সূরা বনী ইসরাইলের শানে নুযুল | সুরা বনি ইসরাইল এর তাফসীর | সূরা বনী ইসরাঈল আয়াত ৮০, ৮২, ৭০

 

সূরা বনী ইসরাঈল, সূরা বনী ইসরাইলের শানে নুযুল , সুরা বনি ইসরাইল এর তাফসীর, সূরা বনী ইসরাঈল আয়াত ৮০, সূরা বনী ইসরাঈল আয়াত ৮২, সূরা বনী ইসরাঈল আয়াত ৭১, বনি ইসরাইল কারা

    সূরা বনী ইসরাঈল 

    প্রিয় পাঠকবৃন্দ টাইম অফ বিডি এর পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে জানাই শুভেচ্ছা ও সালাম আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতু।কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই আলহামদুলিল্লাহ ভাল আছেন আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি । আপনারা অনেকেই হয়তো বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় সূরা বনী ইসরাঈল বিভিন্ন আয়াতগুলো খুঁজছেন। আর তাই আজকে আমরা আমাদের পোষ্ট টি তৈরি করেছে আমাদের এই পোস্টটা আজকের সূরা বনী ইসরাঈল সম্পর্কে যা যা থাকছেঃ সেগুলো হলোসূরা বনী ইসরাঈল, সূরা বনী ইসরাইলের শানে নুযুল , সুরা বনি ইসরাইল এর তাফসীর, সূরা বনী ইসরাঈল আয়াত ৮০, সূরা বনী ইসরাঈল আয়াত ৮২, সূরা বনী ইসরাঈল আয়াত ৭১, বনি ইসরাইল কারা।আশা করি আপনারা পুরো পোস্টটি ধৈর্য্য সহকারে পড়বেন এবং সঠিক তথ্যটি পাবেন।

    সূরা বনী ইসরাইলের শানে নুযুল

    সূরা বনী ইসরাঈল (অর্থ, নামকরণ, শানে নুযূল, পটভূমি ও বিষয়বস্তু।

    আয়াত সংখ্যাঃ ১১১ টি। 

     নামকরণ: 

    চার নম্বর আয়াতের অংশ বিশেষ (আরবী থেকে বনী ইসরাঈল নাম গৃহীত হয়েছে । বনী ইসরাঈল এই সূরার আলোচ্য বিষয় নয় । বরং এ নামটিও কুরআনের অধিকাংশ সূরার মতো প্রতীক হিসেবেই রাখা হয়েছে ।

    নাযিলের সময় কাল 

    প্রথম আয়াতটিই একথা ব্যক্ত করে দেয় যে, মি’রাজের সময় এ সূরাটি নাযিল হয় । হাদীস ও সীরাতের অধিকাংশ কিতাবের বর্ণনা অনুসারে হিজরাতের এক বছর আগে মি’রাজ সংঘটিত হয়েছিল । তাই এ সূরাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মক্কায় অবস্থানের শেষ যুগে অবতীর্ণ সূরাগুলোর অন্তরভুক্ত ।

     পটভূমি 

    নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাওহীদের আওয়াজ বুলন্দ করার পর তখন ১২ বছর অতীত হয়ে গিয়েছিল । তাঁর পথ রুখে দেবার জন্য তাঁর বিরোধীরা সব রকমের চেষ্টা করে দেখছিল । তাতে সকল প্রকার বাধা বিপত্তির দেয়াল টপকে তাঁর আওয়াজ আরবের সমস্ত এলাকায় পৌঁছে গিয়েছিল । আরবের এমন কোন গোত্র ছিল না যার দু’চারজন লোক তাঁর দাওয়াতে প্রভাবিত হয়নি । মক্কাতেই আন্তরিকতা সম্পন্ন লোকদের এমন একটি ছোট্ট দল তৈরী হয়ে গিয়েছিল যারা এ সত্যের দাওয়াতের সাফল্যের জন্য প্রত্যেকটি বিপদ ও বাধা বিপত্তির মোকাবিলা করতে প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিল । মদীনায় শক্তিশালী আওস ও কাযরাজ গোত্র দু’টির বিপুল সংখ্যক লোক তার সমর্থকে পরিণত হয়েছিল এখন তাঁর মক্কা থেকে মদীনায় স্থানান্তরিত হয়ে বিক্ষিপ্ত মুসলমানদেরকে এক জায়গায় একত্র করে ইসলামের মূলনীতিসমূহের ভিত্তিতে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার সময় ঘনিয়ে এসেছিল এবং অতিশীঘ্রই তিনি এ সুযোগ লাভ করতে যাচ্ছিলেন ।

    সুরা বনি ইসরাইল এর তাফসীর  | সূরা বনী ইসরাঈল আয়াত ৭১

    স্মরণ কর, যেদিন আমি প্রত্যেক দলকে তাদের

     নেতাসহ আহবান করব, 

    অতঃপর যাদেরকে তাদের ডান হাতে আমলনামা দেয়া হবে, 

    তারা নিজেদের আমলনামা পাঠ করবে 

    এবং তাদের প্রতি সামান্য পরিমাণও জুলুম হবে না।


    সূরা বনী-ইসরাঈল (الإسرا), আয়াত: ৭১

     সূরা বনী ইসরাঈল আয়াত ৮০ 

    সুরা বনি ইসরাইল আয়াত ৮০ এই আয়তটি যদি কোণ লোক আমলে নেয় তাহলে আল্লাহ তাকে অনেক রোগ বালাই থেকে মুক্তি দান করবেন। ﻭَﻗُﻞ ﺭَّﺏِّ ﺍَﺩۡﺧِﻠۡﻨِﻰۡ ﻣُﺪۡﺧَﻞَ ﺻِﺪۡﻕٍ ﻭَّﺍَﺧۡﺮِﺟۡﻨِﻰۡ ﻣُﺨۡﺮَﺝَ ﺻِﺪۡﻕٍ ﻭَّﺍﺟۡﻌَﻞ ﻟِّﻰۡ ﻣِﻦۡ ﻟَّﺪُﻧۡﻚَ ﺳُﻠۡﻄٰﻨًﺎ ﻧَّﺼِﻴۡﺮًﺍ ﴾

    ৮০.) আর দোয়া করোঃ হে আমার পরওয়ারদিগার! আমাকে যেখানেই তুমি নিয়ে যাও সত্যতার সাথে নিয়ে যাও এবং যেখান থেকেই বের করো সত্যতার সাথে বের করো।৯৯ এবং তোমার পক্ষ থেকে একটি কর্তৃত্বশীল পরাক্রান্ত শক্তিকে আমার সাহায্যকারী বানিয়ে দাও।এর দু’টি অর্থ। স্ব স্ব স্থানে দু’টি অর্থই সঠিক। একটি অর্থ হচ্ছে, আমার বান্দা অর্থাৎ মানুষের ওপর তুমি এমন কর্তৃত্ব লাভ করবে না, যার ফলে তুমি তাদেরকে জবরদস্তি নিজের পথে টেনে নিয়ে যেতে পারো। তুমি নিছক প্ররোচিত করতে ও ফুসলাতে এবং ভুল পরামর্শ দিতে ও মিথ্যা ওয়াদা করতে পারো। কিন্তু তোমার কথা গ্রহণ করা বা না করা হবে বান্দার নিজের কাজ। তারা তোমার পথে যেতে চাইলে বা না চাইলেও তুমি হাত ধরে তাদেরকে নিজের পথে টেনে নিয়ে যাবে--- তোমার এমন ধরনের কোন কর্তৃত্ব তাদের ওপর থাকবে না। দ্বিতীয় অর্থটি হচ্ছে, আমার বিশেষ বান্দাদের অর্থাৎ নেক বান্দাদের ওপর তোমার কোন প্রভাব খাটবে না। শক্তিহীন ও দুর্বল সংকল্পধারী লোকেরা নিশ্চয়ই তোমার প্রতিশ্রুতিতে প্রতারিত হবে, কিন্তু যারা আমার বন্দেগীতে অবিচল থাকবে তারা কখনো তোমার নিয়ন্ত্রণে আসবে না।

    সূরা বনী ইসরাঈল আয়াত ৮২ 

    সূরা বণী ইসরাঈল আয়াত ৮২


    ﴿وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ ۙ وَلَا يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إِلَّا خَسَارًا﴾

    ৮২) আমি এ কুরআনের অবতরণ প্রক্রিয়ায় এমন সব বিষয় অবতীর্ণ করছি যা মুমিনদের জন্য নিরাময় ও রহমত এবং জালেমদের জন্য ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করে না৷

     বনি ইসরাইল কারা 

    বনি ইসরাইল কারা?

    বনি ইসরাইল কারা—এটা জানতে হলে প্রথমেই আমাদের ইবরাহিম আলাইহিস সালামের ব্যাপারে জানতে হবে। আমরা হয়তো অনেকেই জানি, ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে ‘Father of faith’ বলা হয়। একেশ্বরবাদী হিসেবে দাবি করা তিনটি প্রধান ধর্ম—ইহুদি, খ্রিষ্টান ও ইসলাম; সবগুলোতেই তিনি স্বীকৃত ও সম্মানিত। সবাই তাকে নিজেদের ধর্মের অনুসারী হিসেবে দাবি করে। এই টানাহ্যাঁচড়াকে খণ্ডন করে দিয়ে আল্লাহ কুরআনে তাকে আখ্যায়িত করছেন ‘হানিফ’ হিসেবে।

    ইতিহাস থেকে জানা যায়, ইবরাহিম আলাইহিস সালামের বাবা ছিলেন একজন মূর্তিপূজক। অপরদিকে তিনি এক আল্লাহতে বিশ্বাসী। একত্ববাদের বাণী প্রচার করতে গিয়ে স্বভাবতই তৎকালীন রাজার সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। তার সম্প্রদায়ের লোকেরা মুখ ফিরিয়ে নেয় তাওহিদের বাণী থেকে। আল্লাহর নির্দেশে তখন হিজরত করেন তিনি। সাথে কেবল স্ত্রী সারাহ এবং ভাইয়ের ছেলে লুত আলাইহিস সালাম। হিজরতকালে তারা এমন এক জনপদে এসে হাজির হন, যেখানকার শাসক ছিল ভীষণ লম্পট আর অত্যাচারী। সুন্দরী নারীদের সে কুক্ষিগত করে রাখত এবং তাদের স্বামীদের নিবির্চারে হত্যা করত। যেহেতু ইবরাহিম আলাইহিস সালামের দাওয়াত-গ্রহণকারীদের মাঝে সারাহ-ই একমাত্র নারী, তাই তিনি জীবন বাঁচানোর জন্য তাকে (দ্বীনি অর্থে) নিজের বোন বলে পরিচয় দেন।

    তারপরও সেই শাসক সারাহকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করে। সারাহ আল্লাহর কাছে দুআ করেন। এতে শাসকের হাত সঙ্গে সঙ্গে অবশ হয়ে যায়। শাসক মিনতিভরে ক্ষমা চায় সারাহর কাছে। সারাহ দয়াপরবশ হয়ে রবের কাছে শাসকের সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করেন। শাসক সুস্থ হয়ে পুনরায় একই পাপকাজে সফল হবার প্রচেষ্টা চালায়। এভাবে তিনবারের বেলায় তার শিক্ষা হয়। অগত্যা সে সারাহকে ছেড়ে দেয় এবং উপহার হিসেবে প্রদান করে হাজেরাকে, যিনি ছিলেন ইবরাহিম আলাইহিস সালামের মালাকাত আঈমানুহু। হাজেরা ও সারাহর গর্ভ থেকে ইবরাহিম আলাইহিস সালামের দুটি বংশধারার সৃষ্টি হয়। একটি ধারা তৈরি হয় ইসমাইল আলাইহিস সালামের দ্বারা (বিবি হাজেরার গর্ভ থেকে), আরেকটি ইসহাক আলাইহিস সালামের দ্বারা (সারাহর গর্ভ থেকে)।

    নিচে একটি ছক দেওয়া হয়েছে। তাতে আমরা দেখব—সকল ধর্মের মূলে ইবরাহিম আলাইহিস সালাম কীভাবে জড়িত ছিলেন। মাঝখানে অনেকে থাকলেও মূলত ক্রমটা এ রকম।

    এই ছকে আমরা দেখতে পাচ্ছি, বনি ইসরাইল মূলত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের বংশধর। এদের বনি ইসরাইল বলার কারণ হচ্ছে—ইয়াকুব আলাইহিস সালামের আরেক নাম ছিল ইসরাইল। এই বংশ থেকে অসংখ্য নবির আগমন ঘটেছে; কিন্তু ইসমাইল আলাইহিস সালাম থেকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত মাঝে আর কোনো নবির আগমন ঘটেনি। তাই এ ধারাকে বলা যেতে পারে বনি ইসমাইল।

    ইবরাহিম আলাইহিস সালামের প্রথম সন্তান ছিলেন ইসমাইল আলাইহিস সালাম। আল্লাহর নির্দেশে ইবরাহিম আলাইহিস সালাম তার দুধের শিশু ইসমাইল ও স্ত্রী হাজেরাকে আরব মরুভূমির জনমানবহীন প্রান্তরে রেখে আসেন। পানির সন্ধানে হাজেরা সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে উদ্বিগ্ন হয়ে ছোটাছুটি করতে থাকেন; যা পরবর্তীতে হজের একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গে পরিণত হয়। এটি পালনের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ আজও হাজেরাকে স্মরণ করে বিনম্র শ্রদ্ধায়। আল্লাহর অলৌকিক নিদর্শন হিসেবে এ সময় সৃষ্টি হয় জমজম কূপ, যাকে কেন্দ্র করেই জনশূন্য মরুভূমি পরিণত হয় জনবহুল শহরে। ইসমাইল আলাইহিস সালামের উত্তরসূরিরাও সেখানেই বেড়ে উঠতে থাকে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে।

    এদিকে ইবরাহিম আলাইহিস সালাম তার প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন শামে—যা এখনকার সিরিয়া, জেরুজালেম-সহ বিশাল একটি জায়গা নিয়ে গঠিত ছিল। ফেরেশতারা যখন লুত আলাইহিস সালামের জাতিকে ধ্বংস করার জন্য প্রেরিত হলেন, সেই একই সময়ে তারা ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে সারাহর গর্ভে ইসহাকের জন্মের সুসংবাদ দেন।

    এভাবে মক্কায় বনি ইসমাইল এবং শাম দেশে বনি ইসরাইলের বংশধরগণ বাস করতে থাকত।

    আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে বুঝার তৌফিক দান করুন আমিন

    Tag:সূরা বনী ইসরাঈল, সূরা বনী ইসরাইলের শানে নুযুল , সুরা বনি ইসরাইল এর তাফসীর, সূরা বনী ইসরাঈল আয়াত ৮০, সূরা বনী ইসরাঈল আয়াত ৮২, সূরা বনী ইসরাঈল আয়াত ৭১, বনি ইসরাইল কারা 

    0/Post a Comment/Comments

    Previous Post Next Post
    chrome-extension://oilhmgfpengfpkkliokdbjjhiikehfoo/img/semstorm-32.png