ইন্টারনেটের জনক কে | ইন্টারনেটের ব্যবহার | ইন্টারনেটের গুরুত্ব

 

:ইন্টারনেট কি, ইন্টারনেটের জনক কে, ইন্টারনেটের ব্যবহার, ইন্টারনেটের গুরুত্ব, ইন্টারনেট আবিষ্কার


    ইন্টারনেট কি

    প্রিয় পাঠকবৃন্দ টাইম অফ বিডি এর পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে জানাই শুভেচ্ছা ও সালাম আসসালামু আলাইকুম রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতু। কেমন আছেন আপনারা সবাই? আশা করি সবাই ভালো আছেন আমিও রহমতে ভালো আছি। আপনারা হয়তো বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ইন্টারনেট সম্বন্ধে জানতে চাচ্ছেন। আর তাই আজকে আমরা আমাদের পোষ্ট টি তৈরি করেছি। আমাদের আজকের এই পোস্টে ইন্টারনেট সম্পর্কে যা যা থাকছেঃ সেগুলো হলোইন্টারনেট কি, ইন্টারনেটের জনক কে, ইন্টারনেটের ব্যবহার, ইন্টারনেটের গুরুত্ব, ইন্টারনেট আবিষ্কার ।
    আশা করছি আপনারা পুরো পোস্টটি ধৈর্য্য সহকারে পড়বেন এবং সঠিক তথ্যটি পাবেন।

     ইন্টারনেটের জনক কে 

    তবে মূলত দুই ব্যক্তিকে ইন্টারনেটের আবিষ্কারক ধরা হয়, রবার্ট ই. কান এবং ভিনটন জি কার্ফ । এই দুই জন ই Transmission Control Protocol (TCP) and the Internet Protocol (IP) এই দুইটি প্রোটোকল আবিষ্কার করেন যা ইন্টারনেট আবিষ্কারের মূলে ।

    ইন্টারনেটের ব্যবহার 

    ইন্টারনেট ব্যবহারে জেনে নিন

    সময়ের সঙ্গে বেড়েই চলেছে কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সংখ্যা। আমাদের দেশেও প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে এ সংখ্যা। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা এবং নামমাত্র ব্যয়-খরচ এ সংখ্যা বাড়ানোর পেছনে মূল ভূমিকা পালন করছে। ব্রডব্যান্ড কোম্পানি ছাড়াও মডেম কোম্পানিগুলো এবং মোবাইল কোম্পানিগুলো তাদের ইন্টারনেট সংযোগ এবং লোভনীয় অফার নিয়ে হাজির হচ্ছে জনসাধারণের কাছে। এখন শুধু কম্পিউটার বা ল্যাপটপে নয়, মোবাইলেও বেশ সহজে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়। আর তাই ইন্টারনেটের প্রসারও হচ্ছে দ্রুত গতিতে। সর্বত্রই এখন ইন্টারনেটের একচ্ছত্র আধিপত্য। ইন্টারনেট এ যুগের গৃহস্থের একনিষ্ঠ কর্মী, ছেলেমেয়েদের খেলার সাথী, বড়দের শিক্ষা ও কাজের সহায়ক, ছাত্রছাত্রীদের গৃহশিক্ষক, ব্যবসায়ীদের সুদক্ষ ম্যানেজার আর বিজ্ঞানী বা গবেষকদের মস্তিষ্ক হিসেবে কাজ করছে। বিজ্ঞান থেকে শুরু করে বিনোদন, সাহিত্য থেকে শুরু করে টেলিকমিউনিকেশন সর্বক্ষেত্রে ইন্টারনেটের ব্যবহার লক্ষণীয়। তবে ইন্টারনেট ব্যবহারের যেমন সুবিধা রয়েছে, তেমনি অধিক এবং অপব্যবহারে কিছু অসুবিধাও রয়েছে। আজকাল ছেলেমেয়েদের মাঝে ইন্টারনেট নিয়ে একটি অবসেসিভ মানসিকতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে টিনএজের ছেলেমেয়েরাই ইন্টারনেট হ্যাজার্ড। তারা নেট সার্ফিং করতে ভালোবাসে। সাময়িক একা থাকলেই নেট নিয়ে বসে যায়। শুধু টিনএজের ছেলেমেয়েরাই ইন্টারনেট হ্যাজার্ড তা নয়, বড়রাও আজ ইন্টারনেটে আসক্ত।

    ইন্টারনেট আসক্তি : ইন্টারনেটে অধিক সময় ব্যয় করে স্কুল-কলেজ পড়-য়া ছেলেমেয়েরা। টিনএজার অথবা তরুণরা অনেকেই ইন্টারনেট আসক্ত হয়ে পড়ছে। তবে তাদেরও দোষ দেয়া যায় না। একটু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা পারিপার্শ্বিকতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হয়ে ওঠে, আর তাদের মনে জাগতে থাকে অসংখ্য প্রশ্ন। অনেক সময় সেই সব প্রশ্নের মনমতো জবাব পায় না তারা। এখন হাতের মুঠোয় ইন্টারনেট এসে যাওয়ায় তারা তাদের প্রশ্নব্যাংকের ভাণ্ডার খুলে বসে। আর পড়াশোনার বাইরে ইন্টারনেট থেকে তারা পেয়ে যায় প্রশ্নের উত্তরের সঙ্গে বিনোদনের রসদ। যার ফলে তারা পড়াশোনায় অমনোযোগী হচ্ছে। সরে যাচ্ছে পরিবার, আÍীয়-স্বজন ও বাস্তব সম্পর্কগুলো থেকে দূরে। কারণ ইন্টারনেটের ভার্চুয়াল দুনিয়া, সেখানকার গেমস এবং নেটওয়ার্কিং সাইটে বন্ধুত্বই তার কাছে আপন মনে হয়। ‘মনোবিজ্ঞানী পাওল বানসাল বলেনÑ ইন্টারনেটের অধিক ব্যবহার একটা সময় অভ্যাস বা আসক্তিতে রূপ নেয়, যা স্বাস্থ্য এবং সমাজ দুইয়ের জন্যই ক্ষতিকর।’

    বাবা-মা অথবা অভিভাবকরা হরহামেশাই ছেলেমেয়ের অতিমাত্রায় ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। আজকাল ছেলেমেয়েরা শুধু গেমসে নয়, চ্যাটে ফেইসবুকে, গুগল প্লাসে, টুইটারেও আসক্ত হয়ে পড়ছে। যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে তাদের ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক জীবনে।

    শারীরিক অসুস্থতা : অধিকমাত্রায় কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে দেখা দিতে পারে নানাবিধ শারীরিক অসুস্থতা। ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় কম্পিউটার বা ল্যাপটপের দিকে বেশিক্ষণ চেয়ে থাকলেও দেখা দিতে পারে চোখের সমস্যা। সুইজারল্যান্ডের বাসেল মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক তথ্যসন্ধানে উঠে এসেছেÑ পুরুষের হাঁটুতে বা কোলে রেখে ল্যাপটপ ব্যবহারের ফলে পুরুষের যৌন শক্তি হ্রাস পায়। তাছাড়া কম্পিউটার বা ল্যাপটপে অতিমাত্রায় ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে নানাবিধ পায়ের, অন্ত্রের এবং ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। সুতরাং ইন্টারনেট, কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ব্যবহারে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

    সতর্কতাÑ

    মূলত ইন্টারনেট, কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ব্যবহারের সময় আমাদের বসার ধরন ঠিক থাকে না। আমরা রকিং চেয়ার, সোফা বা খাটের ওপর বসে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ব্যবহার করি। এতে পেটে প্রেসার পড়ে এবং মেরুদণ্ড কুঁজো হয়ে থাকে, যা পরবর্তী সময়ে শারীরিক অসুস্থতা সৃষ্টি করে। সুতরাং নির্দিষ্ট একটি চেয়ারে বসে, যথাক্রমে উচ্চতাসম্পন্ন একটি টেবিলে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ রেখে এবং মেরুদণ্ড সোজা রেখে ইন্টারনেট ব্যবহার করা উচিত।

    কম্পিউটার বা ল্যাপটপে ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৯০০ ডিগ্রি এঙ্গেলে হাতকে কীবোর্ডে বা মাউসে রাখা উচিত।

    স্পিকার অথবা হেডফোনে বেশি ভলিউমে গান শোনা যাবে না। এতে কানের সমস্যা হতে পারে।

     খুব কাছে থেকে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ মনিটরে দেখা বা তাকানো যাবে না। সুতরাং, ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় কম্পিউটার বা ল্যাপটপের মনিটর থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। অন্যথায় চোখের সমস্যা হতে পারে।

    চেয়ারে বসা অবস্থায়, মেঝেতে সমানভাবে পা রাখতে হবে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে পা যদি নিচ পর্যন্ত না পৌঁছে তবে টুল বা উপযোগী কিছু ব্যবস্থা করে দিতে হবে।

    বিশেষ সতর্কতা : ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

    সূর্যের আলো পড়ে, এমন স্থানে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ রাখা যাবে না।

    বিছানার ওপরে ল্যাপটপ রাখা যাবে না।

    ল্যাপটপে বা কম্পিউটারে বাতাস যাতায়াত করে, সে ব্যবস্থা রাখতে হবে। অন্যথায় আগুন লেগে যেতে পারে অথবা হার্ডওয়্যারের ক্ষতি হতে পারে।

    ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের আশপাশে পানি জাতীয় কোন খাবার রাখা যাবে না।

    বৈদ্যুতিক পাওয়ার পয়েন্টগুলো যথাসম্ভব বাচ্চাদের কাছ থেকে দূরে রাখতে হবে।

    সম্ভব হলে ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করা উচিত।

     কম্পিউটার বা ল্যাপটপের সামনে বসে ধূমপান করা উচিত নয়।

    ধুলাবালি বা সূক্ষ্ম ময়লা মাদারবোর্ডে জমে তাপ বিকিরণে বাধা প্রদান করে, সে জন্য ডাস্ট কভার ব্যবহার করা উচিত।

    মানসিক সমস্যা : ইন্টারনেটের বদৌলতে আজকাল সব তথ্যই হাতের মুঠোয়। ক্লিক করেই পৌঁছে যাওয়া যায়, পছন্দমতো যে কোনো সাইটে। তবে সব সাইটেই যে থাকে ছোটদের উপযোগী তথ্য এমন নয়। সেই সাইটগুলোর আকর্ষণ নেশার মতো হয়ে যায়। তাছাড়া অনেক সময় নেটওয়ার্কিং সাইটে চ্যাট করে অথবা ফেইসবুকের মাধ্যমে ছেলেমেয়েরা বা তরুণ বা টিনএজাররা জড়িয়ে যায় অবাঞ্ছিত সম্পর্কে। অনেকে আবার যৌন হয়রানিরও শিকার হয়।

    লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ ৫ বছরের অনুসন্ধানে, ইন্টারনেটের অধিক ব্যবহারের ফলে যে সব মানসিক সমস্যা দেখা দেয়Ñ তার একটা চিত্র ফুটে উঠেছে।

     ইন্টারনেটের অধিক ব্যবহারের ফলে ব্রেইনের ক্ষমতা হ্রাস পায়।

    সামাজিক সম্পর্ক নষ্ট হয়।

    আচরণ ও ব্যবহারে নেতিবাচক পরিবর্তন আসে।

    শারীরিক ও মানসিক অলসতা তৈরি হয়।

    পড়াশোনায় এবং বিভিন্ন কাজে মনযোগ নষ্ট হয়।

    অনিচ্ছা ও অনাগ্রহ তৈরি হতে থাকে। অস্থিরতা কাজ করে।

    অল্পতেই উত্তেজনা বা ক্রোধের মানসিকতা সৃষ্টি হয়।

    পর্নো বা অশ্লীল ছবি দেখার মাধ্যমে চারিত্র্যিক অবক্ষয় হয়।

    নানাবিধ পারিবারিক সমস্যা ও কলহ বৃদ্ধি পায়।

    ইন্টারনেট অপরাধ বা সাইবার ক্রাইম : ইন্টারনেটের আদলে এখন সবকিছু সহজ থেকে সহজতর। এত সহজ যে, মুহূর্তেই চাইলে আপনি নতুন-পুরনো মুক্তি পাওয়া গান, নাটক, ছবি, গেমস, সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে পারেন। যা এক ধরনের অপরাধ এবং কারও কারও জন্য বিশাল ক্ষতি।

    ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহার : নেটওয়ার্কিং সাইটে চ্যাট, ম্যাসেঞ্জার দিয়ে ফোন অথবা ওয়েবক্যাম দিয়ে ভিডিও চ্যাট সবকিছুই সম্ভব। মূলত ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছেই এ উদ্দেশ্যে। অবসর কাটানো ও প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার পাশাপাশি পড়াশোনার ক্ষেত্রেও ইন্টারনেট বিশাল ভূমিকা রাখে। এই ইন্টারনেট আবার অনেক সমস্যারও কারণ হচ্ছে। অনেক অফিস-আদালতে দেখা যায়, কাজের ফাঁকে কর্মচারীরা ইন্টারনেট বা কম্পিউটার নিয়ে বসে যান। গেমস খেলে অথবা ফেসবুকে চ্যাট করে সময় পার করেন। এতে যেমন কাজের ও সময়ের ক্ষতি হয়, তেমনি কোম্পানি বা অফিসেরও ক্ষতি হয়। এজন্য অফিসিয়াল সাইট বা অফিস রিলেটেড সাইট ছাড়া, অন্যান্য সাইট সার্ভার থেকেই বন্ধ করে দেয় অনেক কোম্পানী।

    করণীয় : ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অভিভাবক এবং শিক্ষকদের কিছু ব্যাপার খেয়াল রাখা উচিত। এ সম্পর্কে বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটির সহযোগী সদস্য মোঃ নাইমুল হক নাইম বলেন, ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই সচেতনতা অবলম্বন করা উচিত। অভিভাবকরা কিছু ব্যাপারে লক্ষ্য করলে, আপনার সন্তানের ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব। তার কাছ থেকে পাওয়া গেল গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শÑ

    ইন্টারনেটের পজিটিভ ও নেগেটিভ সাইড নিয়ে আপনার সন্তানের সঙ্গে আলাপ করুন। তাকে ভালো ভালো সাইটের পরামর্শ দিন।

    লেভেল বুঝে ছাত্রছাত্রীদের ইন্টারনেট ব্যবহার করা উচিত। সময়সীমা বেঁধে দিন। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে দৈনিক ৪-৫ ঘণ্টা ব্রাউজিং বা সার্চ করতে দিন এবং ইন্টারমিডিয়েড বা স্কুল লেভেলের ক্ষেত্রে দৈনিক ১-১.৩০ ঘণ্টা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে দিন।

    ইন্টারনেটে সে কি করছে তা চেক করুন। বন্ধুরা একসঙ্গে মিলে কোন সাইট দেখলেও, তাদের সঙ্গে মাঝে মাঝে নিজে বসুন।

    গাইডলাইন : সেই সময়গুলো খেয়াল রাখুন, যখন আপনার সন্তান ইন্টারনেট ব্যবহার করে। পপ-আপ ব্লকার ‘এনেবল’ করে দিন। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার অপশনে গিয়ে ওদের পক্ষে ক্ষতিকর সাইটগুলো ব্লক করে দিন।

    সুতরাং, একমাত্র সচেতনতাই পারে ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং ঋকি বসতে। নেট সার্ফ করতে ডিসকারেজ না করে তাকে বুঝিয়ে দিন তার নেট সার্ফিং নিয়ে আপনি সচেতন।

    ইন্টারনেটের গুরুত্ব 

    পড়াশোনায় ইন্টারনেটের ভূমিকা


                                                                                                  “পড়াশোনায় ইন্টারনেটের ভূমিকা”


    আধুনিক যুগ বিজ্ঞানের যুগ। ইন্টারনেট আধুনিক প্রযুক্তির কিস্ময়কর উদ্ভাবন। এটি হলো নেটওয়ার্ক সমূহের নেটওয়ার্ক।

        শিক্ষা, চিকিৎসা, অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভূমিকা রাখছে ইন্টারনেট। শিক্ষার ক্ষেত্রে ইন্টারনেট এনেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। আধুনিক শিক্ষায় ইন্টারনেটের গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমানে আধুনিক ও উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে সাহায্য করে ইন্টারনেট। উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা উন্নত বিশ্বের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে থাকে। আর এজন্য উন্নত বিশ্বের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের শিক্ষাব্যবস্থা ও সুযোগ সুবিধা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হল ইন্টারনেট।

        বিশ্বের যে কোন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য চোখের নিমিষে সংগ্রহ করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কাজে লিপ্ত শিক্ষার্থীরা গবেশণার জন্য যে কোন তথ্য নিজ দেশ থেকে খুঁজে পাচ্ছে না, সে তথ্য অন্যান্য দেশের লাইব্রেরী থেকে ই-লাইব্রেরীর মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে খুঁজে বের করছে। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবই নির্ভর হলে হয় না। পাঠ্যবইয়ের বাইরেও জ্ঞান-বিজ্ঞান সংক্রান্ত বিভিন্ন বই পুস্তক শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন হয়। তাই এ সকল বই ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই ব্যবহার করতে পারে। এছাড়া কখনো কোন পাঠ্যবই হারিয়ে বা নষ্ট হয়ে গেলে তা ঘঈঞই এর ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যায়।

        বাংলাদেশে শিক্ষার আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে ইন্টারনেট তাৎপর্যপূর্ণ বিপ্লব সাধন করেছে। বর্তমানে তাই বাংলাদেশে শিক্ষাভিত্তিক অনেক ওয়েবসাইট খোলা হয়েছে। এই সাইট গুলো ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা বিভিন্নভাবে উপকৃত হচ্ছে।

        বাংলাদেশের আধুনিক শিক্ষার একটি তাৎপর্যপূর্ণ অংশ হল অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির আবেদনসহ যাবতীয় কাজ ইন্টারনেটের মাধ্যমে করা হয়। তাছাড়া বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে থাকে।

        শিক্ষাক্ষেত্রে ইন্টারনেটের আরেকটি বিস্তৃত অবদান হল ই-ল্যার্নিং এর মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে অবস্থান না করেও শ্রেণিকক্ষের কার্যাবলি সরাসরি দেখাসহ তাতে অংশগ্রহণও করা যায়।

        অতএব ইন্টারনেট যে আমাদের শিক্ষক্ষেত্রে অনস্বীকার্য ভূমিকা রাখে তা বাস্তব। কিন্তু ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে আজকের শিক্ষার্থীরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থও হচ্ছে যা প্রতিরোধ করতে পারলেই আমরা ইন্টারনেট ব্যবহারের মর্মার্থ বুঝতে পারব।

    ইন্টারনেট আবিষ্কার 

    ইন্টারনেট কি সেটা সহজ ভাষায় বললে, আন্তর্জাল বা ইন্টারনেট হল এমন একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক যেটা পুরো পৃথিবীর সকল কম্পিউটারকে একে অপরের সাথে সংযুক্ত করে। তবে আরেকটু বিস্তারিতভাবে বললে- কিছু কম্পিউটার একে অপরের সাথে সংযুক্ত থেকে একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক তৈরী করে। এভাবে পৃথিবীর অধিকাংশ কম্পিউটার একে অপরের সাথে সংযুক্ত থেকে যে কম্পিউটার নেটওয়ার্কগুলো তৈরি করেছে, সেগুলোর সমষ্টিকেই আমরা ইন্টারনেট বলি। আর আইপি বা ইন্টারনেট প্রটোকল নামের এক প্রামাণ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে কম্পিউটারগুলো একে অপরের সাথে ডেটা আদান-প্রদান করে থাকে।

    অর্থাৎ আমাদের বাসায় থাকা কম্পিউটার বা মোবাইল ডিভাইসটি যদি এই কম্পিউটার নেটওয়ার্কের(ইন্টারনেট) সাথে কানেক্ট থাকে, তাহলে আইপি বা ইন্টারনেট প্রটোকলের মাধ্যমে নেটওয়ার্কে সংযুক্ত থাকা অন্য কম্পিউটারের সাথে আমরা ডেটা আদান-প্রদান করতে পারব। আশা করি ইন্টারনেট কি সেটার মোটামুটি একটা ধারনা পেয়েছেন।

    ইন্টারনেট – এর ইতিহাস

    ইন্টারনেট – এর প্রথম ধারনা আসে ১৯৫০ সালে যখন কম্পিউটার বিজ্ঞান অধ্যাপক লিওনার্ড ক্রাইনরক তার গবেষণাগার – ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস(ইউসিএলএ) থেকে অর্পানেটের মাধ্যমে একটি বার্তা স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআরআই) – তে পাঠান। ক্রাইনরকের পাঠান এই বার্তাটি ছিল ইন্টারনেটের প্রথম কোন তথ্য।

    তখনকার সময়ে ইন্টারনেট সেরা বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার হলেও ব্যবহারসুলভ ইন্টারনেট আসে ৭০ – এর দশকে। এই পুরদস্ত ইন্টারনেট আসার জন্য সবচেয়ে বড় অবদান রাখে আইপি বা ইন্টারনেট প্রটোকল। এই আইপি – এর সাহায্যে লক্ষাধিক অর্পানেটের মত কম্পিউটার নেটওয়ার্ক একসাথে জুড়ে দেওয়া সহজ হয়ে গেল এবং এভাবে এর পরিধি বাড়তে লাগল। এই আন্তঃসংযোগের নাম দেয়া হল ইন্টারনেটওয়ার্ক সংক্ষেপে ইন্টারনেট। আশির দশকে ডোমেইন অর্থাৎ .com বা .org এর উৎপত্তি হল, ফলে ওয়েবসাইট এর সংখ্যা বাড়তে লাগল। ১৯৮০ সালেই ইউরোপের গবেষক, টিম বার্নাস লি WWW বা World Wide Web আবিষ্কার করলেন এবং তিনিই ১৯৮৯ সালে HTTP আবিষ্কার করলেন। এতে অনলাইনে অতি দ্রুত তথ্য আদান প্রদান করা সম্ভব হল এবং এতেই হল বাজিমাত। এভাবেই ইন্টারনেট আমাদের মাঝে তার জায়গা করে নিল।

    ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে? 

    আপনি যদি কাউকে প্রশ্ন করেন ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে তাহলে অনেকেই বলবে ইন্টারনেট মহাকাশে থাকা স্যাটেলাইটের সাহায্যে কাজ করে নতুবা বলবে জানে না। কিন্তু ইন্টারনেট – এর ৯৯% চলে অপটিক্যাল ক্যাবলের মাধ্যমে অর্থাৎ তারের মাধ্যমে এবং মাত্র ১% চলে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে।

    Tag:ইন্টারনেট কি, ইন্টারনেটের জনক কে, ইন্টারনেটের ব্যবহার, ইন্টারনেটের গুরুত্ব, ইন্টারনেট আবিষ্কার 

    0/Post a Comment/Comments

    chrome-extension://oilhmgfpengfpkkliokdbjjhiikehfoo/img/semstorm-32.png