক্ষেত্রে দেখতে হবে পাত্র বা পাত্রী শিরক ও কুফরি থেকে মুক্ত কিনা, তারা অশ্লীল কথা ও কাজ থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখে কিনা। কারণ, একজন ঈমানদার মানুষ এসব কাজ করে না।ʼʼ

এ আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো --

১) স্বামী/স্ত্রী বা বন্ধু নির্ধারণের ক্ষেত্রে চারিত্রিক পবিত্রতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। আমরা যেন সচ্চরিত্র লোক থেকে দূরে না সরে যাই এবং চরিত্রহীন লোকদের সঙ্গী না বানাই।

২) যেকোনো মানুষের ভবিষ্যত প্রজন্মের চরিত্রবান হওয়ার বিষয়টি তার জীবনসঙ্গীর চরিত্রবান হওয়ার ওপর নির্ভর করে। এ ছাড়া, সচ্চরিত্রবান দম্পতির উচিত তাদের সন্তানদের চরিত্র গঠনের জন্য প্রতিনিয়ত চেষ্টা করা।

সূরা নূর আয়াত ৩০ 



قُل لِّلۡمُؤۡمِنِينَ يَغُضُّواْ مِنۡ أَبۡصَـٰرِهِمۡ وَيَحۡفَظُواْ فُرُوجَهُمۡ‌ۚ ذَٲلِكَ أَزۡكَىٰ لَهُمۡ‌ۗ إِنَّ ٱللَّهَ خَبِيرُۢ بِمَا يَصۡنَعُونَ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৩০) কুল্ লিল্মুমিনীনা ইয়াগুদ্ব্দ্বূ মিন্ আব্ছোয়া-রিহিম্ অইয়াহ্ফাজূ ফুরূজ্বাহুম্ যা- লিকা আয্কা-লাহুম্ ইন্নাল্লা-হা খবীরুম্ বিমা-ইয়াছ্নাঊ’ন্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৩০) মুমিন পুরুষদেরকে বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করবে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয় তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত।

সূরা নূর আয়াত ৩৫



 ٱللَّهُ نُورُ ٱلسَّمَـٰوَٲتِ وَٱلۡأَرۡضِ‌ۚ مَثَلُ نُورِهِۦ كَمِشۡكَوٰةٍ۬ فِيہَا مِصۡبَاحٌ‌ۖ ٱلۡمِصۡبَاحُ فِى زُجَاجَةٍ‌ۖ ٱلزُّجَاجَةُ كَأَنَّہَا كَوۡكَبٌ۬ دُرِّىٌّ۬ يُوقَدُ مِن شَجَرَةٍ۬ مُّبَـٰرَڪَةٍ۬ زَيۡتُونَةٍ۬ لَّا شَرۡقِيَّةٍ۬ وَلَا غَرۡبِيَّةٍ۬ يَكَادُ زَيۡتُہَا يُضِىٓءُ وَلَوۡ لَمۡ تَمۡسَسۡهُ نَارٌ۬‌ۚ نُّورٌ عَلَىٰ نُورٍ۬‌ۗ يَہۡدِى ٱللَّهُ لِنُورِهِۦ مَن يَشَآءُ‌ۚ وَيَضۡرِبُ ٱللَّهُ ٱلۡأَمۡثَـٰلَ لِلنَّاسِ‌ۗ وَٱللَّهُ بِكُلِّ شَىۡءٍ عَلِيمٌ۬ 

আরবি উচ্চারণ

২৪.৩৫) আল্লা-হু নূরুস্ সামা-ওয়া-তি অল্র্আদ্ব্; মাছালু নূরিহী কামিশ্কা-তিন্ ফীহা-মিছ্বাহ্; আল্ মিছ্বা-হু ফী যুজ্বা-জ্বাহ্; আয্যুজ্বা-জ্বাতু কাআন্নাহা-কাওকাবুন্ র্দুরিইয়ুঁই ইয়ূক্বদু মিন্ শাজারতিম্ মুবা-রকাতিন্ ইতূনাতিল্লা-র্শাক্বিয়্যাতিঁও অলা-র্গবিয়াতিঁ ইয়াকা-দু যাইতুহা-ইয়ুদ্বী-য়ু অলাও লাম্ তাম্সাস্হু নার্-; নূরুন্ ‘আলা র্নূ; ইয়াহ্দিল্লা-হু লিনূরিহী মাই ইঁয়াশা-য়্; অইয়াদ্ব্রিবুল্লা-হুল্ আম্ছা-লা লিন্না-স্; অল্লা-হু বিকুল্লি শাইয়িন্ ‘আলীম্।

বাংলা অনুবাদ

২৪.৩৫) আল্লাহ আসমানসমূহ ও যমীনের নূর। তাঁর নূরের উপমা একটি তাকের মতই। তাতে রয়েছে একটি প্রদীপ, প্রদীপটি রয়েছে একটি চিমনির মধ্যে। চিমনিটি উজ্জ্বল তারকার মতই। প্রদীপটি বরকতময় যাইতূন গাছের তেল দ্বারা জ্বালানো হয়, যা পূর্ব দিকেরও নয় এবং পশ্চিম দিকেরও নয়। এর তেল যেন আলো বিকিরণ করে, যদিও তাতে আগুন স্পর্শ না করে। নূরের উপর নূর। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত করেন তাঁর নূরের দিকে। আর আল্লাহ মানুষের জন্য উপমাসমূহ উপস্থাপন করেন। আর আল্লাহ প্রতিটি বস্তু সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত।




Tag: সূরা নূর বাংলা অর্থসহ, সূরা নূর আয়াত ২৬ ব্যাখ্যা, সূরা নূর আয়াত ৩০, সূরা নূর আয়াত ৩৫, সূরা নূর বাংলা অনুবাদ, সূরা আল নূর বাংলা অনুবাদ।

0/Post a Comment/Comments

chrome-extension://oilhmgfpengfpkkliokdbjjhiikehfoo/img/semstorm-32.png