সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা সমগ্র | sukanta bhattacharya poem

 

সুকান্ত ভট্টাচার্যের শ্রেষ্ঠ কবিতা, সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা, সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা সমগ্র, আগ্নেয়গিরি কবিতা, আগ্মেয়গিরি কবিতা সুকান্ত ভট্টাচার্যের, আজব লড়াই কবিতা, আজব লড়াই সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা, প্রিয়তমাসু কবিতা,  প্রিয়তমাসু সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা,

    সুকান্ত ভট্টাচার্যের শ্রেষ্ঠ কবিতা | সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা

    টাইম অফ বিডি এর পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে জানাই আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি বারকাতুহু । প্রিয় পাঠকবৃন্দ কেমন আছেন আপনারা সবাই ? আশা করছি আপনারা সবাই ভাল আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আপনাদের দোয়ায় আমিও ভাল আছি। আজকে আমরা আপনাদের মাঝে নিয়ে আসলাম সুকান্ত ভট্টাচার্যের শ্রেষ্ট কবিতাশুকান্ত ভট্টাচার্য কবিতা, । আশা করি আপনাদের অনেক ভালো লাগবে।


    আগ্নেয়গিরি কবিতা | আগ্মেয়গিরি কবিতা সুকান্ত ভট্টাচার্যের

    সুকান্ত ভট্টাচার্য

    কখনো হঠাৎ মনে হয়ঃ

    আমি এক আগ্নেয় পাহাড়।

    শান্তির ছায়া-নিবিড় গুহায় নিদ্রিত সিংহের মতো

    চোখে আমার বহু দিনের তন্দ্রা।

    এক বিস্ফোরণ থেকে আর এক বিস্ফোরণের মাঝখানে

    আমাকে তোমরা বিদ্রূপে বিদ্ধ করেছ বারংবার

    আমি পাথরঃ আমি তা সহ্য করেছি।

    মুখে আমার মৃদু হাসি,

    বুকে আমার পুঞ্জীভূত ফুটন্ত লাভা।

    সিংহের মতো আধ-বোজা চোখে আমি কেবলি দেখছিঃ

    মিথ্যার ভিতে কল্পনার মশলায় গড়া তোমাদের শহর,

    আমাকে ঘিরে রচিত উৎসবের নির্বোধ অমরাবতী,

    বিদ্রূপের হাসি আর বিদ্বেষের আতস-বাজি–

    তোমাদের নগরে মদমত্ত পূর্ণিমা।

    দেখ, দেখঃ

    ছায়াঘন, অরণ্য-নিবিড় আমাকে দেখ;

    দেখ আমার নিরুদ্বিগ্ন বন্যতা।

    তোমাদের শহর আমাকে বিদ্রূপ করুক,

    কুঠারে কুঠারে আমার ধৈর্যকে করুক আহত,

    কিছুতেই বিশ্বাস ক’রো না–

    আমি ভিসুভিয়স-ফুজিয়ামার সহোদর।

    তোমাদের কাছে অজ্ঞাত থাক

    ভেতরে ভেতরে মোচড় দিয়ে ওঠা আমার অগ্ন্যুদ্গার,

    অরণ্যে ঢাকা অন্তর্নিহিত উত্তাপের জ্বালা।

    তোমার আকাশে ফ্যাকাশে প্রেত আলো,

    বুনো পাহাড়ে মৃদু-ধোঁয়ার অবগুণ্ঠন:

    ও কিছু নয়, হয়তো নতুন এক মেঘদূত।

    উৎসব কর, উৎসব কর–

    ভুলে যাও পেছনে আছে এক আগ্নেয় পাহাড়,

    ভিসুভিয়স-ফুজিয়ামার জাগ্রত বংশধর।

    আর,

    আমার দিন-পি কায় আসন্ন হোক

    বিস্ফোরণের চরম, পবিত্র তিথি।।

    পূর্বাভাস

    আজব লড়াই কবিতা | আজব লড়াই সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা

    সুকান্ত ভট্টাচার্য
    ফেব্রুয়ারী মাসে ভাই, কলকাতা শহরে
    ঘটল ঘটনা এক, লম্বা সে বহরে!
    লড়াই লড়াই খেলা শুরু হল আমাদের,
    কেউ রইল না ঘরে রামাদের শ্যামাদের;
    রাস্তার কোণে কোণে জড়ো হল সকলে,
    তফাৎ রইল নাকো আসলে ও নকলে,
    শুধু শুনি ’ধর’ ’ধর’ ’মার’ ’মার’ শব্দ
    যেন খাঁটি যুদ্ধ এ মিলিটারী জব্দ।
    বড়রা কাঁদুনে গ্যাসে কাঁদে, চোখ ছল ছল
    হাসে ছিঁচকাঁদুনেরা বলে, ’সব ঢাল জল’।
    ঐ বুঝি ওরা সব সঙ্গীন উঁচোলো,
    ভয় নেই, যত হোক বেয়নেট ছুঁচোলো,
    ইট-পাটকেল দেখি রাখে এরা তৈরি,
    এইবার যাবে কোথা বাছাধন বৈরী!
    ভাবো বুঝি ছোট ছেলে, একেবারে বাচ্চা!
    এদের হাতেই পাবে শিক্ষাটা আচ্ছা;
    ঢিল খাও, তাড়া খাও, পেট ভরে কলা খাও,
    গালাগালি খাও আর খাও কানমলা খাও।
    জালে ঢাকা গাড়ি চড়ে বীরত্ব কি যে এর
    বুঝবে কে, হরদম সামলায় নিজেদের।
    বার্মা-পালানো সব বীর এরা বঙ্গে
    যুদ্ধ করছে ছোট ছেলেদের সঙ্গে;
    ঢিলের ভয়েতে ওরা চালায় মেশিনগান,
    “বিশ্ববিজয়ী” তাই রাখে জান, বাঁচে মান।
    খালি হাত ছেলেদের তেড়ে গিয়ে করে খুন;
    সাবাস! সাবাস! ওরা খেয়েছে রাজার নুন।

    ডাংগুলি খেলা নয়, গুলির সঙ্গে খেলা,
    রক্ত-রাঙানো পথে দু’পাশে ছেলের মেলা;
    দুর্দম খেলা চলে, নিষেধে কে কান দেয়?
    ও-বাড়ি ও ও-পাড়ার কালো, ছোটু প্রাণ দেয়।
    স্বচে দেখলাম বস্তির আলী জান,
    ’আংরেজ চলা যাও’ বলে ভাই দিল প্রাণ।

    এমন বিরাট খেলা শেষ হল চটপট
    বড়দের বোকামিতে আজো প্রাণ ছটফট;
    এইবারে আমি ভাই হেরে গেছি খেলাতে,
    ফিরে গেছি দাদাদের বকুনির ঠেলাতে;
    পরের বারেতে ভাই শুনব না কারো মানা,
    দেবই, দেবই আমি নিজের জীবনখানা ।

    পূর্বাভাস

    প্রিয়তমাসু কবিতা | প্রিয়তমাসু সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা

    সুকান্ত ভট্টাচার্য

    সীমান্তে আজ আমি প্রহরী।

    অনেক রক্তাক্ত পথ অতিক্রম ক'রে

    আজ এখানে এসে থমকে দাড়িয়েছি-

    স্বদেশের সীমানায়।

    ধূসর তিউনিসিয়া থেকে স্নিগ্ধ ইতালী,

    স্নিগ্ধ ইতালী থেকে ছুটে গেছি বিপ্লবী ফ্রান্সে

    নক্ষত্রনিয়ন্ত্রিত নিয়তির মতো

    দুর্নিবার, অপরাহত রাইফেল হাতে;

    - ফ্রান্স থেকে প্রতিবেশী বার্মাতেও।

    আজ দেহে আমার সৈনিকের কড়া পোশাক,

    হাতে এখনো দুর্জয় রাইফেল,

    রক্তে রক্তে তরঙ্গিত জয়ের আর শক্তির দুর্বহ দম্ভ,

    আজ এখন সীমান্তের প্রহরী আমি।

    আজ নীল আকাশ আমাকে পাঠিয়েছে নিমন্ত্রণ,

    স্বদেশের হাওয়া বয়ে এনেছে অনুরোধ,

    চোখের সামনে খুলে ধরেছে সবুজ চিঠি :

    কিছুতেই বুঝি না কী ক'রে এড়াব তাকে?

    কী ক'রে এড়াব এই সৈনিকের কড়া পোশাক?

    যুদ্ধ শেষ। মাঠে মাঠে প্রসারিত শান্তি,

    চোখে এসে লাগছে তারই শীতল হাওয়া,

    প্রতি মুহূর্তে শ্লথ হয়ে আসে হাতের রাইফেল,

    গা থেকে খসে পড়তে চায় এই কড়া পোশাক,

    রাত্রে চাঁদ ওঠে : আমার চোখে ঘুম নেই।

    তোমাকে ভেবেছি কতদিন,

    কত শত্রুর পদক্ষেপ শোনার প্রতীক্ষার অবসরে,

    কত গোলা ফাটার মুহূর্তে।

    কতবার অবাধ্য হয়েছে মন, যুদ্ধজয়ের ফাঁকে ফাঁকে

    কতবার হৃদয় জ্বলেছে অনুশোচনার অঙ্গারে

    তোমার আর তোমাদের ভাবনায়।

    তোমাকে ফেলে এসেছি দারিদ্র্যের মধ্যে

    ছুঁড়ে দিয়েছি দুর্ভিক্ষের আগুনে,

    ঝড়ে আর বন্যায়, মারী আর মড়কের দুঃসহ আঘাতে

    বাব বার বিপন্ন হয়েছে তোমাদের অস্তিত্ব।

    আর আমি ছুটে গেছি এক যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আর এক যুদ্ধক্ষেত্রে।

    জানি না আজো, আছ কি নেই,

    দুর্ভিক্ষে ফাঁকা আর বন্যায় তলিয়ে গেছে কিনা ভিটে

    জানি না তাও।

    তবু লিখছি তোমাকে আজ : লিখছি আত্মম্ভর আশায়

    ঘরে ফেরার সময় এসে গেছে।

    জানি, আমার জন্যে কেউ প্রতীক্ষা ক'রে নেই

    মালায় আর পতাকায়, প্রদীপে আর মঙ্গলঘটে;

    জানি, সম্বর্ধনা রটবে না লোক মুখে,

    মিলিত খুসিতে মিলবে না বীরত্বের পুরস্কার।

    তবু, একটি হৃদয় নেচে উঠবে আমার আবির্ভাবে

    সে তোমার হৃদয়।

    যুদ্ধ চাই না আর, যুদ্ধ তো থেমে গেছে;

    পদার্পণ করতে চায় না মন ইন্দোনেশিয়ায়

    আর সামনে নয়,

    এবার পেছনে ফেরার পালা।

    পরের জন্যে যুদ্ধ করেছি অনেক,

    এবার যুদ্ধ তোমার আর আমার জন্যে।

    প্রশ্ন করো যদি এত যুদ্ধ ক'রে পেলাম কী? উত্তর তার-

    তিউনিসিয়ায় পেয়েছি জয়,

    ইতালীতে জনগণের বন্ধুত্ব,

    ফ্রান্সে পেয়েছি মুক্তির মন্ত্র;

    আর নিষ্কণ্টক বার্মায় পেলাম ঘরে ফেরার তাগাদা।

    আমি যেন সেই বাতিওয়ালা,

    সে সন্ধ্যায় রাজপথে-পথে বাতি জ্বালিয়ে ফেরে

    অথচ নিজের ঘরে নেই যার বাতি জ্বালার সামর্থ্য,

    নিজের ঘরেই জমে থাকে দুঃসহ অন্ধকার।।

    ঘুম নেই





    Tag: সুকান্ত ভট্টাচার্যের শ্রেষ্ঠ কবিতা, সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা, সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা সমগ্র, আগ্নেয়গিরি কবিতা, আগ্মেয়গিরি কবিতা সুকান্ত ভট্টাচার্যের, আজব লড়াই কবিতা, আজব লড়াই সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা, প্রিয়তমাসু কবিতা,  প্রিয়তমাসু সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা,