সূরা ইখলাস এর আরবি ইংরেজি বাংলা অনুবাদ অর্থ উচ্চারণ সহ শানে নুযুল ও ফজিলত Nuul and Fazilat with Arabic Bengali translation of Surah Ikhlas |

সূরা ইখলাস এর আরবি ইংরেজি বাংলা অনুবাদ অর্থ উচ্চারণ সহ শানে নুযুল ও ফজিলত Nuul and Fazilat with Arabic Bengali translation of Surah Ikhlas |


সূরা ইখলাস এর আরবি ইংরেজি বাংলা অনুবাদ অর্থ উচ্চারণ সহ শানে নুযুল ও ফজিলত Nuul and Fazilat with Arabic Bengali translation of Surah Ikhlas |


আসসালামুয়ালাইকুম, প্রিয় বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে ভালই আছেন। আমি আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে ভালই আছি। বন্ধুরা আজকে আমি আপনাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে হাজির হয়েছি। বিষয়টি হলো সূরা ইখলাস এর আরবি ইংরেজি বাংলা অনুবাদ অর্থ উচ্চারণ সহ শানে নুযুল ও ফজিলত এবং বিভিন্ন বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো। এখানে আপনারা যা যা জানতে পারবেন  তা হচ্ছে সূরা ইখলাস বাংলা, সূরা ইখলাস এর তাফসীর, সূরা ইখলাসের ফজিলত, সূরা ইখলাস বাংলা উচ্চারণ, সূরা ইখলাস এর বাংলা অর্থ, কুলহু সুরা, ইখলাস সূরা, সূরা ইখলাস বাংলা অর্থসহ। নিম্নে সূরা ইখলাস এর আরবি ইংরেজি বাংলা অনুবাদ অর্থ উচ্চারণ সহ শানে নুযুল ও ফজিলত ও আরও বিভিন্ন বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। 

                    সূরা এখলাছ      

              الله الرحمن الرحيم بیسم 

           বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম 

       শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম                         করুণাময়, অতি দয়ালু


আরবিঃ

قل هو الله أحد وان الله الصمد ۲۰ لم يلد ولم يولد 

۳۰ ولم يكن له كفوا أحد م 


                  উচ্চারণ 

(১)কুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ।

(২) আল্লা-হুসসামাদ। 

(৩) লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইঊলাদ। 

(৪) ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহূকুফুওয়ান আহাদ।


                  বাংলা অর্থ

(1)বলুন, তিনি আল্লাহ, এক,।

(2) আল্লাহ অমুখাপেক্ষী,

(3) তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি।

(4) এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।


(1) Say, He is Allah, the One, 

(2) Allah isself-sufficient, 

(3) He has not begottenanyone and no one has begotten Him.

(4) andthere is no one equal to Him. 


============================

                    শানে নুযূল      

এই ছোট্ট সূরাটি বড় ফযীলতসম্পন্ন। এটিকে মহানবী (সাঃ) কুরআনের এক তৃতীয়াংশ বলে ঘোষণা দিয়েছেন এবং তা রাত্রে পড়ার জন্য সকলকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। (বুখারী তাওহীদ অধ্যায়, ফাযায়েলে কুরআন 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' পরিচ্ছেদ) এক সাহাবী (রাঃ) নামাযের প্রতি রাকআতে অন্যান্য সূরার সাথে এই সূরাটিকেও নিয়মিত পড়তেন। এ ব্যাপারে নবী (সাঃ) তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, আমি ঐ সূরাটিকে ভালোবাসি। এর ফলে নবী (সাঃ) তাকে বললেন, "ঐ সূরার প্রতি তোমার ভালোবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। (বুখারী তাওহীদ অধ্যায়,আযান অধ্যায়, দুটি সূরাকে একই রাকআতে জমা করে পড়ার পরিচ্ছেদ, মুসলিম শরীফ মুসাফিরীনদের নামায অধ্যায়) এই সূরাটির অবতীর্ণের কারণ হিসাবে বলা হয় যে, মক্কার মুশরিকরা যখন নবী (সাঃ)- কে বলল, হে মুহাম্মাদ! তোমার রবের বংশতালিকা বর্ণনা কর। তখন তার জওয়াবে মহান আল্লাহ এই সূরাটি অবতীর্ণ করেন। (মুসনাদে আহমাদ ৫/১৩৩-১৩৪ নং)


_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_

                    ফজিলত      

কোনো এক যুদ্ধের সেনাপতি জামাআতে নামাজ পড়ার সময় সুরা ইখলাস দিয়ে নামাজ পড়ান। যুদ্ধ থেকে ফিরে সৈন্যরা বিষয়টি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তা অবহিত করেন। তিনি তাদের বললেন, তোমরা তাকে জিজ্ঞাসা কর কেন সে এরূপ করেছে। তখন সে সেনাপতি জানান, এ সুরায় আল্লহার গুণাবলী বর্ণিত হয়েছে বিধায় আমি এ সুরাকে ভালোবাসি। বিষয়টি জানার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিদের জানান, 'তোমরা তাকে গিয়ে বলো, আল্লাহও তাকে ভালোবাসেন। (বুখারি, মুসলিম, নাসাঈ) একবার এক সাহাবা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি সুরা ইখলাসকে ভালোবাসি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বলেন, এ ভালোবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। (বুখারি, তিরমিজি)

•রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন ২০০ বার সুরা ইখলাস পড়বে, তার ৫০ বছরের গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। তবে ঋণগ্রস্ত হলে তা ক্ষমা হবে না।' (তিরমিজি)

•হজরত সাহল ইবন সাদ সায়েদি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে দারিদ্র্যতার অভিযোগ করল তিনি বললেন, যখন তুমি ঘরে যাও তখন সালাম দেবে এবং একবার সুরা ইখলাস পড়বে। এ আমল করার ফলে কিছু দিনের মধ্যে তার দারিদ্র্যতা দূর হয়ে যায়। (তাফসিরে কুরতুবি)

•হজরত ওকবা ইবনে আমের বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল (স.) বলেন, আমি তোমাদেরকে এমন তিনটি সূরা বলছি, যা তওরাত, ইঞ্জিল, জবুর এবং কোরআন সব কিতাবেই অবতীর্ণ হযেছে। রাতে তোমরা ততক্ষণ নিদ্রা যেয়ো না, যতক্ষণ সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস না পাঠ কর। ওকবা বলেন, সেদিন থেকে আমি কখনও এ আমল পরিত্যাগ করিনি (ইবনে কাসীর)

•রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পাঠ করে তা তাকে বালা-মসিবত থেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট হয়। (ইবনে কাসির) •রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে সুরা ইখলাস তেলাওয়াত করতে শুনলেন। তিনি বললেন, এটা তার অধিকার। সাহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন, তার অধিকার কী? তিনি উত্তরে বললেন- তার অধিকার হচ্ছে জান্নাত। (মুসনাদে আহমাদ)

•হজরত আবু হোরাইরা (রা.) বর্ণনা করেন, একবার আল্লাহর রাসূল (স.) বললেন, তোমরা সবাই একত্রিত হয়ে যাও। আমি তোমাদেরকে কোরআনের তিনভাগের একভাগ শুনাব। অতঃপর যাদের পক্ষে সম্ভব ছিল তারা একত্রিত হয়ে গেলে তিনি আগমন করলেন এবং সূরা ইখলাস পাট করে শুনালেন। তিনি আরও বললেন, এ সূরাটি কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান (মুসলিম ও তিরমিজী)। 


বিঃদ্রঃ কোনো ভুল হলে কমেন্টে জানাবেন সঠিক করবো ইনশাআল্লাহ। 


ট্যাগঃ সূরা ইখলাস এর আরবি ইংরেজি বাংলা অনুবাদ অর্থ উচ্চারণ সহ শানে নুযুল ও ফজিলত Nuul and Fazilat with Arabic Bengali translation of Surah Ikhlas | সূরা ইখলাস বাংলা, সূরা ইখলাস এর তাফসীর, সূরা ইখলাসের ফজিলত, সূরা ইখলাস বাংলা উচ্চারণ, সূরা ইখলাস এর বাংলা অর্থ, কুলহু সুরা, ইখলাস সূরা, সূরা ইখলাস বাংলা অর্থসহ।

0/Post a Comment/Comments

Previous Post Next Post
আমাদের ফেসবুক পেইজে যুক্ত হতে ক্লিক করুন
chrome-extension://oilhmgfpengfpkkliokdbjjhiikehfoo/img/semstorm-32.png