সূরা আত তওবা বাংলা উচ্চারণ | সূরা আত তাওবা আয়াত ৬১,১১৯,৫,৮২

সূরা আত তওবা বাংলা উচ্চারণ | সূরা আত তাওবা আয়াত ৬১,১১৯,৫,৮২

 

সূরা তাওবা বাংলা অনুবাদ , সূরা আত তাওবা বাংলা উচ্চারণ, সূরা আত তাওবা আয়াত ৬১, সূরা আত তাওবা আয়াত ১১৯ ,সূরা আত  তাওবা  আয়াত ৫ ,সূরা আত  তাওবা আয়াত ৮২


    সূরা তাওবা বাংলা অনুবাদ

    প্রিয় পাঠকবৃন্দ টাইম অফ বিডি এর পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে জানাই শুভেচ্ছা ও সালাম আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতু।কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই আলহামদুলিল্লাহ ভাল আছেন আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি । আপনারা অনেকেই হয়তো বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় সূরা আত তাওবা বিভিন্ন আয়াতগুলো খুঁজছেন। আর তাই আজকে আমরা আমাদের পোষ্ট টি তৈরি করেছে আমাদের এই পোস্টটা আজকের সূরা আত তাওবা সম্পর্কে যা যা থাকছেঃ সেগুলো হলোসূরা তাওবা বাংলা অনুবাদ , সূরা আত তাওবা বাংলা উচ্চারণ, সূরা আত তাওবা আয়াত ৬১, সূরা আত তাওবা আয়াত ১১৯ ,সূরা আত তাওবা আয়াত ৫ ,সূরা আত তাওবা আয়াত ৮২।
    আশা করি আপনারা পুরো পোস্টটি ধৈর্য্য সহকারে পড়বেন এবং সঠিক তথ্যটি পাবেন।

     সূরা আত তাওবা বাংলা উচ্চারণ

    সুরা নং- ০০৯ : আত-তাওবাহ(প্রথম খন্ড) (০১-২৫)

    "অনুশোচনা"


    بَرَاءَةٌ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ إِلَى الَّذِينَ عَاهَدْتُمْ مِنَ الْمُشْرِكِين9.1


    আরবি উচ্চারণ

    ৯.১। বারা-য়াতুম্ মিনাল্লা-হি অরসূলিহী য় ইলাল্লাযীনা ‘আহাত্তুম্ মিনাল্ মুশ্রিকীন্।


    বাংলা অনুবাদ

    ৯.১ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা মুশরিকদের মধ্য থেকে সে সব লোকের প্রতি, যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলে।


    فَسِيحُوا فِي الْأَرْضِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَاعْلَمُوا أَنَّكُمْ غَيْرُ مُعْجِزِي اللَّهِ وَأَنَّ اللَّهَ مُخْزِي الْكَافِرِينَ9.2


    আরবি উচ্চারণ

    ৯.২। ফাসীহূ ফিল্ র্আদ্বি র্আবা‘আতা আশ্হুরিঁও অ’লামূ য় আন্নাকুম্ গইরু মু’জ্বিযিল্লা-হি অআন্নাল্লা-হামুখ্যিল্ কা-ফিরীন্।


    বাংলা অনুবাদ

    ৯.২ সুতরাং তোমরা যমীনে বিচরণ কর চার মাস, আর জেনে রাখ, তোমরা আল্লাহকে অক্ষম করতে পারবে না, আর নিশ্চয় আল্লাহ কাফিরদেরকে অপদস্থকারী।


    وَأَذَانٌ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ إِلَى النَّاسِ يَوْمَ الْحَجِّ الْأَكْبَرِ أَنَّ اللَّهَ بَرِيءٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ وَرَسُولُهُ فَإِنْ تُبْتُمْ فَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ وَإِنْ تَوَلَّيْتُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّكُمْ غَيْرُ مُعْجِزِي اللَّهِ وَبَشِّرِ الَّذِينَ كَفَرُوا بِعَذَابٍ أَلِيمٍ9.3


    আরবি উচ্চারণ

    ৯.৩। অআযা-নুম্ মিনাল্লা-হি অরসূলিহী য় ইলান্ না-সি ইয়াওমাল্ হাজ্জ্বিল্ আক্বারি আন্নাল্লা-হা বারী - য়ুম্ মিনাল্ মুশ্রিকীনা অ রসূলুহ্; ফাইন্ তুব্তুম্ ফাহুঅ খাইরুল্লাকুম্ অইন্ তাওয়াল্লাইতুম্ ফা’লামূ য় আন্নাকুম্ গাইরু মু’জ্বিযি ল্লা-হ্; অবাশ্শিরিল্লাযীনা কাফারূ বি‘আযা-বিন্ আলীম্।


    বাংলা অনুবাদ

    ৯.৩ আর মহান হজ্জের দিন মানুষের প্রতি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে ঘোষণা, নিশ্চয় আল্লাহ মুশরিকদের থেকে দায়মুক্ত এবং তাঁর রাসূলও। অতএব, যদি তোমরা তাওবা কর, তাহলে তা তোমাদের জন্য উত্তম। আর যদি তোমরা ফিরে যাও, তাহলে জেনে রাখ, তোমরা আল্লাহকে অক্ষম করতে পারবে না। আর যারা কুফরী করেছে, তাদের তুমি যন্ত্রণাদায়ক আযাবের সুসংবাদ দাও।


    إِلَّا الَّذِينَ عَاهَدْتُمْ مِنَ الْمُشْرِكِينَ ثُمَّ لَمْ يَنْقُصُوكُمْ شَيْئًا وَلَمْ يُظَاهِرُوا عَلَيْكُمْ أَحَدًا فَأَتِمُّوا إِلَيْهِمْ عَهْدَهُمْ إِلَى مُدَّتِهِمْ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ9.4


    আরবি উচ্চারণ

    ৯.৪। ইল্লাল্লাযীনা ‘আ-হাত্তুম্ মিনাল্ মুশ্রিকীনা ছুম্মা লাম্ ইয়ান্ক্ব ুছূকুম্ শাইয়াঁও অলাম্ ইয়ুজোয়া-হিরূ ‘আলাইকুম্ আহাদান্ ফাআতিম্মূ য় ইলাইহিম্ ‘আহ্দাহুম্ ইলা-মুদ্দাতিহিম্ ইন্নাল্লা-হা ইয়ুহিব্বুল্ মুত্তাক্বীন্।


    বাংলা অনুবাদ

    ৯.৪ তবে মুশরিকদের মধ্য থেকে যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছ, অতঃপর তারা তোমাদের সাথে কোন ত্র“টি করেনি এবং তোমাদের বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্য করেনি, তোমরা তাদেরকে দেয়া চুক্তি তাদের নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত পূর্ণ কর। নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকীদের ভালবাসেন।


    فَإِذَا انْسَلَخَ الْأَشْهُرُ الْحُرُمُ فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدْتُمُوهُمْ وَخُذُوهُمْ وَاحْصُرُوهُمْ وَاقْعُدُوا لَهُمْ كُلَّ مَرْصَدٍ فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ 9.5


    আরবি উচ্চারণ

    ৯.৫। ফাইযান্ সালাখাল্ আশ্হুরুল্ হুরুমু ফাক্বতুলুল্ মুশ্রিকীনা হাইছু অজ্বাত্তুমূ হুম্ অখুযূহুম্ ওয়াহ্ছুরূহুম্ অক্বউ’দূ লাহুম্ কুল্লা র্মাছোয়াদিন্ ফাইন্ তা-বূ অআক্বা-মুছ্ ছলা-তা অ আ-তাউয্ যাকা-তা ফাখাল্লূ সাবীলাহুম্; ইন্নাল্লা-হা গফূর্রু রহীম্।


    বাংলা অনুবাদ

    ৯.৫ অতঃপর যখন নিষিদ্ধ মাসগুলো অতিবাহিত হয়ে যাবে, তখন তোমরা মুশরিকদেরকে যেখানেই পাও হত্যা কর এবং তাদেরকে পাকড়াও কর, তাদেরকে অবরোধ কর এবং তাদের জন্য প্রতিটি ঘাঁটিতে বসে থাক। তবে যদি তারা তাওবা করে এবং সালাত কায়েম করে, আর যাকাত দেয়, তাহলে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।


    وَإِنْ أَحَدٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَّى يَسْمَعَ كَلَامَ اللَّهِ ثُمَّ أَبْلِغْهُ مَأْمَنَهُ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَا يَعْلَمُونَ9.6


    আরবি উচ্চারণ

    ৯.৬। অইন্ আহাদুম্ মিনাল্ মুশ্রিকী নাস্ তাজ্বা-রাকা ফাআর্জ্বিহু হাত্তা- ইয়াস্মা‘আ কালা-মাল্লা-হি ছুম্মা আব্লিগ্হু মামানাহ্; যা-লিকা বিআন্নাহুম্ ক্বওমুল্লা-ইয়া’লামূন্।


    বাংলা অনুবাদ

    ৯.৬ আর যদি মুশরিকদের কেউ তোমার কাছে আশ্রয় চায়, তাহলে তাকে আশ্রয় দাও, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনে, অতঃপর তাকে পৌঁছিয়ে দাও তার নিরাপদ স্থানে। তা এই জন্য যে, তারা এমন এক কওম, যারা জানে না।


    كَيْفَ يَكُونُ لِلْمُشْرِكِينَ عَهْدٌ عِنْدَ اللَّهِ وَعِنْدَ رَسُولِهِ إِلَّا الَّذِينَ عَاهَدْتُمْ عِنْدَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ فَمَا اسْتَقَامُوا لَكُمْ فَاسْتَقِيمُوا لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِين 9.7


    আরবি উচ্চারণ

    ৯.৭। কাইফা ইয়াকূনু লিল্মুশ্রিক্বীনা ‘আহ্দুন্ ‘ইন্দাল্লা-হি অ‘ইন্দা রসূলিহী য় ইল্লাল্লাযীনা ‘আ-হাত্তুম্ ‘ইন্দাল্ মাস্জ্বিদিল্ হার-মি ফামাস্ তাক্ব-মূ লাকুম্ ফাস্তাক্বীমূ লাহুম্; ইন্নাল্লা-হা ইয়ুহিব্বুল্ মুত্তাকীন্।


    বাংলা অনুবাদ

    ৯.৭ কীভাবে মুশরিকদের জন্য অঙ্গীকার থাকবে আল্লাহর কাছে ও তাঁর রাসূলের কাছে? অবশ্য যাদের সাথে মসজিদে হারামে তোমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছ তাদের কথা আলাদা। অতএব যতক্ষণ তারা তোমাদের জন্য ঠিক থাকে, ততক্ষণ তোমরাও তাদের জন্য ঠিক থাক। নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকীদের ভালবাসেন।


    كَيْفَ وَإِنْ يَظْهَرُوا عَلَيْكُمْ لَا يَرْقُبُوا فِيكُمْ إِلًّا وَلَا ذِمَّةً يُرْضُونَكُمْ بِأَفْوَاهِهِمْ وَتَأْبَى قُلُوبُهُمْ وَأَكْثَرُهُمْ فَاسِقُونَ 9.8


    আরবি উচ্চারণ

    ৯.৮। কাইফা অ ইঁ ইয়াজ্হারূ ‘আলাইকুম্ লা-ইর্য়াকুবূ ফীকুম্ ইল্লাঁও অলা-যিম্মাহ্; ইর্য়ুদ্বুনাকুম্ বিআফ্ওয়া-হিহিম্ অ তাবা-কুলূবুহুম্ অ আক্ছারুহুম্ ফা-সিকুন্।


    বাংলা অনুবাদ

    ৯.৮ কীভাবে থাকবে (মুশরিকদের জন্য অঙ্গীকার)? অথচ তারা যদি তোমাদের উপর জয়ী হয়, তাহলে তারা তোমাদের আত্মীয়তা ও অঙ্গীকারের ব্যাপারে লক্ষ্য রাখে না। তারা তাদের মুখের (কথা) দ্বারা তোমাদেরকে সন্তুষ্ট করে, কিন্তু তাদের অন্তর তা অস্বীকার করে। আর তাদের অধিকাংশ ফাসিক।


    اشْتَرَوْا بِآيَاتِ اللَّهِ ثَمَنًا قَلِيلًا فَصَدُّوا عَنْ سَبِيلِهِ إِنَّهُمْ سَاءَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ9.9


    আরবি উচ্চারণ

    ৯.৯। ইশ্তারাও বিআ-ইয়া-তি ল্লা-হি ছামানান্ ক্বালীলান্ ফাছোয়াদ্দূ ‘আন্ সাবীলিহ্; ইন্নাহুম্ সা - য়া মা-কা-নূ ইয়া’মালূন্।


    বাংলা অনুবাদ

    ৯.৯ তারা আল্লাহর আয়াতসমূহের বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য খরিদ করে নিয়েছে। ফলত তারা তাঁর পথে বাধা দিয়েছে, নিশ্চয় তারা যে কাজ করত তা কতই না মন্দ!


    لَا يَرْقُبُونَ فِي مُؤْمِنٍ إِلًّا وَلَا ذِمَّةً وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُعْتَدُونَ9.10


    আরবি উচ্চারণ

    ৯.১০। লা-ইর্য়াকুবূনা ফী মু”মিনিন্ ইল্লাওঁ অলা-যিম্মাহ্; অউলা - য়িকা হুমুল্ মু’তাদূন্।


    বাংলা অনুবাদ

    ৯.১০ তারা কোন মুমিনের ব্যাপারে আত্মীয়তা ও অঙ্গীকারের খেয়াল রাখে না। আর তারাই হল সীমালঙ্ঘনকারী।


    فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ وَنُفَصِّلُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ9.11


    আরবি উচ্চারণ

    ৯.১১। ফাইন্ তা-বূ অআক্ব-মুছ্ ছলা-তা অ আ-তায়ুয্ যাকা-তা ফাইখ্ওয়া-নুকুম্ ফিদ্দীন্; অনুফাছ্ছিলুল্ আ-ইয়া-তি লিক্বওমিঁই ইয়া’লামূন্।


    বাংলা অনুবাদ

    ৯.১১ অতএব যদি তারা তাওবা করে, সালাত কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে, তবে দীনের মধ্যে তারা তোমাদের ভাই। আর আমি আয়াতসমূহ যথাযথভাবে বর্ণনা করি এমন কওমের জন্য যারা জানে।


    وَإِنْ نَكَثُوا أَيْمَانَهُمْ مِنْ بَعْدِ عَهْدِهِمْ وَطَعَنُوا فِي دِينِكُمْ فَقَاتِلُوا أَئِمَّةَ الْكُفْرِ إِنَّهُمْ لَا أَيْمَانَ لَهُمْ لَعَلَّهُمْ يَنْتَهُونَ 9.12


    আরবি উচ্চারণ

    ৯.১২। অইন্ নাকাছূ য় আইমা-নাহুম্ মিম্ বা’দি ‘আহ্দিহিম্ অ ত্বোয়া‘আনূ ফী দীনিকুম্ ফাক্ব-তিলূ য় আয়িম্মাতাল্ কুফ্রি ইন্নাহুম্ লা য় আইমা-না লাহুম্ লা‘আল্লাহুম্ ইয়ান্তাহূন্।


    বাংলা অনুবাদ

    ৯.১২ আর যদি তারা তাদের অঙ্গীকারের পর তাদের কসম ভঙ্গ করে এবং তোমাদের দীন সম্পর্কে কটূক্তি করে, তাহলে তোমরা কুফরের নেতাদের বিরুদ্ধে লড়াই কর, নিশ্চয় তাদের কোন কসম নেই, যেন তারা বিরত হয়।


    أَلَا تُقَاتِلُونَ قَوْمًا نَكَثُوا أَيْمَانَهُمْ وَهَمُّوا بِإِخْرَاجِ الرَّسُولِ وَهُمْ بَدَءُوكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ أَتَخْشَوْنَهُمْ فَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ تَخْشَوْهُ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ9.13


    আরবি উচ্চারণ

    ৯.১৩। আলা-তুক্ব-তিলূনা ক্বওমান্নাকাছূ য় আইমা-নাহুম্ অহাম্মূ বিইখ্র-র্জ্বি রাসূলি অহুম্ বাদায়ূ কুম্ আওওয়ালা র্মারাহ্; আতাখ্শাওনাহুম্ ফাল্লা-হু আহাক্বকু আন্ তাখ্শাওহু ইন্ কুন্তুম্ মুমিনীন্।


    বাংলা অনুবাদ

    ৯.১৩ তোমরা কেন এমন কওমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর না, যারা তাদের কসম ভঙ্গ করেছে এবং রাসূলকে বহিষ্কার করার ইচ্ছা পোষণ করেছে, আর তারাই প্রথমে তোমাদের সাথে আরম্ভ করেছে। তোমরা কি তাদেরকে ভয় করছ? অথচ আল্লাহ অধিক উপযুক্ত যে, তোমরা তাঁকে ভয় করবে, যদি তোমরা মুমিন হও।


    قَاتِلُوهُمْ يُعَذِّبْهُمُ اللَّهُ بِأَيْدِيكُمْ وَيُخْزِهِمْ وَيَنْصُرْكُمْ عَلَيْهِمْ وَيَشْفِ صُدُورَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ9.14


    আরবি উচ্চারণ

    ৯.১৪। ক্ব-তিলূহুম্ ইয়ু‘আয্যিব্হুমুল্লা-হু বিআইদীকুম্ অইয়ুখ্যিহিম্ অইয়ার্ন্ছুকুম্ ‘আলাইহিম্ অইয়াশ্ফি ছুদূরা ক্বওমিম্ মু”মিনীন্।


    বাংলা অনুবাদ

    ৯.১৪ তোমরা তাদের সাথে লড়াই কর, আল্লাহ তোমাদের হাতে তাদেরকে আযাব দেবেন এবং তাদেরকে অপদস্থ করবেন, আর তোমাদেরকে তাদের বিরুদ্ধে সাহায্য করবেন এবং মুমিন কওমের অন্তরসমূহকে চিন্তামুক্ত করবেন।


    وَيُذْهِبْ غَيْظَ قُلُوبِهِمْ وَيَتُوبُ اللَّهُ عَلَى مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ 9.15


    আরবি উচ্চারণ

    ৯.১৫। অইয়ুয্হিব্ গইজোয়া কুলূ বিহিম্; অইয়াতূবুল্লা-হু ‘আলা- মাইঁ ইয়াশা - য়্; অল্লা-হু ‘আলীমুন্ হাকীম্।


    বাংলা অনুবাদ

    ৯.১৫ আর তাদের অন্তরসমূহের ক্রোধ দূর করবেন এবং আল্লাহ যাকে চান তার তাওবা কবুল করেন। আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।


    أَمْ حَسِبْتُمْ أَنْ تُتْرَكُوا وَلَمَّا يَعْلَمِ اللَّهُ الَّذِينَ جَاهَدُوا مِنْكُمْ وَلَمْ يَتَّخِذُوا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلَا رَسُولِهِ وَلَا الْمُؤْمِنِينَ وَلِيجَةً وَاللَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ9.16


    আরবি উচ্চারণ

    ৯.১৬। আম্ হাসিব্তুম্ আন্ তুত্রাকূ অলাম্মা- ইয়া’লামিল্লা-হু ল্লাযীনা জ্বা-হাদূ মিন্কুম্ অলাম্ ইয়াত্তাখিযূ মিন্ দূনিল্লা-হি অলা-রসূলিহী অলাল্ মুমিনীনা অলীজ্বাহ্; অল্লা-হু খবীরুম্ বিমা-তা’মালূন্।


    বাংলা অনুবাদ

    ৯.১৬ তোমরা কি মনে করেছ যে, তোমাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে? অথচ এখনও আল্লাহ যাচাই করেননি যে, তোমাদের মধ্যে কারা জিহাদ করেছে এবং কারা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনগণ ছাড়া কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেনি। আর তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত।


    مَا كَانَ لِلْمُشْرِكِينَ أَنْ يَعْمُرُوا مَسَاجِدَ اللَّهِ شَاهِدِينَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ بِالْكُفْرِ أُولَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ وَفِي النَّارِ هُمْ خَالِدُونَ9.17


    আরবি উচ্চারণ

    ৯.১৭। মা-কা-না লিল্মুশ্রিকীনা আঁই ইয়া’মুরূ মাসা-জ্বিদাল্লা-হি শা-হিদীনা ‘আলা য় আন্ফুসিহিম্ বিল্কুফ্র্; উলা - য়িকা হাবিত্বোয়াত্ আ’মা-লুহুম্ অফিন্না-রি হুম্ খ-লিদূন্।


    বাংলা অনুবাদ

    ৯.১৭ মুশরিকদের অধিকার নেই যে, তারা আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করবে, নিজদের উপর কুফরীর সাক্ষ্য দেয়া অবস্থায়। এদেরই আমলসমূহ বরবাদ হয়েছে এবং আগুনেই তারা স্থায়ী হবে।


    إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَلَمْ يَخْشَ إِلَّا اللَّهَ فَعَسَى أُولَئِكَ أَنْ يَكُونُوا مِنَ الْمُهْتَدِينَ9.18


    আরবি উচ্চারণ

    ৯.১৮। ইন্নামা- ইয়া”মুরু মাসা-জ্বিদাল্লা-হি মান্ আ-মানা বিল্লা-হি অল্ইয়াওমিল্ আ-খিরি অ আক্বা-মাছ্ ছলা-তা অআ-তা য্ যাকা-তা অ লাম্ ইয়াখ্শা ইল্লাল্লা-হা ফা‘আসা য় উলা - য়িকা আঁই ইয়াকূনূ মিনাল্ মুহ্তাদীন্।


    বাংলা অনুবাদ

    ৯.১৮ একমাত্র তারাই আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করবে, যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সালাত কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করে না। আশা করা যায়, ওরা হিদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।


    أَجَعَلْتُمْ سِقَايَةَ الْحَاجِّ وَعِمَارَةَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ كَمَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَجَاهَدَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ لَا يَسْتَوُونَ عِنْدَ اللَّهِ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ9.19


    আরবি উচ্চারণ

    ৯.১৯। আজ্বা‘আল্তুম্ সিক্বা-ইয়াতাল্ হা - জ্জ্বি অ ‘ইমা-রতাল্ মাস্জ্বিদিল্ হারা-মি কামান্ আ-মানা বিল্লা-হি অল্ ইয়াওমিল্ আ-খিরি অজ্বা-হাদা ফী সাবীলিল্লা-হ্; লা-ইয়াস্তায়ূনা ‘ইন্দাল্লা-হ্; অল্লা-হু লা-ইয়াহ্ দিল্ ক্বওমাজ্জোয়া-লিমীন্।


    বাংলা অনুবাদ

    ৯.১৯ তোমরা কি হাজীদের পানি পান করান ও মসজিদুল হারাম আবাদ করাকে ঐ ব্যক্তির মত বিবেচনা কর, যে আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান এনেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে। তারা আল্লাহর কাছে বরাবর নয়। আর আল্লাহ যালিম কওমকে হিদায়াত দেন না।


    الَّذِينَ آمَنُوا وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ أَعْظَمُ دَرَجَةً عِنْدَ اللَّهِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ9.20


    আরবি উচ্চারণ

    ৯.২০। আল্লাযীনা আ-মানূ অহা-জ্বারূ অজ্বা-হাদূ ফী সাবীলিল্লা-হি বিআম্ওয়া-লিহিম্ অআন্ফুসিহিম্ আ’জোয়ামু দারাজ্বাতান্ ‘ইন্দাল্লা-হ্; অউলা - য়িকা হুমুল্ ফা - য়িযূন্।


    বাংলা অনুবাদ

    ৯.২০ যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে, আর আল্লাহর পথে নিজদের মাল ও জান দিয়ে জিহাদ করেছে, আল্লাহর কাছে তারা বড়ই মর্যাদাবান আর তারাই সফলকাম।


    يُبَشِّرُهُمْ رَبُّهُمْ بِرَحْمَةٍ مِنْهُ وَرِضْوَانٍ وَجَنَّاتٍ لَهُمْ فِيهَا نَعِيمٌ مُقِيمٌ 9.21


    আরবি উচ্চারণ

    ৯.২১। ইয়ুবাশ্শিরুহুম্ রব্বুহুম্ বিরহ্মাতিম্ মিন্হু অরিদ্ব্ওয়া-নিওঁ অজ্বান্না-তিল্ লাহুম্ ফীহা-না‘ঈমুম্ মুক্বীম্।


    বাংলা অনুবাদ

    ৯.২১ তাদের প্রতিপালক তাদেরকে নিজের পক্ষ থেকে সুসংবাদ দিচ্ছেন রহমত ও সন্তুষ্টির এবং এমন জান্নাতসমূহের যাতে রয়েছে তাদের জন্য স্থায়ী নিআমত।


    خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ أَجْرٌ عَظِيمٌ9.22


    আরবি উচ্চারণ

    ৯.২২। খ-লিদীনা ফীহা য় আবাদা-; ইন্নাল্লা-হা ‘ইন্দাহু য় আজরুন্ ‘আজীম্।


    বাংলা অনুবাদ

    ৯.২২ তথায় তারা থাকবে চিরকাল। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে রয়েছে মহাপুরস্কার।


    يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا آبَاءَكُمْ وَإِخْوَانَكُمْ أَوْلِيَاءَ إِنِ اسْتَحَبُّوا الْكُفْرَ عَلَى الْإِيمَانِ وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ9.23


    আরবি উচ্চারণ

    ৯.২৩। ইয়া য় আইয়্যুহাল্লাযীনা আ-মানূ লা-তাত্তাখিযূ য় আ-বা - য়াকুম্ অইখ্ওয়া-নাকুম্ আওলিয়া - য়া ইনিস্ তাহাব্বুল্ কুফ্রা ‘আলাল্ ঈমা-ন্; অমাইঁ ইয়াতাওয়াল্লাহুম্ মিন্কুম্ ফাউলা - য়িকা হুমুজ জোয়া-লিমূন্।


    বাংলা অনুবাদ

    ৯.২৩ হে ঈমানদারগণ, তোমরা নিজদের পিতা ও ভাইদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যদি তারা ঈমান অপেক্ষা কুফরীকে প্রিয় মনে করে। তোমাদের মধ্য থেকে যারা তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে তারাই যালিম।


    قُلْ إِنْ كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَالٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُمْ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ فَتَرَبَّصُوا حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ9.24


    আরবি উচ্চারণ

    ৯.২৪। কুল্ ইন্ কা-না আ-বা - য়ুকুম্ অ আব্না - য়ুকুম্ অ ইখ্ওয়া-নুকুম্ অ আয্ওয়া-জুকুম্ অ‘আশীরাতুকুম্ অ আম্ওয়া-লু নিক্ব তারাফ্তুমূহা-অ তিজ্বা-রাতুন্ তাখ্শাওনা কাসা-দাহা-অ মাসা-কিনু র্তাদ্বোয়াওনাহা য় আহাব্বা ইলাইকুম্ মিনাল্লা-হি অরসূলিহী অজ্বিহা-দিন্ ফী সাবীলিহী ফাতারব্বাছূ হাত্তা-ইয়াতিয়াল্লা-হু বিআম্রিহ্; অল্লা-হু লা-ইয়াহ্দিল্ ক্বওমাল্ ফা-সিক্বীন্।


    বাংলা অনুবাদ

    ৯.২৪ বল, ‘তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের গোত্র, তোমাদের সে সম্পদ যা তোমরা অর্জন করেছ, আর সে ব্যবসা যার মন্দা হওয়ার আশঙ্কা তোমরা করছ এবং সে বাসস্থান, যা তোমরা পছন্দ করছ, যদি তোমাদের কাছে অধিক প্রিয় হয় আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর পথে জিহাদ করার চেয়ে, তবে তোমরা অপেক্ষা কর আল্লাহ তাঁর নির্দেশ নিয়ে আসা পর্যন্ত’। আর আল্লাহ ফাসিক সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না।


    لَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّهُ فِي مَوَاطِنَ كَثِيرَةٍ وَيَوْمَ حُنَيْنٍ إِذْ أَعْجَبَتْكُمْ كَثْرَتُكُمْ فَلَمْ تُغْنِ عَنْكُمْ شَيْئًا وَضَاقَتْ عَلَيْكُمُ الْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ ثُمَّ وَلَّيْتُمْ مُدْبِرِينَ9.25


    আরবি উচ্চারণ

    ৯.২৫। লাক্বদ্ নাছোয়ারকুমু ল্লা-হু ফী মাওয়া-ত্বিনা- কাছীরতিঁও অইয়াওমা হুনাইনিন্ ইয্ আ’জ্বাবাত্কুম্ কাছ্রাতুকুম্ ফালাম্ তুগ্নি ‘আন্কুম্ শাইয়াঁও অ দ্বোয়া-ক্বাত্ ‘আলাইকুমুল্ র্আদ্বু বিমা-রাহুবাত্ ছুম্মা অল্লাইতুম্ মুদ্বিরীন্।


    বাংলা অনুবাদ

    ৯.২৫ অবশ্যই আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করেছেন বহু জায়গায় এবং হুনাইনের দিনে, যখন তোমাদের সংখ্যাধিক্য তোমাদেরকে উৎফুল্ল করেছিল, অথচ তা তোমাদের কোন কাজে আসেনি। আর যমীন প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তোমাদের উপর সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পলায়ন করেছিলে।

     সূরা আত তাওবা আয়াত ৬১

    সূরা আত-তাওবা ৬১ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন-


    وَ مِنۡهُمُ الَّذِیۡنَ یُؤۡذُوۡنَ النَّبِیَّ وَ یَقُوۡلُوۡنَ هُوَ اُذُنٌ ؕ قُلۡ اُذُنُ خَیۡرٍ لَّکُمۡ یُؤۡمِنُ بِاللّٰهِ وَ یُؤۡمِنُ لِلۡمُؤۡمِنِیۡنَ وَ رَحۡمَۃٌ لِّلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مِنۡکُمۡ ؕ وَ الَّذِیۡنَ یُؤۡذُوۡنَ رَسُوۡلَ اللّٰهِ لَهُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ﴿۶۱﴾ 


    তাদের মধ্যে এমন কতিপয় লোক আছে, যারা নবীকে কষ্ট দেয় এবং বলে, ‘সে প্রত্যেক কথায় কর্ণপাত করে থাকে।’ তুমি বলে দাও, ‘সে কর্ণপাত তো তোমাদের জন্য কল্যাণকর।(১) সে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন করে এবং মুমিনদের (কথাকে) বিশ্বাস করে। আর সে তোমাদের মধ্যে বিশ্বাসী লোকদের জন্য করুণাস্বরূপ। যারা আল্লাহর রসূলকে কষ্ট দেয় তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে।’ -সূরা আত-তাওবা (আয়াত-৬১)।


    (১)এখানে পুনরায় মুনাফিক্বদের কথা আলোচনা করা হচ্ছে। নবী (সাঃ)-এর বিরুদ্ধে এক অশালীন আচরণ প্রদর্শন করে বলতে লাগল যে, সে বড় কান-পাতলা! অর্থাৎ, সে প্রত্যেকের (প্রত্যেক) কথা শোনে (ও মেনে) নেয়। (সম্ভবতঃ নবী (সাঃ)-এর সহনশীলতা, দয়া, ক্ষমাশীলতা ও সৌজন্যমূলক ব্যবহার দেখে তাদের এ ব্যাপারে ধোকা হয়েছিল।) আল্লাহ তাআলা বললেন, না! আমার পয়গম্বর মন্দ ও অশান্তির কোন কথা শোনে না। যা শোনে তা তোমাদের জন্য মঙ্গলদায়ক এবং ভাল। (যেমন তোমরা মিথ্যা কসম খেয়ে ও মিথ্যা ওজর পেশ করে তার কাছে ক্ষমা চাইলে সে তোমাদের মুখের কথা শুনে ক্ষমা করে দেয়। আর এটা তোমাদের জন্য অবশ্যই উত্তম।) (তাফসীরে আহসানুল বায়ান)

     সূরা আত তাওবা আয়াত ১১৯ 

    ‘‘হে ঈমানদারগন,আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক" 

    (সূরা তাওবা আয়াত :১১৯)

    সূরা আত তাওবা আয়াত ৫ 

    সূরা আত-তাওবা ০৫ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন-


    فَاِذَا انۡسَلَخَ الۡاَشۡہُرُ الۡحُرُمُ فَاقۡتُلُوا الۡمُشۡرِکِیۡنَ حَیۡثُ وَجَدۡتُّمُوۡہُمۡ وَ خُذُوۡہُمۡ وَ احۡصُرُوۡہُمۡ وَ اقۡعُدُوۡا لَہُمۡ کُلَّ مَرۡصَدٍ ۚ فَاِنۡ تَابُوۡا وَ اَقَامُوا الصَّلٰوۃَ وَ اٰتَوُا الزَّکٰوۃَ فَخَلُّوۡا سَبِیۡلَہُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ﴿۵﴾


    অতঃপর নিষিদ্ধ মাসগুলি(১) অতিবাহিত হলে অংশীবাদীদেরকে যেখানে পাও হত্যা কর,(২) তাদেরকে বন্দী কর,(৩) অবরোধ কর এবং প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের জন্য ওঁৎ পেতে থাক।(৪) কিন্তু যদি তারা তওবা করে, যথাযথ নামায পড়ে ও যাকাত প্রদান করে, তাহলে তাদের পথ ছেড়ে দাও।(৫) নিশ্চয় আল্লাহ চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। -সূরা আত-তাওবা (আয়াত-০৫)।


    (১)সেই ‘নিষিদ্ধ মাসগুলি’ বলতে কোন্ কোন্ মাস উদ্দেশ্য তাতে মতভেদ রয়েছে। একটি রায় হল যে, তা থেকে উদ্দেশ্য হল ঐ চার মাস, যা হারাম (বা নিষিদ্ধ) বলে প্রসিদ্ধ; অর্থাৎ, রজব, যুলক্বাদ্, যুলহাজ্জ ও মুহাররাম মাস। আর সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা ১০ই যুলহজ্জ তারীখে করা হয়েছিল। এই হিসাবে তাদেরকে ঘোষণার পর ৫০ দিন অবকাশ দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ, নিষিদ্ধ মাসগুলি অতিবাহিত হওয়ার পর মুশরিকদেরকে গ্রেপ্তার ও হত্যা করার আদেশ জারী করা হয়। কিন্তু ইমাম ইবনে কাসীর বলেছেন যে, এখানে ‘নিষিদ্ধ মাসগুলি’ বলতে হারামকৃত ঐ চার মাস নয়; বরং এখানে ১০ই যিলহজ্জ থেকে ১০ই রবীউস সানী পর্যন্ত চার মাসকে বুঝানো হয়েছে। আর এই চার মাসকে নিষিদ্ধ মাস এই জন্য বলা হয়েছে যে, সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা হিসাবে এই চার মাসে সেই সব মুশরিকদের সাথে লড়াই ও তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুমতি ছিল না। সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা হিসাবে এই ব্যাখ্যা যথোপযুক্ত বলে মনে হয়। আর এ ব্যাপারে আল্লাহই অধিক জানেন।


    (২)কোন কোন মুফাসসিরগণ এই আদেশকে ব্যাপক বলে মনে করেছেন। অর্থাৎ, বৈধ ও নিষিদ্ধ যে জায়গাতেই পাও তাদেরকে হত্যা কর। আর কোন কোন মুফাসসিরগণ বলেন, উক্ত আদেশকে {وَلاَ تُقَاتِلُوهُمْ عِندَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ حَتَّى يُقَاتِلُوكُمْ فِيهِ فَإِن قَاتَلُوكُمْ فَاقْتُلُوهُمْ} ‘‘আর মাসজিদুল হারামের (কা’বা শরীফের) নিকট তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করো না; যতক্ষণ না তারা সেখানে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে। যদি তারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তাহলে তোমরা তাদেরকে হত্যা কর।’’ (সূরা বাকারাহ ১৯১ আয়াত) এই আয়াত দ্বারা সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। অর্থাৎ, কেবল হারাম শরীফের সীমানার বাইরে হত্যা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। (ইবনে কাসীর)


    (৩)অর্থাৎ, তাদেরকে বন্দী কর অথবা হত্যা কর।


    (৪)অর্থাৎ এটাই যথেষ্ট মনে করো না যে, তাদের সাথে তোমাদের সাক্ষাৎ হলে তোমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। বরং যেখানে যেখানে তাদের আশ্রয়স্থল, দুর্গ ও ঘাঁটি আছে সেখানে তাদের প্রতীক্ষায় থাকো; এমনকি তোমাদের অনুমতি ছাড়া তাদের যেন কোথাও যাওয়া-আসা পর্যন্ত সম্ভব না হয়।


    (৫)অর্থাৎ, তাদের বিরুদ্ধে কোন রকমের পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না। কেননা, তারা মুসলমান হয়ে গেছে। বুঝা গেল যে, ইসলাম গ্রহণ করার পর নামায কায়েম করা ও যাকাত প্রদান করা জরুরী। যদি কোন ব্যক্তি তার মধ্যে কোন একটি ত্যাগ করে, তাহলে তাকে মুসলিম ভাবা যাবে না। যেমন আবু বাকর সিদ্দীক (রাঃ) এই আয়াত থেকে দলীল গ্রহণ করে যাকাত আদায়ে অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছিলেন। আর বলেছিলেন যে, ‘আল্লাহর কসম! আমি সেই সব লোকদের বিরুদ্ধে অবশ্যই লড়ব, যারা নামায ও যাকাতের মাঝে পার্থক্য করবে।’ (বুখারী, মুসলিম) অর্থাৎ, নামায তো পড়ে; কিন্তু যাকাত প্রদান করে না। (তাফসীরে আহসানুল বায়ান)

    সূরা আত তাওবা আয়াত ৮২  

    সূরা আত-তাওবা ৮২ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন-


    فَلۡیَضۡحَکُوۡا قَلِیۡلًا وَّ لۡیَبۡکُوۡا کَثِیۡرًا ۚ جَزَآءًۢ بِمَا کَانُوۡا یَکۡسِبُوۡنَ ﴿۸۲﴾ 


    অতএব তারা (দুনিয়াতে) অল্প হাসি হাসুক, আর (আখেরাতে) অনেক কাঁদা কাঁদতে থাকুক,(১) সেই কাজের প্রতিফল স্বরূপ যা তারা করত। -সূরা আত-তাওবা (আয়াত-৮২)।


    (১)قَلِيلًا আর كَثِيرًا শব্দ দু’টি হতে পারে মাসদারের সিফাত (ক্রিয়ামূলের বিশেষণ), অর্থাৎ, ضَحِكًا قَلِيلًا এবং بُكَاءً كَثِيرًا অথবা যারফ (ক্রিয়া-বিশেষণ), (অর্থাৎ, زَمَانًا قَلِيلًا وَزَمَانًا كَثِيرًا অনুযায়ী দুই যবর রয়েছে। আর উভয় শব্দ দু’টিই হল আদেশসূচক, যা খবরের অর্থে ব্যবহার হয়েছে। তার মানে হল, এরা ইহকালে হাসবে কম এবং পরকালে কাঁদবে বেশী। (তাফসীরে আহসানুল বায়ান)

    Tag:সূরা তাওবা বাংলা অনুবাদ , সূরা আত তাওবা বাংলা উচ্চারণ, সূরা আত তাওবা আয়াত ৬১, সূরা আত তাওবা আয়াত ১১৯ ,সূরা আত  তাওবা  আয়াত ৫ ,সূরা আত  তাওবা আয়াত ৮২

    0/Post a Comment/Comments

    Previous Post Next Post
    আমাদের ফেসবুক পেইজে যুক্ত হতে ক্লিক করুন
    chrome-extension://oilhmgfpengfpkkliokdbjjhiikehfoo/img/semstorm-32.png