জীবন থেকে নেয়া movie review | জীবন থেকে নেয়া review

 
জীবন থেকে নেয়া movie review | জীবন থেকে নেয়া review

জীবন থেকে নেয়া movie review | জীবন থেকে নেয়া review

জীবন থেকে নেয়া movie review 


Segment Name : Movie Review

Movie Name : "জীবন থেকে নেয়া ( জহির রায়হান)"

★পরিচালক : জহির রায়হান

★প্রযােজক  : জহির রায়হান

★প্রযােজনা  : সিনে ওয়ার্কশপ গােষ্ঠী

★পরিবেশক : আনিস ফিল্মস।


★মুক্তির তারিখ : ১০ এপ্রিল, ১৯৭০

★ফরম্যাট : ৩৫ মি.মি.

★রং : সাদা-কালো

★দৈর্ঘ্য : ২ ঘন্টা

★দেশ : পূর্ব পাকিস্তান

★ভাষা : বাংলা


★আইডিএম রেটিং   : ৯.৩/১০

★পারসোনাল রেটিং : ১০/১০


★প্রধান অভিনেতা-অভিনেত্রী(চরিত্রের নাম) :-

১)সুচন্দা (বিথী)

২)রাজ্জাক (ফারুক)

৩)রােজী সামাদ (সাথী)

৪)শওকত আকবর (আনিস)

৫)রওশন জামিল (আপা)

৬)খান আতাউর রহমান (দুলাভাই)

৭)আনােয়ার হােসেন (আনােয়ার)

৮)আমজাদ হােসেন (মধু)

৯)বেবী জামান (ঘটক)


★প্রধান কলাকুশলী :-

১)চিত্রনাট্য : জহির রায়হান

২) সংলাপ  : আমজাদ হােসেন

৩) সঙ্গীত পরিচালক : খান আতাউর রহমান

৪) সুরকার : আলতাফ মাহমুদ

৫) গীতিকার : মুহাম্মদ ইকবাল, খান আতাউর রহমান,আবদুল গাফফার চৌধুরী, কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।


★মুভিটিতে যে স্লোগানটি মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে :-

"একটি দেশ

একটি সংসার 

একটি চাবির গােছা

একটি আন্দোলন

একটি চলচ্চিত্র..."


★মুভির অন্তর্ভুক্ত গান :-

১)আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানাে

২)এ খাঁচা ভাঙব আমি কেমন করে

৩)আমার সােনার বাংলা


মুভি রিভিউ :-

★ছবিটি যখন মুক্তি পায়, তখন সালটা ছিল ১৯৭০। বাংলাদেশ তখনও স্বাধীন হয় নি। সামরিক বাহিনী শাসিত পাকিস্তানের প্রদেশ পূর্ব পাকিস্তানের উপর ছিল কড়া রকম সেন্সরশিপ। সেরকম ভীতিকর একটা পরিবেশে দুঃসাহসী এক কাজ করে ফেললেন জহির রায়হান- বানিয়ে বসলেন দুর্দান্ত এক পলিটিকাল সাটায়ার ফিল্ম। নাম দিলেন "জীবন থেকে নেওয়া"।রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রান্তে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, মেধাবী চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখক জহির রায়হান তার শেষ কাহিনীচিত্র "জীবন থেকে নেয়া" তৈরি করেছিলেন।


★তিনি পাকিস্তানি শাসকের স্বৈরতন্ত্রকে একজন মহিলা (রওশান জামিল) রূপে চিত্রিত করতে চেয়েছিলেন, যিনি তার স্বামী (খান আতাউর রহমান), দুই ভাই ফারুক (রাজ্জাক) এবং আনিস (শওকত আকবর) এবং তাদের আরও ভাল অংশ সাথী (রোজী  সামাদ) কে জোরালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন বিথী (সুচন্দা)। 


★চলচ্চিত্র নির্মাতার দ্বারা যে পারিবারিক ঘটনাকে হাসিখুশিভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তিনি পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে বাঙালি জনগণের বিপ্লবকে একজন কর্মী আনোয়ার হোসেনের দৃষ্টিভঙ্গিতেও চিত্রিত করেছিলেন। খুব শীঘ্রই, পরিবার যখন কোনও ফারুকের স্ত্রীকে (সুচন্দা) বিষাক্ত করছে, তখন পরিবার একটি দ্বিধায় পড়েছে। পরিবারের প্রধান সাথী (রোজী সামাদ) কে অপরাধী হিসাবে অভিযুক্ত করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তারপরে, মুভিটি একটি হাসিখুশি তবে শেখার অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে কোর্টরুম থ্রিলারে পরিণত হয়েছিল। সিনেমাটির শেষে ঘটনার পিছনে আসল অপরাধী প্রকাশ পেয়েছে।


★এ সিনেমাটিতে মূলত সাধারণ এক পারিবারিক গল্পের আড়ালে এক রাষ্ট্রের গল্পই বলা হয়েছিল। বলা হয়েছিল পূর্ব বাংলার মানুষের অধিকার এবং সংগ্রামের কথা। তাই এ সিমেটিকে সবাই আমাদের মুক্তির আন্দোলনেরই একটা বড় অংশ হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন। এ সিনেমাতেই অমর একুশের 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানাে একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি' গানটি যেমন ছিল ঠিক তেমনি নজরুলের "কারার এ লৌহ কপাট" গানটিও ব্যবহৃত হয়েছিল। ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান সরকার হাস্যকরভাবে রেডিও টিভিতে রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রচার নিষিদ্ধ করে দেয়। এর মাত্র কিছু বছরের মাথাতেই জহির রায়হান তার সিমেটিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "আমার সােনার বাংলা" গানটিকে প্রথম বারের মত কোন সিনেমায় ব্যবহার করেন। মুক্তিযুদ্ধের পর এ গানটিই বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা পায়।


★জহির রায়হানের অসাধারন গল্প আর নির্দেশনা ষোলকলা পূর্ণ হয়েছে কলাকুশলীদের অভিনয়ের গুণে। রাজ্জাক, সুচন্দা, আমজাদ হোসেন, আনোয়ার হোসেন, রোজী সামাদ, রওশন জামিল, খান আতাউর রহমান- সেই যুগের প্রায় সব সেরা শিল্পীরাই ছিলেন এই ছবিতে। গল্প, গান, অভিনয়- সবদিক দিয়েই মাইলফলক সৃষ্টি করে ছবিটি। সেন্সরশিপকে ফাঁকি দিয়ে এক অনন্য প্রতিবাদের দৃষ্টান্ত এই ছবিটি সবার অবশ্যই দেখা উচিত।

Tag:জীবন থেকে নেয়া movie review, জীবন থেকে নেয়া review

0/Post a Comment/Comments

Previous Post Next Post
chrome-extension://oilhmgfpengfpkkliokdbjjhiikehfoo/img/semstorm-32.png