যৌতুকপ্রথা একটি সামাজিক ব্যাধি ভাবসম্প্রসারণ | যৌতুকপ্রথা একটি সামাজিক ব্যাধি | ভাবসম্প্রসারণ

যৌতুকপ্রথা একটি সামাজিক ব্যাধি ভাবসম্প্রসারণ | যৌতুকপ্রথা একটি সামাজিক ব্যাধি | ভাবসম্প্রসারণ

যৌতুকপ্রথা একটি সামাজিক ব্যাধি ভাবসম্প্রসারণ | যৌতুকপ্রথা একটি সামাজিক ব্যাধি | ভাবসম্প্রসারণ

যৌতুকপ্রথা একটি সামাজিক ব্যাধি
 

 ভাব - সম্প্রসারণ : যৌতুক সমাজ সভ্যতার বিকাশের পথে বিরাট বাধা । এটি সমাজ জীবনে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে । মেয়ের বিয়ের সময় তার অভিভাবক পাত্রকে যে অর্থ , সম্পদ , অলংকার , আসবাবপত্র ইত্যাদি দিয়ে থাকেন তাকে বলা হয় যৌতুক । বিভিন্ন সমাজে বহুদিন ধরে এই নিষ্ঠুর প্রথা ব্যাধির মতাে প্রচলিত আছে । হিন্দু সমাজে মেয়েরা পিতার সম্পত্তির ভাগ পায় না বলে বিয়ের সময় পিতা যথাসাধ্য ধন - সম্পদ দিয়ে ভালাে পাত্রের হাতে মেয়েকে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন । মুসলমান সমাজে মেয়ের অধিকার ক্ষুন্ন করা হয়নি । অথচ এদেশের হিন্দু - মুসলমান উভয় সমাজে যৌতুকপ্রথা ব্যাধির মতাে আঁকড়ে আছে । যৌতুকপ্রথা আজ সুখী জীবনের পথে বাধা হয়ে আছে । এই ঘৃণ্য প্রথার জন্য পাত্র ও পাত্রপক্ষ মেয়েদের মর্যাদা দিতে কুণ্ঠাবােধ করে । তাই সামর্থ্যহীন পিতা কন্যার সুখের আশায় যৌতুক দিতে গিয়ে পথে বসেন । পরিবারের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়ে মেয়ের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করতে চান । অনেক ক্ষেত্রেই স্বপ্নভঙ্গ হয় । লােভী বর চুক্তি অনুসারে যৌতুক পেয়েও ঠকে গেছে বলে মনে করে । অনেক অক্ষম পিতা কথামতাে সব যৌতুক দিতে ব্যর্থ হলে সংসারজীবনে দ্বন্দ্ব - কলহ শুরু হয় । নির্যাতন শুরু হয় হতভাগিনী নববধূর ওপর । শুধু স্বামীই নয় , পরিবারের সবার লাঞ্ছনার শিকার হয়ে বধূকে করুণতম জীবন যাপন করতে হয় । কখনাে ফিরে যেতে হয় । পিতৃগৃহে । কখনাে নির্যাতন সহ্য না করতে পেরে জীবনও বিসর্জন দিতে হয় । তাই বলা যায় , যৌতুকপ্রথা এক সামাজিক ব্যাধি । যৌতুক বিবাহিত জীবনে সুখ আনতে পারে না । কেননা অর্থের দামে কেনাবেচা চলে কিন্তু মনের মিল অর্থের মূল্যে হয় না ।

টাগ: যৌতুকপ্রথা একটি সামাজিক ব্যাধি ভাবসম্প্রসারণ, যৌতুকপ্রথা একটি সামাজিক ব্যাধি, ভাবসম্প্রসারণ

0/Post a Comment/Comments

Previous Post Next Post
আমাদের ফেসবুক পেইজে যুক্ত হতে ক্লিক করুন
chrome-extension://oilhmgfpengfpkkliokdbjjhiikehfoo/img/semstorm-32.png