বাসর রাতের নামাজের নিয়ত | বাসর ঘরের দোয়া | বাসর রাতের আদর্শ

বাসর রাত, বাসর রাতের নামাজের নিয়ত, বাসর রাতের দোয়া, বাসর ঘরের দোয়া, রাতের আমল, বাসর রাতের আদর্শ , বাসর রাতের আদব

    বাসর রাত 

    আসসালামু আলাইকুম,প্রিয় নব্য বিবাহিত ভাই-আপুরা,কেমন আছেন আপনারা?আশা করি আপনারা ভালো আছেন।আমিও আল্লাহর কৃপায় ভালো আছি।নব্য বিবাহিত বন্ধুরা ইন্টারনেটের সহায়তাইয় বিভিন্ন দোয়া ও বাসের রাতের ফজিলত সম্পর্কে জানতে চান।আপনি বাসর রাত সম্পর্কিত সকল প্রশ্নের উত্তর আমরা আমাদের সাইটে দিয়ে রেখেছি।আপনি ইসলামি শরিয়ামোতাবেক বাসর রাতের আদব,বাসর রাতের নামাজের নিয়য় ও দোয়া পেয়ে যাবেন।আপনি আমাদের এই তথ্যগুলো ভালোভাবে পড়বেন।

    প্রিয় বন্ধুরা আজকে আমরা এই পোস্টে যা যা বিষয় নিয়ে আলোচনা করব তার একটি চার্ট নিচে দেওয়া হল;

    1. বাসর রাত
    2. বাসর রাতের নামাজের নিয়ত
    3. বাসর রাতের দোয়া
    4. বাসর ঘরের দোয়া
    5. রাতের আমল
    6. বাসর রাতের আদর্শ 
    7. বাসর রাতের আদব

    বাসর রাতের নামাজের নিয়ত

    আল্লাহ তাআলা প্রাপ্ত বয়স্ক সক্ষম ব্যক্তিদের উপর বিবাহকে ফরজ করেছেন। বিবাহ পরবর্তী সময়ে বাসর রাতে স্বামী-স্ত্রীর প্রথম সাক্ষাতে উভয়ে স্বামী তার স্ত্রীকে নিয়ে জামাআতের সহিত দুই রাকাআত নামাজ আদায় করা উত্তম। এ নামাজ পড়া মুস্তাহাব। নামাজের পর নব দম্পতি পরস্পরের জন্য দোয়া করবে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায় এ দোয়াটি তুলে ধরা হলো-

    উচ্চারণ:আল্লাহুম্মা বা-রিক লি ফি আহলি ওয়া বা-রিক লাহুম ফিইয়্যা, আল্লাহুম্মাঝ্‌মা’ বাইনানা মা জামা‘তা বিখাইরিন ওয়া ফাররিক্ব বাইনানা ইজা ফাররাক্বতা ইলা খাইরিন। (আদাবুয যিফাফ, মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক)

    অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমার জন্য আমার পরিবারে বরকত দান কর এবং তাদের স্বার্থে আমার মাঝে বরকত দাও। হে আল্লাহ! তুমি যা ভাল একত্রিত করেছ তা আমাদের মাঝে একত্রিত কর। আর যখন কল্যাণের দিকে বিচ্ছেদ কর তখন আমাদের মাঝে বিচ্ছেদ কর’।

    বাসর রাতের দোয়া

    বিয়ের পর নব দম্পতির প্রথম মধুময় সময়কে বাসর বলা হয়। এ সময়টিতে দুই জন নতুন মানুষ বৈধভাবে একে অপরের কাছাকাছি আসে। এ সময়ে উভয়ের জন্য রয়েছে কিছু করণীয়।

    এ সময়ে নব দম্পতির করণীয় সম্পর্কে অনেকেই অনেক বিষণ্নতা বা দ্বিধায় ভোগেন। এ সময়ের নানা বিষয় সম্পর্কে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। ইসলাম এ সমস্পর্কে সুন্দর ও উত্তম সমাধান দিয়েছে।

    বিয়ের পর নব দম্পতির করণীয়

    >> বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী প্রথম সাক্ষাতে দুই রাকাআত নাফল একসঙ্গে আগ-পিছ দাঁড়িয়ে আদায় করবে। নামাজ সম্পর্কে বিখ্যাত সাহাবি হজরত আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা-

    - হজরত আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘স্ত্রী স্বামীর কাছে গেলে স্বামী দাঁড়িয়ে যাবে এবং স্ত্রী তার পেছনে দাঁড়াবে। অতঃপর তারা একসঙ্গে দুই রাকাআত নামাজ আদায় করবে।যদি রাতের বেলা হয় নামাজের সময়টি তবে একটু উচ্চ স্বরে পড়বে কেরাত  আর যদি দিনের বেলা হয় তবে নিম্ন স্বরে পড়বে।

    - হজরত আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু আরও বর্ণনা করেন, ‘ভালবাসা ও সুসম্পর্ক আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়। আর ঘৃণা বা রাগ-গোস্বা হয় শয়তানের পক্ষ থেকে। কারণ সে আল্লাহর হালাল করা বিষয়ে (শয়তান) তোমাদের মাঝে ঘৃণা সৃষ্টি করতে চায়। সুতরাং তোমার স্ত্রী তোমার কাছে আসলে তাকে বল, সে যেন তোমার পেছনে দুই রাকাআত নামাজ আদায় করে।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক ও তাবারানি)

    বাসর ঘরের দোয়া

    - হজরত আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু আরও বর্ণনা করেন, ‘ভালবাসা ও সুসম্পর্ক আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়। আর ঘৃণা বা রাগ-গোস্বা হয় শয়তানের পক্ষ থেকে। কারণ সে আল্লাহর হালাল করা বিষয়ে (শয়তান) তোমাদের মাঝে ঘৃণা সৃষ্টি করতে চায়। সুতরাং তোমার স্ত্রী তোমার কাছে আসলে তাকে বল, সে যেন তোমার পেছনে দুই রাকাআত নামাজ আদায় করে।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক ও তাবারানি)

    নামাজের পর দোয়া

    নামাজের পর পরিবারের বরকত ও কল্যাণে উভয়ে এ দোয়া করা উচিৎ অথবা স্বামী দোয়া করবে এবং স্ত্রী আমিন আমিন বলবে-

     আল্লাহুম্মা বারিকলি ফি আহলি, ওয়া বারিক লাহুম ফিইয়্যা; আল্লাহুম্মাজমাঅ বাইনানা মা জামাতা বিখাইরিন ওয়া ওয়া ফাররিক বাইনানা ইজা ফাররাক্বতা ইলা খাইরিন।

    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনি আমার জন্য আমার পরিবারে বরকত দিন এবং আমার ভিতরেও বরকত দিন পরিবারের জন্য। হে আল্লাহ! আপনি আমার থেকে তাদেরকেও রিজিক দিন আর তাদের থেকে আমাকে রিজিক দিন।হে আল্লাহ! আপনি আমাদের যতদিন একত্রে রাখেন কল্যাণের সঙ্গেই একত্রে রাখুন। আর আমাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিলে কল্যাণের পথেই বিচ্ছেদ ঘটান।’(তাবারানি)

    রাতের আমল

    রাতের ইবাদত ও দোয়া আল্লাহর কাছে অনেক মর্যাদা ও সম্মানের। রাতের দোয়া ও ইবাদতে তাওহিদের সাক্ষ্য দিয়ে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করলে সে দোয়া আল্লাহ তাআলা ফেরত দেন না। বান্দার সব দোয়া আল্লাহ তাআলা কবুল করে নেন। হাদিসে এসেছে-

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ রাতে জেগে আল্লাহরকাছে দোয়া করে, আল্লাহ তাআলা তার দোয়া কবুল করেন। আর যদি ওই ব্যক্তি ওজু করে এবং নামাজ আদায় করে তবে সে নামাজও কবুল করা হয়।’ (বুখারি, মিশকাত)

    দোয়া হলোঃ-

    لا إلهَ إلاَّ اللَّه وحْدهُ لاَ شَرِيكَ لهُ، لَهُ المُلْكُ، ولَهُ الحمْدُ، وَهُو عَلَى كُلِّ شَيءٍ قَدِيرٌ - سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ للهِ، وَلَا إلَهَ إلّا اللهُ، وَاللهُ أكْبَر - وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إلَّا بِالل

    উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার; ওয়া লা হাওলা ওয়া লা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ।

    অনুবাদ : আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। তাঁর জন্যই সকল রাজত্ব ও তাঁর জন্যই সকল প্রশংসা এবং তিনিই সকল কিছুর উপরে ক্ষমতাশালী। মহা পবিত্র আল্লাহ। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। আল্লাহ সবার চেয়ে বড়। নেই কোন ক্ষমতা নেই কোন শক্তি আল্লাহ ব্যতীত’।

    অতপর বলবেঃ-

    ‘রাব্বিগফিরলি’ অর্থাৎ হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রাতে জেগে ওঠে এ দোয়ার মাধ্যমে প্রার্থনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

    বাসর রাতের আদর্শ 

    স্বামী যখন স্ত্রীর কাছে বাসর ঘরে প্রবেশ করবে তখন,স্ত্রীর সাথে সহানুভূতি ও ভালবাসা প্রকাশ করবে।অতপর নিচের দোয়া পাঠ করবেনঃ

    "আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা ওয়া খাইরা মা'জাবালতাহা আলাইহি ওয়াআউযুবিকা মিন শাররিহা ওয়া মিন শাররি মা জাবালতাহা আলাইহ"(আবু দাউদ ২১৬০,ইবনে মাজাহ ২২৫২)

    সহবাসের সময় নিম্নোক্ত দুআ পড়া সুন্নতঃ

    "বিসমিল্লাহ, আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শাইত্বনা ওয়া জান্নিবিশ শাইত্বানা মা রাযাক্বতানা" যদি এ সহবাসে সন্তান হয়,তাহলে শয়তান তার ক্ষতি করতে পারবে না।"(বুখারী ৬৩৮৮)

    নিচে বাসর রাতের করনীয় কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হল।বিস্তারিত জানতে, নাসিরুদ্দিন আলবানী (রহঃ) এর "আদাবুয যিফাফ বা বাসর রাতের আদর্শ" বইটি পড়তে পারেনঃ-

    • বাসর রাতে স্ত্রীর সাথে ভাল আচরন করাঃ-

    যখন কোন স্বামী নব্য বিবাহিতা কোন স্ত্রীর কাছে যায়,তখন তার জন্য মুস্তাহাব হচ্ছে স্ত্রীর সাথে ভালো আচরন করে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা।তার নিকট শরবত অথবা অন্য কিছু দেওয়া।

    আসমা বিনতে ইয়াযিদ বিন সাকান থেকে বর্নিত,

    তিনি বলেন"নিশ্চই আমি রাসুলুল্লাহর জন্য আয়েশাকে তেল মালিশ করে দিলাম।অতপর নবী(সাঃ) এর নিকট আসলাম।অতপর তাকে খোলা অবস্থায় দেখার জন্য তাকে ডাকলাম।কাজেই তিনি আসলেন এবং তার পাশে বসলেন।এরপর দুধের বড় পাত্র নিয়ে আসলে তিনি তা পান করলেন।অতপর তিঁনি তার দিকে অগ্রসর হলেন,অতপর তিনি মাথা নিচু করে অগ্রসর হলেন।আসমা বলেন, আমি তাকে ধমক দিলাম এবং বললাম:তুমি নবী(সাঃ) এর হাত থেকে গ্রহন কর।তারপর সে গ্রহন করল এবং কিছু পরিমান পান করল।এরপর নবী (সাঃ) তাকে উদ্দেশ্য করে বলল,আমি কি তোমার বান্ধবীকে দিব?আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল বরং আপনি তা গ্রহন করুন এবং পান করুন।অতপর আপনার হাত থেকে তা আমাকে দিন।তিনি তা গ্রহন করলেন,অতপর পান করলেন।তারপর আমার উরুদ্বয়ের উপর রাখলাম।অতপর আমি তাবে ঘুরাতে লাগলাম এবং অনুসন্ধান করতে লাগলাম,যেন নবী(সাঃ) এর পান করা পাই।অতপর নবী (সাঃ) আমার সাথে উপস্থিত নারীদের উদ্দেশ্য করে বললেন,তাদেরকে তুমি দাও,তারা বললেন,আমরা তা ইচ্ছা পোষন করি না।তারপর নবী (সাঃ) বললেন,তারা ক্ষুধা ও মিথ্যাকে একত্রিত করে না।"(মুসনাদে হুমাইদী ২/৬১,কিতাবুস সামত ২/২৬)

    বাসর রাতের আদব

    • স্বামী স্ত্রী উভয় একসাথে সালাত আদায় করাঃ-

    আর তারা এক সাথে সালাত আদায় করবে কেননা এটা সালাফ হতে বর্নিত, ‌মুস্তাহাব কাজ হল। 

    শাকীক বলেন,জনৈক ব্যক্তি আসলো তাকে আবু হুরাইয বলে সম্বোধন করা হতো,তারপর তিনি বলেন আমি একজন যুবতী কুমারী নারীকে বিবাহ করেছি।আর আমি আশংকা করছি সে আমাকে সন্তুষ্ট করতে পারবে না।তারপর আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন,নিশ্চই বন্ধুত্ব ও ভালবাসা আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং ক্রোধ অসন্তুষ্টি শয়তানের পক্ষ থেকে আসে।শয়তান ইচ্ছা করছে যে আল্লাহ যা তোমাদের জন্য জায়েয করেছেন,তা সে তোমাদের নিকট ঘৃনা সৃষ্টি করবে।কাজেই সে যখন তোমাদের নিকট আগমন করবে তখন তাকে জামাত সহকারে তোমার পেছনে দুরাকাত সালাত আদায়ের আদেশ করবে।

    অন্য এক বর্ননায় বৃদ্ধি আছে ইবনে মাসউদের ,তুমি বলঃ-

    "হে আল্লাহ! আমার জন্য আমার পরিবারে বরকত দান কর এবং তাদের স্বার্থে আমার মাঝে বরকত দিন।আপনি যা ভাল একত্রিত করেছেন,তা আমাদের একত্রিত করে দিন।এবং যখন কল্যানের দিকে বিচ্ছেদ করবেন তখন আমাদের মাঝে বিচ্ছেদ করুন।"( ত্বাবারানী ৩/২১/২)

    সুতরাং প্রত্যেক নব বিবাহিত দম্পতির উচিত, বাসর রাতের গুরুত্বপূর্ণ সময়কে আনন্দ-উৎসবের নামে অবহেলা ও অনর্থক কাজে ব্যয় না করে নামাজ ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নিকট কল্যাণ কামনা করা উচিত। আল্লাহ তাআলা উম্মাতে মুসলিমাকে বাসর রাতে উত্তম আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন

    tags:বাসর রাত, বাসর রাতের নামাজের নিয়ত, বাসর রাতের দোয়া, বাসর ঘরের দোয়া, রাতের আমল, বাসর রাতের আদর্শ , বাসর রাতের আদব